এসইও কি?: কিভাবে এসইও শিখবেন বাংলাতে বিস্তারিত?

5/5 - (2 votes)

এসইও কি ও কত প্রকার? কিভাবে এসইও শিখবেন?: একটি ওয়েবসাইটের কোনো পেজ বা কনটেন্টকে কোনো নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের ভিত্তিতে সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে প্রদর্শন করানোর জন্য যে কাজ করা হয়, তাকে এসইও বলে। এসইও বর্তমান সময়ের বহুল চর্চিত একটি শব্দ।

আমাদের এই লেখায় এসইও কি, এসইও কত প্রকার এবং এসইও শেখার উপায়সহ এসইও সম্পর্কিত সকল বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করা হবে। আশা করছি, এই আর্টিকেলটি আপনার এসইও বিষয়ক জ্ঞানকে আরো স্বচ্ছ করে তুলবে।

এসইও কি? SEO কত প্রকার?
এসইও কি? SEO কত প্রকার? কিভাবে এসইও শিখব?

আর্টিকেল সূচি

এসইও কি? (What is SEO?)

এসইও এর পুর্ণরুপ হলো Search Engine Optimization। উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সার্চ ইঞ্জিনগুলোর নির্দেশনা মেনে অনুসন্ধান এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজের ভিজিটর বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বলা হয়।

সহজ কথায় এসইও কি বলতে, মনে করুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে একটি “এসইও টিউটোরিয়াল” শীর্ষক আর্টিকেল প্রকাশ করলেন। আপনার ইচ্ছা, গুগলে যারা “এসইও টিউটোরিয়াল” লিখে সার্চ দিবে, তারা খুব সহজেই আপনার এই আর্টিকেলটি খুঁজে পাবে এবং আপনার ওয়েবসাইটে এসে লেখাটি পড়বে।

কিন্তু আর্টিকেল প্রকাশ করার পর দেখা গেল, গুগল থেকে কোনো ভিজিটরই আপনার এই লেখা পড়তে আসছে না। আপনি হতাশ হয়ে নিজেই গুগলে “এসইও টিউটোরিয়াল” লিখে সার্চ দিলেন এবং আবিষ্কার করলেন, আপনার লেখাটি সার্চ রেজাল্টের একদম শেষের দিকে প্রদর্শিত হচ্ছে।

ভিজিটররা সাধারণত এতো নিচে স্ক্রল করে না, তারা একদম উপরের প্রথম ২-৩ টা আর্টিকেল পড়েই যা জানার, জেনে নেয়।

এরপর খুব স্বাভাবিকভাবেই, আপনি জানার চেষ্টা করবেন, কি কি বিশেষ কাজ করলে গুগল আপনার আর্টিকেলটি সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে প্রদর্শন করবে।

বলাবাহুল্য, আর্টিকেল সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে প্রদর্শনের জন্য কৃত এই সমস্ত বিশেষ কাজগুলোকেই এসইও বলা হয়।

অবশ্যই পড়বেন: 

ওয়েবসাইটে কেন এসইও করব? (SEO Tutorial Bangla)

উপরের আলোচনাটুকু হতে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, SEO কি কোনো ওয়েবসাইট বা আর্টিকেলে অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধির জন্যই মূলত এসইও করা হয়ে থাকে। অর্গানিক ট্রাফিক বলতে বোঝায়, সার্চ ইঞ্জিনগুলো হতে আসা ভিজিটরদের।

তবে ঢালাওভাবে শুধুমাত্র ভিজিটর বৃদ্ধিই এসইও এর মূল উদ্দেশ্য নয়। টার্গেট করা সঠিক ভিজিটরদের কাছে পৌছানো এসইও এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

উদাহরণ হিসেবে, মনে করুন, আপনি একটি বিশেষ ফল “আম” নিয়ে আর্টিকেল লিখলেন।

যদি গুগল এই আর্টিকেলটিকে “পেয়ারা” বিষয়ক আর্টিকেল ভেবে বসে, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনি আপনার টার্গেট করা ভিজিটরদের হারাবেন। কারণ, যারা গুগলে “পেয়ারা” লিখে সার্চ দিবে, তারা তখন আপনার “আম” বিষয়ক আর্টিকেলটি পাবে এবং এটা তাদের কোনো কাজে লাগবে না।

তাই এসইও এর মাধ্যমে গুগলকে সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে হয়, কোন আর্টিকেলটি আসলে কিসের আর্টিকেল। আর তা না করতে পারলে, এসইও এর মূল উদ্দেশ্য আদৌ পূরণ হয়না।

সার্চ ইঞ্জিন কি? সার্চ ইঞ্জিনগুলো কিভাবে কাজ করে?

এসইও এবং সার্চ ইঞ্জিন একই সূত্রে গাঁথা। এসইও এর বিস্তারিত জানার আগে প্রথমেই সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।

সার্চ ইঞ্জিন (Search Engine) কি?

সার্চ ইঞ্জিন মূলত একটি ওয়েব অনুসন্ধান ইঞ্জিন বা সফট্‌ওয়্যার প্রোগ্রাম যা তথ্য জমা করে এবং প্রয়োজনের সময় সেই তথ্য প্রদান করে।

সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে?

সার্চ ইঞ্জিনের প্রকৃত সংজ্ঞা যা-ই হোক না কেন, আমরা সবাই এটা ঠিকই জানি যে, এসব ওয়েবসাইটে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এমনকি গুগল, ইয়াহু কিংবা বিং এর মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোর ওয়েবসাইটে শুধু লিখেই নয় বরং কথার বলার মাধ্যমেও সার্চ করা যায়!

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব ওয়েবসাইট কাজ করে কিভাবে? কিভাবে এতো এতো তথ্য তারা অতি অল্প সময়ে সরবরাহ করতে পারে?

গুগল এবং ইয়াহুর মতো সকল সার্চ ইঞ্জিনের বিশেষ এক ধরণের রোবট সফটওয়্যার রয়েছে, যেগুলো পুরো ইন্টারনেট ব্যাপী তথ্য খুঁজে বেড়ায়।

যে বিশেষ সফটওয়্যার এই কাজটি সম্পাদন করে, তাদের বলা হয় স্পাইডার এবং তথ্য খুঁজে বের করার এই প্রক্রিয়াকে ক্রাউলিং বলে।

এরপর সার্চ ইঞ্জিনের স্পাইডারগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট হতে ক্রাউলিং করা তথ্য সম্পূর্ণ হুবুহুভাবে কপি করে সার্চ ইঞ্জিনের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে৷ তথ্য সংরক্ষণ করার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইন্ডেক্স।

কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে ইনডেক্স হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো বিষয়ভিত্তিকভাবে সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এরপর কেউ ওই তথ্যের সাথে সম্পর্কিত কিছু লিখে গুগল বা ইয়াহুতে সার্চ দিলে সার্চ রেজাল্টে ঐ তথ্য সম্বলিত আর্টিকেলের লিংক চলে আসে।

বলে রাখা ভালো, কোন আর্টিকেলটি সার্চ রেজাল্টের কোন পজিশনে দেখানো হবে, সেটা নির্ধারণ করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো বিশেষ এক ধরণের অটোমেটিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে।

সার্চ ইঞ্জিনগুলো প্রতিনিয়তই তাদের এসব অ্যালগরিদম পরিবর্তন পরিমার্জনে ব্যস্ত থাকে। এই অ্যালগরিদমের বেসিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য এসইও নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করতে হয়।

আর আপনার জন্য: 

সার্চ ইঞ্জিন Algorithm কি?

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, সার্চ ইঞ্জিন Algorithm হলো Search Query’s এর জন্য ধারাবহিকভাবে ভালো ফলাফল পাওয়ার সূচিবদ্ধ একটি গাণিতিক ক্যালকুলেশন।

সহজ ভাষায়, সার্চ ইঞ্জিন Algorithm হলো অনেকটা সার্চ ইঞ্জিন কর্তৃক নির্দিষ্ট করে দেওয়া শর্তের মতো। ইন্ডেক্স হওয়া যেসব কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনের যত বেশি শর্ত মেনে প্রকাশ করা হবে, সেই কনটেন্ট তত বেশি নাম্বার পাবে। আর এই নাম্বারের উপর নির্ভর করবে সার্চ রেজাল্টে প্রকাশ হওয়া সিরিয়ালে সেই কনটেন্টের অবস্থান।

এসইও টিউটোরিয়াল
সার্চ ইঞ্জিন অ্যালগরিদম

এই ব্যাপারটি অনেকটাই আমাদের স্কুল কলেজের পরীক্ষার মার্কশিটের মতো৷ ভিন্নতা হলো, সার্চ ইঞ্জিনের Algorithm প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করা হয়। এজন্য, একেক সময় একেকটি আর্টিকেল সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে উঠে আসে।

এসইও কত প্রকার ও কি কি?

এসইও মূলত তিন প্রকার। সেগুলো হলো, অন পেজ এসইও, অফ পেজ এসইও এবং টেকনিক্যাল এসইও। এই তিনপ্রকার এসইও – ই একটি ওয়েবসাইটের জন্য প্রায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন পেজ এসইও কি? (What is On Page SEO)

অন পেজ এসইও যেকোনো ওয়েবসাইটের কনটেন্টের সাথে সরাসরিভাবে সম্পর্কিত হয়ে থাকে।

যেকোনো ওয়েবসাইটের প্রতিটি পোস্ট এবং পেজে আলাদা আলাদাভাবে অন পেজ এসইও করতে হয়। এই ধরণের এসইও এর মূল উদ্দেশ্যই থাকে সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পেজের মূল টপিক সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা তথ্যবহুল, সেটা প্রমাণ করা।

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে সম্মিলিতভাবে অন পেজ এসইও বলা হয়।

আপনার জন্য পোস্ট: অন পেজ এসইও কি? On-Page SEO করার গাইডলাইন

কিওয়ার্ড রিসার্চ: কোনো কনটেন্ট লিখার সময় কি কি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ আর্টিকেলে ব্যবহার করলে গুগল থেকে বেশি ভিজিটর পাওয়া যাবে, তা খুঁজে বের করার জন্য যে রিসার্চ করা হয়, তাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ বলে। যেকোনো টপিকে আর্টিকেল লেখার বিষয়ে মনস্থির করার পর কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমেই কনটেন্ট রাইটিং শুরু করতে হয়।

পেজ স্ট্যাকচার: ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লেখা এবং সাধারণ কোনো গল্প লেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য তৈরী করে পেজ স্ট্যাকচার। ওয়েব কনটেন্টের পেজ স্ট্যাকচারের একটি বিশেষ ধরণ এবং নিয়ম কানুন রয়েছে।

কনটেন্ট কোয়ালিটি: কোনো কনটেন্ট লিখার সময় ঠিক কিভাবে লিখলে গুগলের কাছে সেটা বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, সেসব এই সেক্টরের মূল আলোচ্য বিষয়৷ হেডিং থেকে শুরু করে কিওয়ার্ড বসানো, বিভিন্ন প্যারা, ছবি যুক্তকরণ ইত্যাদী বিষয়গুলোর উপর কনটেন্ট কোয়ালিটি নির্ভর করে।

এগুলো ছাড়াও আনুষঙ্গিক অনেকগুলো বিষয় অন পেজ এসইও এর সঙ্গে জড়িত। খুব শিগ্রই এই ওয়েবসাইটে অন পেজ এসইও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাসমৃদ্ধ লেখা প্রকাশ করা হবে।

অফ পেজ এসইও কি? ( What is Off-Page SEO)

অফ পেজ এসইও অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে আমাদের ওয়েবসাইটের সম্পর্ক তৈরী করে এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে বিশ্বস্ত অথরিটি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।

ভেবে দেখুন, আমাদের বাসায় হুট করে অপরিচিত কেউ চলে এলে সে যতই মিষ্টি ভাষায় কথা বলুক না কেন, আমরা তাকে বিশ্বাস করিনা। অথচ আমাদের পূর্বপরিচিত আস্থাভাজন ব্যক্তি যদি নতুন কারো সাথে আমাদের পরিচিয় করিয়ে দেয়, তবে তাকে ঠিকই আমরা আপ্যায়ন করি।

সার্চ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়ে থাকে। নতুন উদয় হওয়া কোনো ওয়েবসাইটকেই গুগল সহজে বিশ্বাস করতে পারে না। তাই প্রথম অবস্থায় সেগুলো থেকে যত ভালো কনটেন্টই প্রকাশ করা হোক না কেন, সেগুলোকে সার্চ রেজাল্টের শুরুর দিকে রাখা হয় না।

নতুন যেকোনো ওয়েবসাইটের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুগল সেই ওয়েবসাইটকে বিশ্বস্ত ভাবতে শুরু করে। কিন্তু এটা অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

এই সময়সাপেক্ষ কাজটিকে অল্প সময়ে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন হয় অফ পেজ এসইও এর। সঠিকভাবে অফ পেজ এসইও করতে পারলে, সার্চ ইঞ্জিনগুলো খুবই দ্রুত যেকোনো ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করিয়ে দেয়।

খুব শীঘ্রই এই ওয়েবসাইটে অফ পেজ এসইও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাসমৃদ্ধ আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে।

টেকনিক্যাল এসইও কি? (What is Technical SEO)

যেকোনো ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বাদে বাকি সকল প্রাথমিক ব্যাপারগুলোকে সার্চইঞ্জিনের শর্ত অনুযায়ী সাজিয়ে তোলাকে টেকনিক্যাল এসইও (Technical SEO) বলা হয়।

একটি ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ গঠনকে কাস্টমাইজ করে যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন এবং ভিজিটরের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং আকর্ষণীয় করাই টেকনিক্যাল এসইও এর মূল উদ্দেশ্য।

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে সম্মিলিতভাবে টেকনিক্যাল এসইও বলা হয়।

ওয়েবসাইটের গঠন ও ডিজাইন: একটি ওয়েবসাইটের সুন্দর গঠন এবং চমৎকার ডিজাইন এসইও এর ক্ষেত্রে খুবই গভীর প্রভাব ফেলে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো ছিমছাম হালকা টাইপের থিম অনেক বেশি পছন্দ করে।

পেজ লোডিং স্পীড: পরীক্ষা করে দেখুন, যেকোনো কিওয়ার্ডের সার্চ রেজাল্টে শুরুর দিকে অবস্থান দখল করে নেওয়া কোনো ওয়েবসাইটের স্পীডই কম নয়। মূলত, ধীর গতিতে লোড নেওয়া ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনগুলো একদমই পছন্দ করে। একটি ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড বাড়ানো টেকনিক্যাল এসইও এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্ট।

Mobile Friendliness : একটি ওয়েবসাইট কম্পিউটারে ঠিকঠাক দেখালেও, ডিজাইনের কোনো ত্রুটি থাকলে মোবাইল থেকে ঠিকমতো নাও দেখা যেতে পারে। যেহেতু, এখনকার সময়ে বিশ্বের ৭০% মানুষই মোবাইল ব্যবহার করে ওয়েব ব্রাউজ করে, তাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি থিম ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরী।

Sitemap & Robot txt ফাইল আপলোড : সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইট যুক্ত করার সময় এই বিষয়ক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।

SSL সার্টিফিকেট : এটি ওয়েবসাইটকে নিরাপদ এবং বিশ্বস্ত প্রমাণ করার জন্য এসএসএল সার্টিফিকেটের কোনো বিকল্প নেই।

এছাড়াও, Fixed Broken লিংক, Crawl ত্রুটি মুক্ত রাখা, URL স্ট্রাকচার, স্ট্রাকচার্ড ডেটা, ক্যানোনিকাল ট্যাগ, ৪০৪ পেজ এরর মুক্ত রাখা এবং ৩০১ রিডাইরেক্টসহ ইত্যাদী বিষয়গুলো সম্পর্কে টেকনিক্যাল এসইও বিভাগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আপনার জন্যটেকনিক্যাল এসইও কি? টেকনিক্যাল এসইও করার গাইডলাইন

White Hat SEO ও Black Hat SEO কি?

White Hat SEO ও Black Hat SEO মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ভিন্ন দুইটি প্রকারের নাম। সার্চ ইঞ্জিনগুলোর নিয়মকানুন ও শর্তসমূহ ভঙ্গ না করে কৌশলের মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে তুলে আনাকে White Hat SEO বলা হয়।

অন্যদিকে, সার্চ ইঞ্জিনগুলোর নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে শর্ত ভেঙ্গে অবৈধ উপায়ে কোনো ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকে তুলে আনার চেষ্টাকে বলা হয় Black Hat SEO।

উদাহরণ হিসেবে, যদি আপনি কোনো ব্লগের একটি আর্টিকেলকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানোর জন্য পেজ স্ট্যাকচার মেনে সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে লেখা কমপ্লিট করেন এবং প্রকাশের পর ভালো ওয়েবসাইট হতে ব্যাকলিংক নেন, তবে এটাকে বলা হবে White Hat SEO ।

কিন্তু আগে অনেকেই এমনটা করত না। তারা লেখার ভেতর ব্যাকগ্রাউন্ড কালারের সাথে মিলিয়ে অনেক কিওয়ার্ড লেখার ফাঁকে দিয়ে রাখত। পাশাপাশি, সাইটের লিংক দিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কমেন্ট সেকশনে মারাত্বক লেভেলের স্প্যামিং করতো। এটা ছিল Black Hat SEO।

Black Hat SEO করে আগে অনেকেই সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে ভালো পজিশন পেয়েছিল। এখন আর তাদের ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায় না। কেননা, বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিনগুলো অনেক বেশি স্মার্ট হয়ে গেছে। র‌্যাংকিং নির্ধারনের ক্ষেত্রে সেগুলো এখন উন্নত মানের আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AI) টেকনোলজি ব্যবহার করছে। তাই, এই যুগে Black Hat এসইও ব্যবহার করে ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানো প্রায় অসম্ভব।

গ্রে হ্যাট এসইও কি? (Grey Hat SEO)

হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্যাক হ্যাট এসইও এর সমন্বিত রূপ হলো গ্রে হ্যাট এসইও। মূলত, হোয়াইট হ্যাট এসইও কে সর্বোচ্চ মাত্রা পর্যন্ত ব্যবহার করে গ্রে হ্যাট এসইও করা হয়ে থাকে। এ ধরণের এসইও পুরোপুরি হোয়াইট হ্যাট এসইও এর মধ্যেও পরে না, আবার একে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ও বলা যায় না।

প্রকৃতপক্ষে, গ্রে হ্যাট এসইও হলো হোয়াইট হ্যাট এসইও এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও — এই দুই প্রকার এসইও এর মধ্যবর্তী অবস্থানে ভারসাম্য বজায় রেখে থাকা এসইও এর বিশেষ একটি রূপ।

উদাহরণস্বরুপ, লেখার মধ্যে ফোকাস কিওয়ার্ডের ব্যবহার হোয়াইট এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু হাজার শব্দে ২০ বারের বেশি ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করলে তা গুগলের কিওয়ার্ড ডেনসিটি রুলস ব্রেক করে।

এজন্য অনেকে তাদের লেখার ভেতর ১২-১৪ বার ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করে, যা হোয়াইট হ্যাট এসইও এর মধ্যেও পরে না, আবার ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর মধ্যেও পরে না।

গ্রে হ্যাট এসইও ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্যই হলো অতি স্বল্প সময়ে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডে সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে র‍্যাংক করা। যদিও, সার্চ ইঞ্জিনগুলো ধিরে ধিরে গ্রে হ্যাট এসইও এর বিরুদ্ধেও সোচ্চার হচ্ছে, কিন্তু অনেকেই এর মাধ্যমে গুগলে ভালো অবস্থান অধিকার করে নিয়েছে।

দেখতে পারেন: 

লোকাল এসইও (Local SEO) কি?

এসইও এর বিশেষ একটি প্রকারের নাম হলো লোকাল এসইও। লোকাল এসইও এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Local Search Engine Optimization।

উইকিপিডিয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে এসইও এর মাধ্যমে কোনো ওয়েব পেজকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভিজিটর বা কাস্টমারকে টার্গেট করে সার্চ ইঞ্জিনগুলোর সার্চ রেজাল্টে ভালো পজিশনে আনার জন্য অপ্টিমাইজ করা হয়, তাকে লোকাল এসইও বলে।

সহজ কথায়, সাধারণভাবে এসইও করলে আপনার ওয়েবপেজটি পুরো বিশ্বের সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শন করা হবে। কিন্তু, লোকাল এসইও করা হলে, আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজকে পুরো পৃথিবীর জন্য তো বটেই, একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে।

উদাহরণ হিসেব, মনে করুন, আপনার রাজশাহীতে একটি ঔষধের দোকান আছে। সেই দোকানের প্রচার প্রচারনার জন্য আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরী করলেন। সাধারণভাবে এসইও করা হলে, সারা বিশ্বের মানুষ “ঔষদের দোকান” লিখে সার্চ করলেই আপনার সাইটটি খুঁজে পাবে।

কিন্তু, যেহেতু আপনার দোকানটি রাজশাহীতে, তাই ঢাকার কেউ একজন গুগলে সার্চ দিয়ে কোনোভাবে আপনার দোকান খুঁজে পেয়ে গেলেও, এতে কাহুরই কোনো লাভ হবে না। সে নিশ্চয়ই ঢাকা থেকে রাজশাহী আসবে না আপনার পণ্য কিনতে। অর্থাৎ, দোকান রাজশাহীতে হওয়ায় আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সও রাজশাহীর মানুষ।

এরকম অবস্থায়, অনেকেই এমন কিছু করতে চায় যে, অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরা তাদের ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাক বা না পাক, রাজশাহীর মানুষ যেন গুগলে ঐষধের দোকান লিখে সার্চ করলে ওয়েবসাইটটি সার্চ লিস্টের একদম শীর্ষস্থানে পেয়ে যায়।

এমতাবস্থায়, তাদেরকে এসইও এর বিশেষ রূপ লোকাল এসইও প্রয়োগ করতে হয়। লোকাল এসইও এর বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে খুব সহজেই টার্গেট করা লোকেশন হতে ভিজিটর পাওয়া যায়।

কারণ, আপনি যদি সাধারণভাবে এসইও করেন, তবে আপনার প্রতিদ্বন্দী হবে ওই কিওয়ার্ডযুক্ত সারা বিশ্বের সকল ওয়েবসাইট। অন্যদিকে, যদি নির্দিষ্ট এলাকাকে টার্গেট করে আপনি এসইও করেন, তবে আপনার মূল প্রতিযোগিতা হবে ঐ নির্দিষ্ট এলাকাকে টার্গেট করে বানানো অন্যান্য ওয়েবপেজগুলো। অর্থাৎ, প্রতিযোগিতা অনেক কমে আসবে।

এজন্যই মূলত এসইও এক্সপার্টরা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লোকাল এসইও এর দিকে বিশেষভাবে ফোকাস রাখার চেষ্টা করেন।

কিভাবে এসইও শিখব?

পুর্ণাঙ্গভাবে এসইও শেখার অনেক উপায় রয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন – উভয় ক্ষেত্রেই ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলাতেও এসইও সম্পর্কিত নানা ফ্রি এবং পেইড কোর্স চালু আছে এখন।

তবে, আমি খেয়াল করেছি, এসব কোর্সগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো এবং আপডেট করা হয় না৷ সার্চ ইঞ্জিনগুলোর অ্যালগরিদমের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে আগানোর সুযোগ না থাকলে এসব কোর্সে ভর্তি হওয়া আসলে সময় ও অর্থ নষ্ট ছাড়া আর কিছু নয়। তাই যেকোনো পেইড কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে জেনেশুনে ভর্তি হওয়া উচিৎ।

আপনি যদি ইংরেজীতে ভালো হয়ে থাকেন, তবে ফ্রি এবং পেইড – উভয় ধরণের প্রচুর কোর্স অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। এক্ষেত্রে ফ্রির মধ্যে MoZ এর ফ্রি বেসিক কোর্স নতুনদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে।

ইংরেজী ভাষার আরো কিছু জনপ্রিয় এসইও কোর্সের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো।

বাংলাতে এসইও এর উপর ফ্রিতে সাজানো কোর্স খুব কম। পেইডের ভেতর শামীম স্যারের কোর্স অত্যন্ত আলোচিত এবং সমালোচিত(!)।

শামীম স্যারের কোর্সের ভালো দিকটি হলো, ওনার প্রিমিয়াম এসইও কোর্সটি অন্যান্য সাধারণ কোর্সের মতো সিডি ডিস্ক আকারে দেয়া হয় না। বরং কোর্সটি একবার কিনে নিলে আপনি তার এসইও রিলেটেড ফোরামে লাইফটাইমের জন্য প্রবেশাধিকার পেয়ে যাবেন।

পাশাপাশি, এই কোর্সে শামীম স্যার প্রতিনিয়ত আপডেটেড এসইও টিউটোরিয়াল প্রকার করেন। তাই ক্রমপরিবর্তনশীল এসইও ইন্ডাস্ট্রির খুঁটিনাটি সব খবর আপনি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।

তাছাড়া, আপনি জেনে খুশি হবেন যে, এই ওয়েবসাইটে এসইও এর বেশ কিছু স্থায়ী অ্যালগরিদম ও নিয়ম কানুন নিয়ে আমরা সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করব। এসইও সম্পর্কিত আর্টিকেলগুলো পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন Onlineincomebd.net ওয়েবসাইটে।

আপনার দ্বারা কি এসইও শেখা সম্ভব?

এসইও খুবই ইন্টারেস্টিং একটি বিষয়। বিশ্বাস করুন, আপনার যদি চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা থাকে, তবে একবার এসইও শেখা শুরু করে দিলে হতাশ হতে হবে না।

কেননা, এসইও এর প্রতিটি ধাপে নতুন শিক্ষা লুকিয়ে থাকে। আপনার প্রতিটি কাজের জন্য গুগল কি রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটা যাচাই করার মাঝে অন্য রকম আনন্দ খুঁজে পাবেন।

ধৈর্য ধরে ঠিকমতো অন পেজ এসইও এবং অফ পেজ এসইও করে ফেলার পর কোনো ওয়েবসাইটের একেকটা কনটেন্ট যখন একেক সময় গুগলে র‍্যাংক করে, কত যে ভালো লাগে, বোঝানো মুশকিল।

বলে রাখা ভালো, এসইও শেখার জন্য আপনার একটি কম্পিউটার অথবা স্মার্টফোন ব্যতীত কোনো বাড়তি জিনিসের প্রয়োজন নেই। শেখার পর সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করার জন্য গুগল দ্বারা পরিচালিত প্লাটফর্ম ব্লগার বেছে নিতে পারেন, যা সম্পূর্ণ ফ্রি!

অর্থাৎ, এসইও শেখা এবং প্র্যাকটিক্যালি প্রয়োগের জন্য আহামরি পরিমাণ অর্থ খরচ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

এসইও শিখে আয় করব কিভাবে?

বর্তমানে, এসইও শিখে আয় করার প্রচুর পথ তৈরী হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটার সাথে সাথে আয়ের পথ বাড়বে বৈ কমবে না।

মনে রাখবেন, একজন এসইও এক্সপার্ট কখনো ফাঁকা বসে থাকে না। কখনো নিজের ওয়েবসাইট কিংবা কখনো অন্যের সাইটে নগদ অর্থের বিনিময়ে কাজ করার মাধ্যমে সে চাইলেই ব্যস্ত সময় কাটাতে পারে।

এখানে এসইও শিখে আয় করার কয়েকটি রাস্তা উল্লেখ করা হলো।

গুগল অ্যাডসেন্স

ব্লগারদের অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে প্রিয় জায়গাগুলোর একটি হলো গুগল এ্যাডসেন্স। যেহেতু, একজন এসইও এক্সপার্ট একটি ব্লগের এসইও এর বিষয়ে অত্যন্ত পটু, তাই সে তার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাইলেই গুগলে সার্চ লিস্টের প্রথম পেজে নিজের ব্লগকে নিয়ে আসতে পারবে।

এর মাধ্যমে খুব সহজেই হাজার হাজার অর্গানিক ভিজিটরের কাছে সে পৌছে যেতে পারে এবং অর্থ উপার্জন করতে পারে সরাসরি গুগল হতে।

এই সেক্টরের সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, কারো মুখাপেক্ষী না হয়েই নিজের শ্রম এবং দক্ষতাকে পুঁজি করে আনলিমিটেড ইনকাম করা যায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

যেহেতু একজন এসইও এক্সপার্ট তার ব্লগকে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে সার্চ লিস্টের প্রথম দিকে নিয়ে আসতে সক্ষম, তাই স্বাভাবিকভাবেই তার ব্লগে প্রচুর ভিজিটর থাকবে। এসব ভিজিটরের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রোমোট করে সে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবে।

বর্তমান বিশ্বের লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার এই দিকে ঝুঁকেছে। গুগল এ্যাডসেন্স হতে এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হতে মুনাফা প্রাপ্তির হার অনেক বেশি।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস

বর্তমানে অনলাইনে প্রচুর ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রকারের কাজ খুব সহজেই পাওয়া পায়। এসব সাইটে এসইও এক্সপার্টদের রয়েছে বিশেষ চাহিদা।

কেননা, যেকোনো ওয়েবসাইট অথবা ব্লগের জন্য একজন এসইও এক্সপার্ট অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু এমন অনেক ব্লগ আছে, যেগুলোর এ্যাডমিনরা এসইও এর ক-খ ও জানে না। এজন্য তারা এসব ওয়েবসাইটে তাদের বাজেট অনুযায়ী এসইও এক্সপার্টের খোঁজ করে থাকে।

নিজস্ব পণ্য অথবা সেবা বিক্রয়

একজন এসইও এক্সপার্ট তার নিজস্ব পণ্যে মানসম্মত এসইও করে তা গুগলে র‍্যাংক করানোর মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে নিতে পারেন। এছাড়াও, ভালোভাবে এসইও শিখে নিয়ে এসইও এর উপর অনেকে নিজেই কোর্স করানো শুরু করছেন।

আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন, বাংলা ভাষায় এসইও এর উপর এমন অনেক কোর্স রয়েছে, যেগুলোর ফি ৫ হাজারের বেশি, কিন্তু তারপরও প্রচুর মানুষ সেসব কোর্স কিনে এসইও শিখছে। দিন দিন এসব অনলাইন কোর্সের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে।

করোনার এই মৌসুমে দীর্ঘ প্রায় ১ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের নতুম প্রজন্মও অনলাইন কোর্সের সাথে মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই, বাংলা এসইও এর অনলাইন কোর্স করিয়ে টাকা ইনকাম মোটেও খারাপ আইডিয়া নয়।

চুক্তিভিত্তিক কাজ বা এসইও শিখে অনলাইন জব

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্লগ ও ডিজিটাল মার্কেটিং কে কেন্দ্র করে ছোট বড় বহু প্রতিষ্ঠান মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এসইও এক্সপার্ট থাকাটা অপরিহার্য। তাই, এসইও শিখে নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ফুল টাইম অথবা পার্ট টাইমের অনলাইন জবও পাওয়া যেতে পারে।

মার্কেটপ্লেসে এসইও এর চাহিদা কেমন?

লোকাল কিংবা ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম– উভয় মার্কেটপ্লেসেই বর্তমান সময়ে এসইও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আপনি জেনে অবাক হবেন, ফেসবুকে এমন অনেক গ্রুপ আছে, যেগুলো তৈরীই হয়েছে শুধুমাত্র এসইও এক্সপার্ট ও ক্লায়েন্টদের মাঝে সম্পর্কে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। এসব ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অদক্ষ এ্যাডমিনরা তাদের সাইটের জন্য এসইও এক্সপার্ট চেয়ে পোস্ট করে।

এছাড়াও, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও এসইও এক্সপার্টদের দাম খুব বেশি। শুধুমাত্র আপওয়ার্কেই এসইও এক্সপার্টরা তাদের কাজের জন্য ঘন্টাপ্রতি গড়ে ৪০ ডলারের বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকে।

সুতরাং, শুধুমাত্র নিজের ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংকে নিয়ে আনার জন্যেই নয়, বরঙ এসইও শিখে অন্যদের ওয়েবসাইটে কাজ করেও অনলাইনে টাকা ইনকাম করার প্রচুর রাস্তা খোলা রয়েছে।

এসইও সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা

এসইও সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণার কোনো কমতি নেই। কিছু ধুর্ত মার্কেটার এসব ভুল ধারণাকে পুঁজি করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। না জানার কারণে বেশিরভাগ মানুষই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এসব ভুলের চক্করে।

অনেকেই মনে করে, এসইও মানেই কিওয়ার্ডের কারসাঁজি। তাদের ধারণা, যে কিওয়ার্ডে র‍্যাংক করতে চাও, সেটি বার বার লেখার মাঝে পুণরাবৃত্তি করলেই পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল!

এটা পুরোপুরো গুজব। শুধুমাত্র কিওয়ার্ড কখনোই এসইও এর সামগ্রিক ভাব বহন করে না। এসইও এর অনেকগুলো ফ্যাক্টরের মাঝে এটা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মাত্র।

এছাড়াও, অনেকে ব্যাকলিংককে অতিরিক্ত প্রায়োরিটি দিয়ে ফেলে। চোখ কান বুঁজে যেখান সেখান থেকে লিংক নেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন বুকমার্কিং সাইটে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ব্যাকলিংক কিনেও নেয়।

অথচ এসব ব্যাকলিংক কোনো কাজেই আসে না। হিতে বিপরীত হয়ে কখনো কখনো সাধের ওয়েবসাইটই গুগলের পেনাল্টি খেয়ে চুপসে যায়।

ইউটিউবে ঘাটাঘাটি করলেই দেখতে পাবেন অনেক ইউটিউবার দাবী করছে, মাত্র ৩০ মিনিটে শিখিয়ে দেবে গুগলে র‍্যাংক করার চমৎকার টিপস! এসব ভিউ বাড়ানোর ধান্দা ছাড়া আর কি হতে পারে!

মূলকথা হলো, এসইও একদিনে বসে শিখে ফেলার মতো কোনো টপিক নয়। এটি শিখতে এবং প্রয়োগ করতে প্রচুর সময় লাগে। এই প্রচুর সময়টা কারো ক্ষেত্রে হতে পারে কয়েক মাস, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েক বছর!

এসইও বিষয়ক প্রশ্ন উত্তর

এসইও করা না জানলে কি কোনো ভাবেই গুগলে র‍্যাংক করা যাবে না?

জ্বি না। গুগলে জায়গা করে নিতে হলে এসইও এর অন্তত বেসিকটা আপনাকে জানতেই হবে। এসইও সম্পর্কে ধারণা না রেখেও যদি কোনো আর্টিকেল গুগলে র‍্যাংকিং এ চলে আসে, তবে বুঝবেন, আপনি নিজের অজান্তেই ঐ আর্টিকেলে এসইও এর কিছু অন্তত ফ্যাক্ট ব্যবহার করেছিলেন।

বড় বড় নিউজপেপার ওয়েবসাইট তো এসইও মেনে কনটেন্ট লেখে না। তাহলে তাদের লেখা গুগলে র‍্যাংক করে কেন?

তাদের অথরিটি বা বিশ্বস্ততার জন্য। এই অথরিটি বা বিশ্বাস্ততাও এসইও এর অংশ। বলে রাখা ভালো, প্রতিষ্ঠিত নিউজপেপার সাইটগুলো প্রচুর পরিমাণে ব্যাকলিংক পায়। ব্যাংকলিংক অফ পেজ এসইও এর অংশ। তাদের অন পেজ এসইও এর অভাব অফ পেজ এসইও দিয়ে পূরণ হয়ে যায়।

অন পেজ এসইও কে এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা হয় কেন?

অন পেজ এসইও কে এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলা হয়, কারণ সার্চ ইঞ্জিনগুলোর কাছে কনটেন্টটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বলা হয়ে থাকে, “Content is the king!” । যদি ঠিকমতো অন পেজ করা কোনো কনটেন্টের অফ পেজ এসইও নাও থাকে, তবুও সেটা আজ না হোক কাল, গুগলে র‍্যাংক করবেই করবে।

এসইও না শিখে ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র এসইও প্লাগইন ব্যবহার করলেই কি চলবে?

এসইও প্লাগইনগুলোর নির্দেশনা মেনে চললে ভালো ফল পাবেন। কিন্তু অসাধারণ কিছু করার জন্য এসইও শেখা অত্যন্ত জরুরী।

সার্চ ইঞ্জিনগুলো উন্নত হওয়ার সাথে সাথে এসইও এর চাহিদা কি ভবিষ্যতে কমে যেতে পারে?

না, একদমই না। সার্চ ইঞ্জিনগুলো যত বেশি স্মার্ট হবে, এসইও এর কৌশলগুলো ততই স্মার্ট হতে থাকবে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে এসইও এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি।

এসইও শিখতে কত সময় লাগতে পারে?

থিওরিটিক্যালি এসইও শেখার জন্য খুব বেশি হলে ২-৩ সপ্তাহ লাগবে। কিন্তু শেখার পর তা প্রয়োগ করতে কয়েক মাস কিংবা বছর লেগে যেতে পারে।

আমাদের শেষ কথা,

বর্তমান মার্কেটে এমন বহু ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যারা শুধুমাত্র এসইও ভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অন্যদের সেবা দিয়ে আসছেন এবং উপার্জন করে নিচ্ছেন হাজার হাজার ডলার। তাহলে বলুন, আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন?

পুরো লেখাটিতে এসইও কি এবং এসইও সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটাকে আমাদের ওয়েবসাইটের প্রথম এসইও টিউটোরিয়াল বললেও ভুল বলা হবে না। খুব দ্রুত আমরা আরো Bangla SEO Tutorial প্রকাশ করব। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

6 thoughts on “এসইও কি?: কিভাবে এসইও শিখবেন বাংলাতে বিস্তারিত?”

  1. এই পোস্টটি পড়ে খুবই ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করে দেবো

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top