অনলাইন মার্কেটিং কি?: কিভাবে অনলাইন মার্কেটিং করবেন?

অনলাইন মার্কেটিং বর্তমানে বহুল চর্চিত এবং আলোচিত একটি বিষয়। বিশ্বের বড় বড় সমস্ত কোম্পানি অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে তাদের পণ্যের প্রচারণার জন্য। 

অনলাইন মার্কেটিং তুলনামূলকভাবে একটি নতুন বিষয়। কারণ এটি এসেছে যখন কাজকর্ম অনলাইনে বা ইন্টারনেটের সাহায্যে করা শুরু হয়েছে। 

যেহেতু এটি তুলনামূলকভাবে একটি নতুন বিষয় তাই অনলাইন মার্কেটিং নিয়ে এখনও অনেকের মাঝে অনেক ধরনের ভুল ধারণা বিরাজ করে। আমরা আজকে এই ভুল ধারণাগুলো ভাঙানোর চেষ্টা করব। 

আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় থাকবে অনলাইন মার্কেটিং কি? অনলাইন মার্কেটিং কিভাবে করবেন? এর পাশাপাশি আমরা মার্কেটিং এর প্রাথমিক ধারণা, অনলাইন মার্কেটিং ও অফলাইনের মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করব।

এর পাশাপাশি আমরা অনলাইন মার্কেটিং এর সুবিধা এবং অনলাইন মার্কেটিং এর গুরুত্ব আলোচনা করব। 

অনলাইন মার্কেটিং কি
অনলাইন মার্কেটিং কি?: কিভাবে অনলাইন মার্কেটিং করবেন?

আর্টিকেল সূচি

অনলাইন মার্কেটিং কি? (What is Online Marketing)

অনলাইন মার্কেটিং এর সংজ্ঞা জানার আগে আমাদের আগে বসতে হবে মার্কেটিং বিষয়টিকে। সহজ কথায় বলতে গেলে কোন পণ্যের প্রচার এবং প্রসার করার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং উপায় সমূহকে মার্কেটিং বলে।

যেমন ধরুন কোন কোম্পানি মার্কেটে তাদের জুতা নিয়ে এসেছে। এখন তারা কিভাবে গ্রাহকদের জানাবে যে তারা নতুন এই জুতা নিয়ে এসেছে এবং এই জুতার মান কত ভালো? 

গ্রাহকদের কে তাদের জুতা সম্পর্কে জানানোর জন্য তাদের মার্কেটিং করার প্রয়োজন হবে। যেমন ধরুন তারা যদি গ্রাহকদেরকে তাদের জুতা সম্পর্কে জানানোর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় তাহলে তা হবে মার্কেটিং।

আবার তারা যদি বিলবোর্ডে তাদের জুতার বিজ্ঞাপন দেয় তবে তাও হলো মার্কেটিং। সুতরাং, মার্কেটিং এর ধারণাটি আমরা বুঝতে পারলাম। 

অনলাইন কে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে যখন মার্কেটিং করা হবে তখন তাকে অনলাইন মার্কেটিং বলা হবে। আমরা আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত অনলাইন মার্কেটিং এর অনেক বিপুল উদাহরণ দেখে থাকে। 

যেমন ধরুন আপনি ফেসবুক চালাচ্ছেন বা ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। এখন ফেসবুক চালানোর সময় বা ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় প্রায়ই আপনার মোবাইলে বিভিন্ন কোম্পানির এড শো করে।

এই অ্যাডগুলো বিভিন্ন বার্তা বহন করে। বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বার্তা এড গুলোর মাধ্যমে পৌঁছায় দেওয়া হয়। এই যে কোম্পানিগুলো তাদের কোম্পানির মার্কেটিং পলিসির জন্য হিসেবে ব্যবহার করছে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমকে। 

এগুলো হলো অনলাইন মার্কেটিং বা ইন্টারনেট মার্কেটিংএর উদাহরণ। 

আপনার জন্য আমাদের আরও পোস্ট: 

অনলাইন মার্কেটিং ও অফলাইন মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্য? 

অফলাইন মার্কেটিং কে আমরা এখানে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং বা গতানুগতিক মার্কেটিং হিসেবে চিহ্নিত করব। আমরা রাস্তার বিলবোর্ডে পত্রিকায় টিভিতে বিজ্ঞাপনে যে ধরনের মার্কেটিং দেখে থাকে এগুলো হচ্ছে অফলাইন মার্কেটিং এর উদাহরণ। 

অনলাইন মার্কেটিং তুলনামূলকভাবে নতুন। অপরদিকে অফলাইন মার্কেটিং শতাব্দীকাল ব্যাপী থেকে চলে আসছে। 

পত্রিকার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার রেওয়াজ অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। আবার যখন টিভি এসেছে তখনও টিভিকে অফলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। 

অফলাইন মার্কেটিং এবং অনলাইন মার্কেটিং এর আরেকটি পার্থক্যের জায়গা হল এদের কার্যকারিতা নিরূপণে। যেমন ধরুন আপনি ১০ হাজার টাকা খরচ করে অনলাইন মার্কেটিং এবং অফ লাইন মার্কেটিংয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিলেন।

এখন অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য যে বিজ্ঞাপন আপনি দিলেন এখানে আপনি সমস্ত স্ট্যাটিসটিকস দেখতে পাবেন। যেমন ধরুন আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিলেন। 

এখন কতজন মানুষ আপনার এই পণ্যটি দেখেছে আপনি তা এই অনলাইন মার্কেটিং স্ট্যাটিসটিকস দেখে বের করতে পারবেন সহজেই। আবার কতজন মানুষ এই বিজ্ঞাপন দেখে আপনার দেওয়া লিংকে ক্লিক করে পণ্য দেখতে গিয়েছে এসব দেখা যাবে। 

অর্থাৎ আপনার বিজ্ঞাপনটি গ্রাহকদের মাঝে কেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে তা আপনি সরাসরি নির্ধারণ করতে পারবেন এই স্ট্যাটিসটিকস এর সাহায্যে। অনলাইন মার্কেটিং এর মস্ত বড় সুবিধা এটি। 

এখানে আপনি বিজ্ঞাপনের সাথে পন্যের যে বিক্রয় সম্পর্ক তা সরাসরি নির্ণয় করতে পারবেন। 

কিন্তু অফলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও এমন নয়। যেমন আপনি কোন টিভি বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন। কিন্তু এই বিজ্ঞাপন গুলো ঠিক কতজন মানুষের কাছে পৌঁছাল তা সঠিকভাবে নিরূপণ করার কোন উপায় নাই।

আবার এই বিজ্ঞাপন গুলো তাদের কেমন লাগলো, বিজ্ঞাপন দেখে কতজন মানুষ পণ্যটি কিনেছে তা বোঝার উপায় নেই। 

অনলাইন মার্কেটিং এর আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এর টার্গেট অডিয়েন্স। এখানে আপনি একটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। 

বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা এক্ষেত্রে বহুগুণে বেড়ে যাবে। কারণ এতে যাদের পণ্যসমূহ কেনার সম্ভাবনা বেশি শুধু তাদের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছাবে।

টার্গেট অডিয়েন্স এর উদাহরণ এভাবে দেওয়া যায় যে ধরুন কেউ ফেসওয়াশ পণ্য বিক্রি করবে। এখন এই ফেসওয়াশ পণ্য মূলত মেয়েরা বেশি কিনে থাকে।

তাই সে যদি মেয়েদেরকে বিশেষভাবে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেয় তবে তার বিজ্ঞাপন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অনলাইন মার্কেটিং এ এই সুবিধাটা পাওয়া যায়।

একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় অনলাইন মার্কেটিং এ। কিন্তু অফলাইন মার্কেটিংয়ে এই সুবিধা নেই।

আরেকটি পার্থক্য এই দুটি মার্কেটিং পদ্ধতির মধ্যে তা হলো এদের পরিবর্তনশীলতায়। অনলাইন মার্কেটিং অনেক বেশি পরিবর্তনশীল একটি ক্ষেত্র অপরদিকে অফলাইন মার্কেটিংয়ে খুব কমই পরিবর্তন হয়।

যেমন ধরুন প্রায়ই ফেসবুক গুগল ইউটিউব এরা নিজেদের এড পলিসি তে পরিবর্তন আনে। এখন যারা অনলাইন মার্কেটিং এ বিশেষজ্ঞ তাদেরকে এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তারপর তাদেরকে নতুন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে হয়।

অফলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন না। এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে খুব কমই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।

আরও দেখতে পারেন: 

অনলাইন মার্কেটিং এর সুবিধা (Benefits of Online Marketing)

অনলাইন মার্কেটিং এর অনেক সুবিধার কথা উল্লেখ করা যায়। আমরা এখন অনলাইন মার্কেটিং এর কিছু সুবিধা উল্লেখ করব।

ডাটার উপর ভিত্তি করে মার্কেটিং

অনলাইন মার্কেটিং এর অন্যতম সুবিধা হচ্ছে যে এই মার্কেটিং ডাটার ওপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ মার্কেটিং কেমন হচ্ছে তা বোঝার জন্য অনেক তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া যায়।

যেমন ধরুন কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তাদের একটি প্রডাক্টের জন্য পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞাপন দিল অনলাইনে। এখন এই পাঁচটি বিজ্ঞাপন এর মধ্যে কোন বিজ্ঞাপনটি সবচাইতে কার্যকর এটা কিভাবে বোঝা যাবে?

এখানেই অনলাইন মার্কেটিং এর বিশেষত্ব উল্লেখ করা যায়। পাঁচটি বিজ্ঞাপন এর বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত পাওয়া যাবে এই মার্কেটিং এ। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনটিতে কতজন ক্লিক করেছে, বিজ্ঞাপন দেখার পর কতজন অনলাইন থেকে পণ্যটি কিনেছেন এরকম বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত পাওয়া যাবে। 

অর্থাৎ কোন বিজ্ঞাপনটির সবচাইতে বেশি গ্রাহকদেরকে আকৃষ্ট করেছে তা তথ্য-উপাত্ত থেকে সহজেই বোঝা যাবে। এর উপর ভিত্তি করে তখন পরবর্তীতে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রচার করা অনেক সুবিধা হবে।

এই যে তথ্যের উপর ভিত্তি করে মার্কেটিং করার সুবিধা এটা হচ্ছে অনলাইনে মার্কেটিং করার অন্যতম বিশেষত্ব।

পরিচালনা করার সহজতা

অনলাইন মার্কেটিং এর আরেকটি সুবিধাজনক দিক হচ্ছে এর পরিচালনা করার সহজতা। যেমন ধরুন এই পদ্ধতিতে আমেরিকায় বসে বাংলাদেশের বাজারে মার্কেটিং করতে পারবেন।

এই যে এভাবে যেকোন জায়গায় বসে যে এই মার্কেটিং পরিচালনা করা যায় এর অন্যতম সুবিধা ভোগী বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা। বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সাররা ঘরে বসে অনলাইন মার্কেটিং করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। 

সুনির্দিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করার ক্ষমতা

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পছন্দ করে থাকে। কোন একটি কোম্পানি অফিসে যারা যায় তাদের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যাগ বানালো।

এই মার্কেটিং এর সুবিধা হচ্ছে এখানে সুনির্দিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করা যায়। অর্থাৎ যারা অফিসে কাজ করে তাদেরকে টার্গেট করে পণ্য বিক্রি করতে চাইলে তা সহজেই করা যাবে। বিজ্ঞাপনের জন্য এভাবে সুনির্দিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করা হল অনলাইন মার্কেটিং এর অন্যতম বিশেষত্ব।

রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট দ্রুততম সময়ে পাওয়া যায়

রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট বলতে বোঝায় যে কোন একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগ যে সময়ে ফেরত পাওয়া যায়। যেমন ধরুন কোনো ব্যবসায়ী এক লক্ষ টাকা দিয়ে কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করল।

এখন সে এই এক লক্ষ টাকা যখন সে ব্যবসা থেকে তুলতে পারবে তখন তার রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট হবে। অর্থাৎ বিনিয়োগ তুলতে পারাকে রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট বলে।

অনলাইন মার্কেটিং এর একটি সুবিধা হচ্ছে যে এখানে রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট দ্রুততার তার সাথে পাওয়া যায়। অপরদিকে অফলাইন মার্কেটিংয়ে রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট পেতে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি সময় লাগে।

কাস্টমারকে ক্ষমতায়ন করে

এই মার্কেটিং পদ্ধতির অন্যতম একটি সুবিধা যে এই পদ্ধতি গ্রাহকদেরকে ক্ষমতায়নের সুবিধা দিয়েছে। এটি এ মার্কেটিং পদ্ধতির অন্যতম একটি বিশেষত্ব। 

যেমন ধরুন কোন কোম্পানির কোন অনলাইন বিজ্ঞাপন যদি গ্রাহকের কাছে দৃষ্টিকটু লাগে তবে সে এটার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারবে। গ্রাহকের দৃষ্টিকটু হওয়ার কারণ যদি কোম্পানি অনুসন্ধান করবে।

তারপর কোম্পানি যদি দৃষ্টিকটু হবার কারণ যথার্থ মনে করে তবে সেই অনলাইন বিজ্ঞাপনকে কোম্পানি তার প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেবে।

সুতরাং এই মার্কেটিং শুধু যে বিজ্ঞাপন দাতাদেরই সুবিধা দেয় এমন নয়, গ্রাহকদের কেউ এই মার্কেটিং পদ্ধতি অনেক সুবিধা দেয়।

কিভাবে অনলাইন মার্কেটিং করবেন? (How to Do Online Marketing)

অনলাইন মার্কেটিং এর এত সুবিধা জানার পর আপনি হয়তো এই মার্কেটিং করতে চান। অনলাইন মার্কেটিং দুটি পদ্ধতিতে করা যেতে পারে।

প্রথম পদ্ধতি হলো আপনি এজেন্সির সাহায্য নিয়ে অনলাইন মার্কেটিং করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আপনার কোনো গ্রহণযোগ্য এজেন্সি নির্ধারণ করতে হবে যারা অনলাইন মার্কেটিং এ দক্ষ। তারপর তাদের সহায়তা নিয়ে আপনি অনলাইন মার্কেটিং করতে পারেন আপনার পণ্যের জন্য।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো আপনার নিজে থেকে অনলাইন মার্কেটিং করা। আপনি নিজে কিভাবে এই মার্কেটিং করতে পারেন এ সম্পর্কিত কিছু টিপস আমরা এখন শেয়ার করব।

আপনার দক্ষতা খুঁজে বের করুন (Find out your skills)

অনলাইন মার্কেটিং করার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরী। হয়তো আপনি সব বিষয়ে দক্ষ নন। যেমন যিনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবেন তিনি সবসময় ভিডিও এডিটিং নাও পারতে পারেন।

কাজে আপনি যে ফিল্ডে দক্ষ আপনার সেই ফিল্ডের অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য বেছে নিতে হবে। যেমন ধরুন আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং হন তাহলে এই মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো মার্কেটপ্লেস বেছে নিন।

আবার ভিডিও এডিটিং এ দক্ষ হলে আপনি ফেসবুক এবং ইউটিউব এ অনলাইন মার্কেটিং করতে পারেন। অর্থাৎ অনলাইন মার্কেটিং করার জন্য আপনি কোন ফিল্ডে দক্ষ এটা বোঝা জরুরি।

অনলাইনে মার্কেটিংয়ের অনেক মাধ্যম আছে। যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার ওয়েবসাইট ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে অনলাইনে মার্কেটিং করা যায়।

এগুলো প্রতিটা ক্ষেত্রে যেমন ফেসবুক বা ইউটিউবে মার্কেটিং করার জন্য আলাদা আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন। সুতরাং আপনি যদি আপনার দক্ষতা ঠিক খুঁজে বের করতে পারেন তবে সঠিক মাধ্যমে মার্কেটিং সহজেই করতে পারবেন।

আরও দেখুন: 

ফেসবুকের মাধ্যমে মার্কেটিং (Facebook Marketing)

ফেসবুক বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বাংলাদেশ কয়েক কোটি মানুষের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব যে বাংলাদেশে ফেসবুকের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং করা সবচাইতে সুবিধাজনক।

আমরা ফেসবুক স্ক্রল করার সময় বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে পায়। এগুলো বিজ্ঞাপন আমরা কখনও কখনও ছবি আকারে বা কখনও কখনও ভিডিওর মাধ্যমে দেখে থাকি।

ছবি আকারে যে বিজ্ঞাপন গুলোএই যে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন গুলো আমরা দেখি এগুলো সবই কিন্তু অনলাইন মার্কেটিং এর বাস্তব উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আসে তা গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। 

তবে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং কে আমি বিভিন্ন কারণে এগিয়ে রাখব। মূল কারণ আমি এখানে বলব যে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এখনও দ্রুতগতির ইন্টারনেট কানেকশন পৌঁছায়নি।

আপনি যদি ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেন তবে অনেকেই ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখতে আগ্রহী হবে না। কারণ তাতে ভিডিও লোড হতে অনেক সময় লাগবে এবং ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখতে অনেক মেগাবাইট খরচ হয়।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট প্যাকেজের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং করলে সহজেই সবার কাছে আপনার পণ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারবেন। 

তবে যদি সুযোগ থাকে এবং যথেষ্ট অর্থ থাকে মার্কেটিং এর জন্য তবে ভিডিওর মাধ্যমেও মার্কেটিং করা উচিত। গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং ভিডিওর মাধ্যমে মার্কেটিংয়ের সম্মিলিত ফলাফল কোন মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের জন্য দুর্দান্ত।

কিন্ত অনেকসময় দেখা যায় যে এই দুইয়ের সমন্বয়ে মার্কেটিং করার জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার তা থাকে না। তখন শুধু গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। 

ছবি বা ভিডিও দেওয়ার পর আপনি এর সাথে পন্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখে দিবেন ফেসবুকে। পাশাপাশি কিভাবে পণ্যটি পাওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কিত লিংক শেয়ার করবেন। এভাবে আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন। 

বাংলাদেশ অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য মিডিয়াম গুলোর মধ্যে ফেসবুকে সবচাইতে বেশি ফলদায়ক প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ফেসবুক যেমন সুনিদিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করা যায় পাশাপাশি ফেসবুকে রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট তুলনামূলকভাবে দুর্দান্ত। 

এজন্য আপনি যদি অনলাইন মার্কেটিং করতে চান তবে আমি বলব আপনার প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত ফেসবুক মার্কেটিং

ইউটিউব এর মাধ্যমে মার্কেটিং (Youtube Marketing)

ইউটিউব এর মাধ্যমে মার্কেটিং ও অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইদানিং। বাংলাদেশের ফেসবুকের পর ইউটিউব সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা ওয়েবসাইট। ধারণা করা হচ্ছে যে ইউটিউব জনপ্রিয়তায় কিছুদিন পরে ফেসবুককে ছাড়িয়ে যাবে।

ইউটিউবে আমরা কোন ভিডিও দেখার সময় প্রায়ই বিভিন্ন অ্যাড দেখতে পাই। এই অ্যাড গুলো সাধারণত ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড আমাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে দেখতে হয়। তারপর অ্যাড গুলো স্কিপ করার সুযোগ থাকে।

ইউটিউব এর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে চাইলে এরকম আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে হবে। বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে, প্রথম পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ড যেন খুবই আকর্ষণীয় হয় ভিডিওটির। 

কারণ এই পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ডের ভিডিও বেশিরভাগ কাস্টমার দেখে থাকে এবং পণ্য সম্পর্কে তারা সিদ্ধান্ত নেয়। ইউটিউব এ বিজ্ঞাপন দেয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং কারণ এই পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ডের মাধ্যমে পণ্যের বার্তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো জটিল। 

তবে কিছু জিনিস যদি খেয়াল রাখা হয় তবে সহজেই আপনি ইউটিউবে এরকম আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। যেমন আপনি যে পণ্যের বিজ্ঞাপন করছেন সেই পণ্যের নাম ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে উচ্চারিত হচ্ছে কিনা।

পণ্যটি কি এবং এর মূল কাজ এই বার্তা টি গ্রাহকের কাছে এই সময় পৌঁছেছে কিনা। তাহলে আশা করা যায় যে আপনার ইউটিউবে অনলাইন মার্কেটিং সফল হবে। প্রথম পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ডের পর আপনি গতানুগতিক বিজ্ঞাপনগুলোর মতন একটি লম্বা ভিডিও দিতে পারেন।

এই ভিডিওতে আপনি পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে গ্রাহককে জানাতে পারেন। পাশাপাশি যেই লিংকে গেলে এই পণ্য পাওয়া যাবে তা আপনি অবশ্যই ইউটিউব এড এর সাথে সংযুক্ত করে দিবেন।

ইন্সটাগ্রাম এর মাধ্যমে মার্কেটিং (Marketing via Instagram)

ইনস্টাগ্রাম হল ছবি শেয়ার করার জন্য বিশেষায়িত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইনস্টাগ্রামে মার্কেটিং করতে হলে প্রথম যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে ছবির কোয়ালিটি। ইনস্টাগ্রামে কোনভাবে লো কোয়ালিটির ছবি মার্কেটিং এর জন্য আপলোড করা উচিত না।

ইনস্টাগ্রামে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর সাহায্যে ছবি এডিটিং করে আপলোড দিতে পারেন। তারপর ছবির সাথে পন্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং পণ্যটি কিভাবে পাওয়া যাবে তা দিতে পারেন। 

এভাবে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে আপনি মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি যদি পোশাক, জুতা এসব পণ্যের মার্কেটিং করতে চান তবে তার জন্য ইনস্টাগ্রাম বিশেষভাবে উপযোগী। 

পোশাক জুতা এসব পণ্যের হাই কোয়ালিটি ছবি খুব সহজেই কাস্টমারদের কে আকৃষ্ট করে। ইনস্টাগ্রামে ভিডিওর মাধ্যমেও মার্কেটিং করা যায় তবে তা তুলনামূলকভাবে কম ফলদায়ক ছবির মাধ্যমে মার্কেটিং করার তুলনায়।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মার্কেটিং (Online Marketing via Website)

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মার্কেটিং একদমই আলাদা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউব এর মাধ্যমে মার্কেটিং করার তুলনায়। এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপনার আগে খুঁজে বের করতে হবে যে আপনার পণ্যের জন্য কোন ধরনের ওয়েবসাইট উপযোগী। 

যেমন কারো যদি হোটেল ব্যবসা থাকে তবে সে বিভিন্ন ট্যুরিজম রিলেটেড ওয়েবসাইটগুলোয় তার  হোটেলের বিজ্ঞাপন দিতে পারে। আবার সেই গুগল এড এর মাধ্যমেও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিতে পারে।

তবে আমি বলবো গুগল এড এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার থেকে এভাবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলো খুজে বিজ্ঞাপন দেওয়া অধিক ফলকদায়ক। কারণ এর মাধ্যমে আপনি সুনির্দিষ্ট শ্রেণীর গ্রাহকদের কাছে আপনার বিজ্ঞাপনের বার্তা পৌঁছতে পারবেন। 

টুইটারের মাধ্যমে মার্কেটিং (Twitter Marketing)

বাংলাদেশের টুইটার তেমন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম না। কিন্তু বিদেশে টুইটার একটি তুমুল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আপনি যদি আপনার পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রয় করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই টুইটারের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হবে।

টুইটারে মার্কেটিং এর জন্য আপনার সবচাইতে উত্তম হচ্ছে টুইটারের পেইড মার্কেটিং ব্যবহার করা। কারণ যেহেতু বাংলাদেশের টুইটার ব্যবহারকারী কম সেহেতু টুইটারে ফলোয়ার বানানো কঠিন কাজ।

তাই টুইটারের পেইড মার্কেটিং এর মাধ্যমেই মার্কেটিং চালানো ভালো। আপনি আপনার পণ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তার সাথে ছবি বা ভিডিও দিয়ে টুইটারের মার্কেটিং করতে পারেন।

অনলাইন মার্কেটিং এর প্রকারভেদ (Types of Online Marketing)

অর্থ খরচের ওপর ভিত্তি করে অনলাইন মার্কেটিং কে মূলত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হল অর্গানিক মার্কেটিং এবং পেইড মার্কেটিং। 

অর্গানিক মার্কেটিং (Online Organic Marketing)

ধরুন আপনার একটি ফেসবুক পেজ আছে। এই ফেসবুক পেজে ১০ হাজার ফলোয়ার আছে। এই ১০ হাজার ফলোয়ার আপনি কোন ধরনের অর্থ খরচ না করেই বিভিন্ন পোষ্টের মাধ্যমে অর্জন করেছেন।

এখন আপনি যদি এই ফেসবুক পেজ থেকে অর্থ খরচ না করে পণ্যের মার্কেটিং করেন তাহলে তা হবে অর্গানিক মার্কেটিং। আপনি যেকোন পোষ্ট করলে তা আপনার এই ১০ হাজার ফলোয়ার এর কাছে পৌঁছে যাবে।

অর্গানিক মার্কেটিং এর সবচাইতে সুবিধা হলো এর স্থায়িত্ব। আপনার ফেসবুক পেজে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার বা ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিটর থাকলে তাদের কাছে মার্কেটিং করতে পারবেন।

এটার জন্য আপনার আলাদা কোনো অর্থ খরচ করা লাগবে না। তবে অর্গানিক মার্কেটিং করতে হলে অনেক ধৈর্য দরকার। কারণ এখানে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর বা পেইজে লাইক একদিনে আসে না।

আপনাকে দীর্ঘ দিন ওয়েবসাইটে ভিজিটর বা পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য পোস্ট করে যেতেই হবে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে অর্গানিক মার্কেটিং করা যায়।

যেমন ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে অর্গানিক মার্কেটিং হল এর এসইও করে। আবার ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে অর্গানিক মার্কেটিং এর জন্য আপনার দীর্ঘদিন ছবি, ভিডিও বা লেখা পোস্ট করতে হবে। 

যদি মার্কেটিংয়ের জন্য হাতে সময় থাকে তবে অর্গানিক পদ্ধতিতে মার্কেটিং করার সবচাইতে ভালো। কারণ এই পদ্ধতিতে সময়ে বেশি লাগলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। পাশাপাশি এতে অর্থ খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়।

পেইড মার্কেটিং (Online Paid Marketing)

অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে অর্থ খরচ করে যে মার্কেটিং করা হয় তাকে পেইড মার্কেটিং বলে। ফেসবুক স্ক্রল করলে প্রায়ই বিভিন্ন সময় দেখতে পান যে এমন পেইজের পোস্ট আসে যা আপনি লাইক করেন নি।

ওই গুলোর উপর আবার স্পন্সরও লেখা থাকে। আপনি লাইক না করলেও এগুলো তাহলে আপনার নিউজ ফিডে আসছে কেন? 

আবার ইউটিউব ব্যবহার করার সময় আমরা অনেক ধরনের এড দেখতে পায়। কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময়ও আমরা অনেক রকমের এড দেখি। 

এই যে এরকম এড গুলো হল পেইড মারকেটিং ক্যাম্পেইনে এর উদাহরণ। আমরা এখন পেইড মার্কেটিং এর বিভিন্ন প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করব। 

পেইড এসইও

এসইও এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। গুগলে কোন জিনিস আমরা যদি সার্চ করি তবে অনেক সময় দেখা যায় স্পনসর্ড লেখা বিভিন্ন ওয়েবসাইট। এগুলো ওয়েবসাইট মূলত পেইড এসইও ক্যাম্পেইন করে থাকে। গুগোল এ কিছু অর্থ প্রদানের বিনিময় তারা এ সার্চ ইঞ্জিনে উপরে উঠে আসে। 

যেমন কোন মোবাইল বিক্রেতা ওয়েবসাইট গুগলে পেইড এসইও করল। মোবাইল সংক্রান্ত বিভিন্ন সার্চের জন্য এখন কেউ যদি গুগলে সার্চ করে তবে সেই ওয়েবসাইটটি একদম প্রথমে দেখতে পাবে।

এতে করে ওয়েবসাইট যেমন অনেক মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করবে। পাশাপাশি অনেক মানুষ ওয়েব সাইটটি থেকে মোবাইল কিনতে আগ্রহী হবে। 

এই ক্যাম্পেইনের সবচাইতে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে যে মুহূর্তের মধ্যে সার্চ ইঞ্জিন এর উপরে উঠে আসা যায়। কিন্তু যখনই গুগলকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়া হবে তখন গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইটটি প্রথমে প্রদর্শন করবে না। এটি হচ্ছে এই ক্যাম্পেইনের দুর্বল দিক।

সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলোতে পেইড মার্কেটিং

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টুইটারে পেইড মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করা যায়। এই মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে লাইক বা ভিউয়ার বাড়ানো যায়। 

তবে এসইও পেইড মার্কেটিং এর মতই মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে অর্থের সাথে এই মার্কেটিং এর সম্পর্ক। যখনই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়া হবে তখনই এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইন গুলো বন্ধ হয়ে যাবে। 

ইনফ্লুয়েন্সার এবং সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে পেইড মার্কেটিং

অনলাইন জগতে ইনফ্লুয়েন্সার তাদেরকে বলা হয় যারা কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অনলাইনে মতামত দিয়ে থাকে। পাশাপাশি ইনফ্লুয়েন্সার একটি বৃহৎ ফ্যান ফলোইং থাকে। 

এই ইনফ্লুয়েন্সার রা বিশেষভাবে তাদের ফ্যান ফলোইং দের কোন একটি বিষয়ে মতামত পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। এদের মাধ্যমে এবং সেলিব্রেটিদের মাধ্যমে অনলাইনে পেইড ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা যায়।

যেমন ধরুন কেউ কোনো একটি রেস্টুরেন্ট খুলল। এখন সে কিছু ফুড ব্লগারদের দিয়ে তার রেস্টুরেন্টের ভালো রিভিউ করালো।

এভাবেই রিভিউ করার মাধ্যমে সে তার রেস্টুরেন্টের বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি তার রেস্টুরেন্ট সেই ইনফ্লুয়েন্সার বা সেলিব্রেটির ফলোয়ারদের কাছে পরিচিতি লাভ করবে।

মার্কেটিং এর জন্য এ পদ্ধতিটি অত্যন্ত চমকপ্রদ। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করার সময় কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সার দের সাহায্য নিতে হবে। 

যেমন কেউ যদি কোন পোশাকের দোকান খুলে তা ফুড ব্লগার কে দিয়ে রিভিউ করে তবে তা কার্যকরী হবে না। পোশাকের রিভিউ এর জন্য এই সংশ্লিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সার দের সাহায্য নিতে হবে।

বাংলাদেশ অনলাইন মার্কেটিং

বাংলাদেশ অনলাইন মার্কেটিং এর সেক্টর তুলনামূলকভাবে অনেক নতুন। এখানে এখনো অনেক উন্নতি করার আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ এই মার্কেটিং করতে হলে যারা এই সেক্টর এ নতুন তাদেরকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। 

যেমন ক্রেডিট কার্ড একটি বড় সমস্যা। ফেসবুক বা ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিতে হলে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দিতে হয়। 

কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে ক্রেডিট কার্ড নেই। কাজেই অনেক মানুষ ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিজে থেকে এই মার্কেটিং করতে পারে না। তাদেরকে কোন এজেন্সির সাহায্যে তাদের অনলাইন মার্কেটিং করতে হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি যেমন দারাজ, ওয়ালটন এরা সবাই অনলাইন মার্কেটিং এর দিকে ফোকাস করেছে। বাংলাদেশ যেমন প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তেমনি বাড়ছে অনলাইন মার্কেটিং এর ব্যবহার। 

শুধু যে বড় বড় কোম্পানি অনলাইন মার্কেটিং করছে তাই নয়। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অনলাইনে তাদের মার্কেটিং করে তাদের পণ্য বিক্রি করছে।

এসব উদ্যোক্তারা খাবার থেকে শুরু করে পোশাক সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিস অনলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে বিক্রি করছে।

অনলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং হয়েছে। যেমন ফুডপান্ডা এসব কোম্পানি মূলত অনলাইন মার্কেটিং এর উপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের সাথে চুক্তি করে খাবার বিক্রি করে।

ফুডপাণ্ডার যেসব রাইডার রা কাজ করে অনলাইন মার্কেটিং এর কারণে কোম্পানিগুলো তাদেরকে কর্মসংস্থান দিতে পারছে।

একথা সুনিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি যে ক্ষেত্রে মার্কেটিং করা হবে তা হলো অনলাইন মার্কেটিং। কাজেই এই ক্ষেত্রে যারা দক্ষতা অর্জন করবে তাদের গুরুত্ব ভবিষ্যতে বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। 

অনলাইন মার্কেটিং এর গুরুত্ব

মার্কেটিং দুনিয়ায় যদি আমরা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায় তবে অনলাইন মার্কেটিং এর বিকল্প নেই। এই মার্কেটিং এর মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কেটিং এর কাজ করতে পারি। 

বিশ্ব ক্রমশ অনলাইনে বিভিন্ন কাজের দিকে ঝুঁকছে। ভবিষ্যৎ দুনিয়ায় অনলাইন মার্কেটিং এর গুরুত্ব হবে মার্কেটিং জগতের মধ্যে সবচাইতে বেশি। 

কাস্টমার ফিডব্যাক পাওয়ার ক্ষেত্রে এই মার্কেটিং এর কোন তুলনা নেই। অফলাইন মার্কেটিং এ কাস্টমার ফিডব্যাক পাওয়া অসম্ভব একটি কাজ। কিন্তু অনলাইন মার্কেটিং এ কাস্টমার ফিডব্যাক সহজে পাওয়া যায়। 

কাস্টমার কনভার্শন রেট থেকে হিসাব করে সহজে বিজ্ঞ্রাপন টি কাস্টমারের কেমন লেগেছে তা বের করা যায়। যত রকমের মার্কেটিং আছে তার মধ্যে এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট সবচাইতে দ্রুত পাওয়া যায়। 

অনলাইন মার্কেটিং করার কিছু টিপস (Online Marketing Tips)

অনলাইন মার্কেটিং করার জন্য কিছু টিপস আমরা এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। এর মধ্যে প্রথমে আমি বলব যে অনলাইন মার্কেটিং এ শিক্ষা গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন ধরুন কেউ অনেক কষ্ট করে একটি এড ক্যাম্পেইন তৈরি করলেন। কিন্তু দেখল যে এই এড ক্যাম্পেইন এ তেমন ক্লিক পড়ছে না এবং তা থেকে পণ্য তেমন বিক্রি হচ্ছে না।

এর কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে যে কেন এই ক্যাম্পেইন সফলতা লাভ করল না। আপনি যদি আপনার পূর্বাপর ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারেন তবে সফলতা লাভ করার সম্ভবনা সবচাইতে বেশি।

পাশাপাশি আপনার কাস্টমার এর মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। কাস্টমার একটি প্রোডাক্ট থেকে কোন জিনিসটা আশা করে তা আপনার ক্যাম্পেইনে তুলে ধরতে হবে। 

এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপনার যদি বিশেষজ্ঞ হতে হয় তবে আপনার প্রতিনিয়ত নতুন জিনিস শেখার আগ্রহ থাকতে হবে। যেমন যদি শুধু এসইও এর কথা বলি তবে গুগল প্রতিবছর এতে প্রায় ৬০০ পরিবর্তন করে থাকে।

গুগোল এই পরিবর্তন গুলো করে থাকে সময়ের সাথে নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযুক্ত করার জন্য। যদিও এরকম মার্কেট গুলোতে প্রায়ই বিভিন্ন রকম পরিবর্তন হয় তবু কিছু মৌলিক বিষয় সব সময় একই রকম থাকে। 

যেমন গুগলের এসইও এর কথাই ধরুন। গুগলের সার্চে র‍্যাংকিং পাওয়ার জন্য মূল যে বিষয়টা হলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য গুলো কতটা সমৃদ্ধ। 

সুতরাং মার্কেটিং বিষয়ে দক্ষ হতে হলে মার্কেটিং এর মৌলিক বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে।  পাশাপাশি সবসময় নিজেকে মার্কেটিং এর বিভিন্ন তথ্য গুলোর সাথে আপগ্রেড করে রাখতে হবে। তাহলে  আপনি মার্কেটিং এ ভালো করতে পারবেন।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি কোন পণ্যের মার্কেটিং করছেন। বিভিন্ন পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ভালো হয়। যেমন কোন কোন পণ্যের জন্য হয়তো ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে ভাল মাধ্যম। আবার কোন পণ্যের জন্য হয়তো ইউটিউবার, ফেসবুক সবচাইতে ভালো মাধ্যম।

সুতরাং মার্কেটিং করার আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো যে কোন মাধ্যমে পণ্যটি সবচাইতে ভালো মার্কেটিং করা যাবে।

মার্কেটিং করার আরেকটি উপায় হলো ট্রেন্ডিং ইস্যু নিয়ে কথা বলা। ট্রেন্ডিং ইস্যু বলতে বোঝায় এখন যে যেই বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আলোচনা হচ্ছে।

যদি কোনভাবে পণ্য মার্কেটিং এর সাথে ট্রেন্ডিং ইস্যুর যৌক্তিক যোগাযোগ তৈরি করা যায় তবে তা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের জন্য দুর্দান্ত। এর ফলে যা হবে তা হলো অনেকের কাছে মার্কেটিংয়ের বার্তাটি ট্রেন্ডিং ইস্যুর মাধ্যমে পৌঁছাবে। 

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হলো আপনাকে ধৈর্য ধরে রাখতে হবে। অনেক সময় মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না। সে সকল সময় গুলোতে ধৈর্য ধরে মার্কেটিংয়ের আরো নতুন নতুন বিষয় শিখতে হবে যেন ভবিষ্যতে ভালো করা যায়।

অনলাইন মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়ুন (Online Marketing Carrer)

বাংলাদেশে এখনও এই ক্ষেত্রে ফুলটাইম ক্যারিয়ার গড়া বেশ কঠিন কাজ। একজন অনলাইন মার্কেটার কে ফুলটাইম হিসেবে অনেক কোম্পানি রাখতে চায় না। কারণ তাদের সব সময় অনলাইন মার্কেটারদের কে দরকার হয়না।

তাই বাংলাদেশে যারা এই ফিল্ডে কাজ করছে তারা বেশিরভাগই পার্টটাইম বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করে। তবে এই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে ধীরে ধীরে।অনেক কোম্পানি এখন ফুলটাইম মার্কেটারদের কে নিয়োগ দিচ্ছে তাদের মার্কেটিং এর জন্য।

আর এই মার্কেটিং শেখার সবচাইতে বড় সুবিধা হল যে এর ক্ষেত্র শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের বাইরে ও এর অনেক কাজ আছে।

বাংলাদেশে বসে অনেকেই যারা বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে অনলাইন মার্কেটিং এ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। আবার অনেকে বিদেশে ফ্রিল্যান্সিং করে ও টাকা উপার্জন করছেন।

অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য কয়েকটি ওয়েব সাইট আছে যেখান থেকে আপনি বিদেশে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে কাজ পেতে পারেন। যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার এসব ওয়েবসাইট অনলাইন মার্কেট এর জন্য খুবই ভালো। নতুন পুরাতন সবার জন্য এখানে কাজের সুযোগ আছে।

কোথা থেকে অনলাইন মার্কেটিং শিখতে পারেন

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শেখা

বাংলাদেশের সরকারি ভাবে অনলাইন মার্কেটিং এর কিছু কিছু বিষয়ে বিনামূল্যে শেখানো হয়। অনলাইনে এই ক্লাসগুলো হয়ে থাকে এবং এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের ক্লাস নিয়ে থাকেন। আপনি এইসব ক্লাস থেকে মার্কেটিং শিখতে পারেন।

আবার ইউটিউব এ থেকেও আপনি মার্কেটিং এর বেসিক ধারণা গুলো নিতে পারেন। বাংলাদেশে অনেক দক্ষ অনলাইন মার্কেটার নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে এই মার্কেটিং বিষয়ে ক্লাস নেন। আপনি তাদের থেকে কোর্স করে এই মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে পারেন।

ঘুড়ি লার্নিং একাডেমি, এমএসবি অ্যাক্যাডেমি, টেন মিনিট স্কুল এরকম কয়েকটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান এই মার্কেটিং এর উপর বিভিন্ন কোর্স করায়। আপনি তাদের কাছ থেকে মার্কেটিং সম্পর্কে শিখতে পারেন। 

তবে দুঃখজনক বিষয় হলো বাংলাদেশে এখনো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মার্কেটিং বিষয়ে কোর্স চালু করা হয় নাই। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই সম্পর্কিত কোর্স চালু করবে।

এই মার্কেটিং আপনি যার কাছ থেকে শেখার না কেন খেয়াল রাখবেন সে যেন এই বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হন। যিনি শিক্ষক বা এই মার্কেটিং এর ক্লাস নিবেন তাকে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। 

পাশাপাশি তার এই মার্কেটিং ফিল্ডে সফল একটি ক্যারিয়ার থাকা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের জন্য। কোর্স শেষ করার পর আপনি সেই প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার কোর্স সম্পন্ন করার সার্টিফিকেটটা অবশ্যই নেবেন।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা অনলাইন প্রতিষ্ঠান থেকে শেখা

আপনি বাংলাদেশে বসে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মার্কেটিং সম্পর্কে শিখতে পারেন। যেমন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মার্কেটিং বিষয়ে বিভিন্ন কোর্স করিয়ে থাকে। 

আবার বিদেশের বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন udemy,udacity থেকে আপনি এই মার্কেটিং বিষয়ে বিভিন্ন কোর্স করতে পারেন। 

আবার আরেকটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান আছে coursera। এই প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি বিনামূল্যে অনলাইন মার্কেটিং শিখতে পারবেন যদি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হন। 

সার্বিক বিবেচনায় আমি বলব যদি আপনার সুযোগ থাকে তবে অবশ্যই আপনার বিদেশের অনলাইন একাডেমি থেকে শেখা উচিত। 

বিশেষ করে এটা গুরুত্বপূর্ণ ওই ক্ষেত্রে যখন আপনি বিদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে চান। তখন এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শেখা সাটিফিকেট গুলো একজন দক্ষ অনলাইন মার্কেটার হিসেবে প্রমাণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। 

কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থেকে সার্টিফিকেটগুলো বিদেশে তেমন গুরুত্ব বহন করবে না। পাশাপাশি বিদেশের শিক্ষা কারিকুলাম উন্নত এবং আধুনিক।

তবে বিদেশের অনলাইন একাডেমিগুলো থেকে শিখলে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের অ্যাক্যাডেমি গুলোর থেকে অনেক বেশি পড়বে।

বাংলাদেশ বসে বিদেশে অনলাইনে মার্কেটিং এর কাজ

বাংলাদেশ বসে বিদেশে অনেকেই এই মার্কেটিং এর বিভিন্ন কাজ করছে। কেউ চাকরি করছে বা কেউ ফ্রিল্যান্সিং করছে। 

বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে এই মার্কেটিং এর বিভিন্ন কাজ জোগাড় করে। আবার অনেকে ঘরে বসেই ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চাকরি খুঁজে তাতে চাকরি করছে। 

অনলাইন মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ (Future of Online Marketing)

মার্কেটিং জগত এখন একটি পরিবর্তন এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অনলাইন মার্কেটিং এর ব্যাপ্তি এখন সর্বব্যাপী। বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্র্যান্ড বা বিশ্বের বিখ্যাত ব্র্যান্ড সবগুলোই এখন অনলাইনে মার্কেটিং এর দিকে ঝুঁকছে।

এগুলো ব্র্যান্ডের বেশির ভাগ মার্কেটিং বাজেট অনলাইন মার্কেটিং এর দিকে যাচ্ছে। বিশ্ব বিখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন অ্যামাজন, টেসলা অনলাইন মার্কেটিং এর উপর খুবই গুরুত্ব দেয়।

কারণ এই মার্কেটিং এ রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট দ্রুত লাভ করা যায়। কাজেই নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, ভবিষ্যতের মার্কেটিং হবে অনলাইন মার্কেটিং। 

অফলাইন মার্কেটিংয়ের যে বিশাল বড় ক্ষেত্র ছিল তা ধীরে ধীরে অনলাইন মারকেটিং দখল করে নিচ্ছে। অনলাইন মার্কেটিং এর গুরুত্ব এতই যে এখানে যারা ভালো করতে পারছে তারা সবচাইতে বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারছে।

যেমন বিশ্ব বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা কথা ধরা যাক। টেসলা যখন বাজারে তার গাড়ি নিয়ে আসলো তখন অনেকেই টেসলার গাড়ির সফল হবার কোন সম্ভাবনা দেখেননি।

কারণ টেসলার কম্পিটিটর ছিল হামভি, নিশান, ভলভো এসব বড় বড় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি। এসব কোম্পানিগুলো তাদের অফলাইন বিজ্ঞাপনের পিছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করত।

কিন্তু নতুন কোম্পানি হিসেবে টেসলা মার্কেটিং এর পিছনে এত টাকা খরচ করার সক্ষমতা ছিল না। সুতরাং তারা পুরোটাই অনলাইন মার্কেটিং এর দিকে মনোনিবেশ করল। 

তারা ইনফ্লুয়েন্সার দেরকে দিয়ে তাদের পণ্যের অনলাইন বিজ্ঞাপন করাল। টেসলার গাড়ি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

কাজেই আমরা বুঝতে পারছি যে অনলাইন মার্কেটিং এর বর্তমান অবস্থা। এই মার্কেটিং এ যেসব কোম্পানি সফলতা লাভ করবে তারাই ভবিষ্যতের মার্কেট লিডার হবে।

একথাও বলা বাহুল্য যে অনলাইন মার্কেটিং সাবজেক্টের সারা বিশ্বে বহুল চাহিদা আছে। যারা অনলাইন মার্কেটিং এ দক্ষতা অর্জন করবে তাদের ভবিষ্যতে কাজের অভাব হবে না বলাই যায়।

শেষ কথা,

অনলাইন মার্কেটিং এ বাংলাদেশে এখনও প্রাইমারি পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশে এখনো অনলাইন মার্কেটিং এর অনেক সুযোগ আছে এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন এর।

সরকার এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উচিত বাংলাদেশ অনলাইন মার্কেটিং এর বিস্তারের সহায়তা করা। এতে করে যেমন অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে ঠিক তেমনি বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর অনলাইন মার্কেটপ্লেস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap