অনলাইন বিজনেস কি? কিভাবে শুরু করবেন?

আজকে আমরা অনলাইন বিজনেস নিয়ে আলোচনা করব। অনলাইন কে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করাকে অনলাইন বিজনেস বলা যায়। আমাদের দেশের বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানি যেমন দারাজ, রকমারি এরা অনলাইন বিজনেস করছে। 

এরা অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের কাছে তাদের পণ্য বিক্রয় করছে। অনলাইন বিজনেস কে সংক্ষেপে ই-কমার্স ও বলে থাকেন অনেকে। আজকে আমরা অনলাইন বিজনেস কি? কিভাবে শুরু করব? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো আমাদের এই পোস্টে।

অনলাইন বিজনেস কি?
অনলাইন বিজনেস কি? কিভাবে শুরু করবেন?

আর্টিকেল সূচি

অনলাইন বিজনেস কি? (What is Online Business)

আগেই বলা হয়েছে যে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বিজনেস করাকেই অনলাইন বিজনেস বলে। অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো পণ্য তা যদি দেশের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় তবে বিক্রয় করা যায়।

যেমন ধরুন বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম পণ্য খাদ্যদ্রব্য সহ প্রায় সব রকমের জিনিস অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয় করা হচ্ছে।

সুতরাং সহজ কথায় বলা যায় যে দেশের আইনের সাথে যদি সাংঘর্ষিক না হয় তবে সব ধরনের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করা যায়। দেশের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এরকম একটি পণ্যের উদাহরণ দেওয়া যায় যে বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য বিক্রয়।

মাদক দ্রব্য বিক্রয় করা বাংলাদেশের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং, মাদকদ্রব্য কোন অনলাইনে পেজ বা ওয়েবসাইট বিক্রয় করাও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হবে।

সুতরাং অনলাইনে বিজনেস করতে গেলে আপনি দেশের আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যে কোন ধরনের পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন।

অনলাইন ও অফলাইনে বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য

এতক্ষণ তো অনলাইন বিজনেস কি জানলাম। এখন জানব অনলাইন অফলাইন বিজনেস এর মধ্যে কি কি পার্থক্য আছে। অনলাইন বিজনেস বিভিন্ন রকমের হতে পারে। 

আবার আমরা সাধারণত দোকানপাটে বা শপিংমলে যে ধরনের বিজনেস দেখি সে গুলোকে অনলাইন বিজনেস এর অন্তর্ভুক্ত বলা চলে। অর্থাৎ অনলাইন বিজনেস হচ্ছে এমন বিজনেস যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা উপস্থিত থেকে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করে থাকে।

অফলাইন বিজনেস এবং অনলাইন বিজনেস এর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। যেমন-

সুনির্দিষ্ট জায়গা 

অফলাইন বিজনেস করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট জায়গা লাগে। যেমন ধরুন কোন দোকানপাট বা শপিংমল বছরের পর বছর তারা একটি জায়গা থেকে ব্যবসা করে। এই ব্যবসা করার জন্য তাদেরকে এই দোকানটি বাড়ি ভাড়া নিতে হয়েছে বা কিনতে হয়েছে।

কিন্তু অনলাইন বিজনেস করার জন্য এমন কোনো সুনির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন নেই। যে কেউ অনলাইনে তার পণ্য থাকলেই অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় করতে পারবে।

পণ্য প্রদর্শন

অফলাইন বিজনেসে বিক্রেতা ক্রেতা কে সামনাসামনি পণ্য প্রদর্শন করে থাকে। বিক্রেতার উপস্থিতিতে ক্রেতা সামনাসামনি পণ্যের যাচাই বাছাই করে নেন। 

কিন্তু অনলাইন বিজনেস এর পদ্ধতি আলাদা। এখানে পণ্য সামনাসামনি প্রদর্শন করা লাগেনা। কোন ফেসবুক পেজ বা কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এখানে বিক্রেতা ক্রেতা কে তাকে তার পণ্য প্রদর্শন করে।

পরিচালনা পদ্ধতি

পরিচালনা পদ্ধতির দিক থেকে বিবেচনা করলে অনলাইনে বিজনেস করা অফলাইনে বিজনেস করার থেকে অনেক সুবিধাজনক। কারণ এখানে ঘরে বসে যে কেউ বিজনেস করতে পারে।

অপরদিকে অফলাইনে বিজনেস করতে হলে কাউকে দিয়ে বা নিজে উপস্থিত থেকে ব্যবসা করতে হয়। 

পন্য হস্তান্তরের নিয়ম

অফলাইনে বিজনেস পরিচালনা করার বিষয়ে আগেই বলা হয়েছে যেখানে বিক্রেতা এবং ক্রেতা সামনাসামনি ক্রয় বিক্রয় করে। সুতরাং এখানে পণ্য যে হস্তান্তর হয় তা প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক হয়ে থাকে।

কিন্তু অনলাইন বিজনেস এর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। অনলাইনে বিজনেস বিক্রেতার স্থান থেকে ক্রেতার স্থানে পৌঁছাতে কিছু সময় লাগে। অর্থাৎ এখানে তাৎক্ষণিক পণ্য হস্তান্তর হয় না। এই সময়ের পরিমাণ বিক্রেতার স্থান থেকে ক্রেতার স্থানের দূরত্ব এর উপর নির্ভর করে।

যেমন বাংলাদেশে বসে বিদেশে অ্যামাজন থেকে পণ্য অর্ডার দেয় তবে তা আসতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। আবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য অর্ডার দিলে তা আসতে সর্বোচ্চ ১ সপ্তাহ লাগে। 

আমরা অনলাইন এবং অফলাইন বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জানলাম। অনলাইন এবং অফলাইন বিজনেস এর উদাহরণ দিতে বলা যায় যে যেমন দারাজ, রকমারি, বিক্রয় এসব বাংলাদেশ অনলাইন বিজনেস করছে। 

আবার অফলাইন বিজনেস এর উদাহরণ আমাদের নিচের মুদি দোকান থেকে শুরু করে শোনা বসুন্ধরা শপিং মলসহ এরকম দোকান।

আমাদের ওয়েবসাইটের আরো পোস্ট:

অনলাইন বিজনেস এর সুবিধা (Benefits of Online Business)

অনলাইন বিজনেস করার অনেকগুলো সুবিধা আছে। যেমন অনলাইন বিজনেস যে কেউ যখন তখন শুরু করতে পারে। কিন্তু অফলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। যেমন ধরুন আপনি কোন খাদ্য দ্রব্য তৈরি করলেন।

এখন আপনি যদি তা সাধারণভাবে অফলাইনে বিক্রি করতে চান তাহলে আপনার একটি দোকান খোঁজা লাগবে। তারপর সেই দোকানের ভাড়া পরিশোধ, কাগজপত্র তৈরি, ট্যাক্স এসব করা লাগবে আপনার পণ্য বিক্রি করার জন্য।

কিন্তু একই খাদ্যদ্রব্য আপনি অনলাইনে কোন ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইট খুলে বিক্রয় করতে চান তবে সাথে সাথে করতে পারবেন। তখন আপনার এত সব ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যাওয়া লাগবেনা। 

অর্থাৎ অফলাইনে বিজনেস করার সময় আপনার দোকান ভাড়া নেওয়া এসবে যে খরচ হতো সে সব খরচ আপনার বেঁচে গেল। অনলাইনে বলা যায় কোন খরচ ছাড়াই আপনি আপনার ব্যবসা এভাবে শুরু করতে পারবেন। এটা হচ্ছে অনলাইন বিজনেস করার মস্ত বড় সুবিধা।

সুতরাং যে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার জন্য মূলধন সংকটে আছেন তারা অনলাইন বিজনেস এর দিকে ঝুকতে পারেন। আবার যে সব ব্যবসায়ী রা বড় অংকের অংকের বিনিয়োগ করতে ইতস্তত বোধ করছেন তাদের জন্য অনলাইন বিজনেস একটি সুবর্ণ সুযোগ এনে দিচ্ছে।

অনলাইনে বিজনেস করা আরেকটি অন্যতম সুবিধা হচ্ছে যে এর পরিচালনা পদ্ধতি। আপনি অনলাইনে বিজনেস পরিচালনা খুব সহজভাবে করতে পারবেন। যেমন অনলাইনে বিজনেসে আপনি সমস্ত হিসাব নিকাশ কোন সফটওয়ারের সাহায্যে সহজেই করতে পারবেন।

এভাবে আপনি একই সাথে একাধিক অনলাইন বিজনেস করতে পারবেন। আপনি ঘরে বসে বিশ্বের যেকোন প্রান্তে আপনার অনলাইন বিজনেস পরিচালনা করতে পারবেন।

অনলাইন বিজনেস পরিচালনা করা খুব সহজেই দিক থেকেও যে যে কেউ ইন্টারনেটের সামান্য জ্ঞান থাকলেই অনলাইন বিজনেস করতে পারবে। যেমন ধরুন ফেসবুকে তো সবারই চ্যাট করে অভ্যাস আছে।

এখন অনলাইনে ফেসবুকে যদি কোন পেজ খোলা হয় তবে বিক্রেতাকে ক্রেতার সাথে চ্যাট বক্সে তার পণ্য সম্পর্কে বলতে হবে। এগুলো খুবই সহজ কাজ। এই সহজলভ্যতার জন্যই দেখা যায় যে বাংলাদেশে অনেক প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের এখন অনলাইন ব্যবহার করে ব্যবসা করছে।

দূরবর্তী অঞ্চল থেকে পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বিক্রয় করা ও অনলাইনে বিজনেস করার একটি সুবিধাজনক দিক। যেমন ধরুন উত্তরাঞ্চলের আমের কথাই বলা যাক। উত্তরাঞ্চলের আম চাষিরা কয়েক বছর আগেও তাদের আমের জন্য ভালো দাম পেত না।

কিন্তু তাদের মধ্যে এখন অনেকেই অনলাইনে বিজনেস করা শিখে গেছে। যার ফলে এই আম চাষিরা অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতাদেরকে তাদের আম প্রদর্শন করছে।

ক্রেতাদের যদি আম পছন্দ হয় তবে তারা খুব ভালো দাম দিয়ে এই তা কিনে নিচ্ছে। এর ফলে আমচাষীদের জীবন মানে যেমন পরিবর্তন এসেছে তেমনি তারা কাঙ্খিত আমের দামও পাচ্ছে।

অনলাইনে এভাবে বিজনেস করার ফলে অনেক জায়গায় এভাবে বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে দূরত্ব কমে এসেছে। অর্থাৎ মাঝখানে যে মধ্যস্বত্বভোগী হয়ে পণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি করত তা এখন অনেকাংশে কমে এসেছে অনলাইনে বিজনেস এর কল্যাণে।

বিক্রেতার সাথে এভাবে ক্রেতার সরাসরি সংযোগ স্থাপনে ক্রেতা পাচ্ছে ভালো মানের পণ্য। আবার ঠিক তেমনি বিক্রেতা ও পাচ্ছে তার কাঙ্খিত দাম।

অনলাইন বিজনেস করার আরেকটি সুবিধা হল মহিলারা সহজে অনলাইনে ঘরে বসে বিজনেস করতে পারে। বাংলাদেশে অনেক মহিলারা ঘরের বাহিরে যে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

এসব মহিলারা এখন অনলাইনে বসে থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রয় এ  অংশগ্রহণ করছেন। এর ফলে অর্থনীতি যেমন গতিশীল হচ্ছে ঠিক তেমনি তাদের পরিবারও জীবনযাপন পদ্ধতিতে আসছে পরিবর্তন। 

বাংলাদেশের অনেক বুটিক শপ, কাপড়ের দোকান গড়ে উঠেছে যেখানে মহিলারা ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা করছে।

অনলাইনে বিজনেস করা আরেকটি উল্লেখযোগ্য অসুবিধা হচ্ছে যে এখানে পার্টটাইম কাজ করা যায়। যেমন ধরুন কোন ব্যক্তি কোন অনলাইনে বিজনেস প্রতিষ্ঠান খুলেছে। 

এখন অফলাইনে বিজনেস প্রতিষ্ঠার মত তাকে সারাক্ষণ অনলাইনে বিজনেস প্রতিষ্ঠানে বসে থাকতে হবে না। বরং সে কাজের পাশাপাশি কিছু সময় দিলেই অনলাইন বিজনেস চালানো যায়।

অনলাইন বিজনেস এর জন্য কোন কোনো ক্রেতা তাকে মেসেজ দিবে তখন সে তাকে ওই মেসেজের রিপ্লাই দিতে পারে। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের কাজ করার পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া যায় খুব সহজেই।

অনলাইন বিজনেস করে কত টাকা আয় করা সম্ভব

আপনি হয়তো জেফ বেজোস এর নাম শুনেছেন। জেফ বেজোস হচ্ছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা। অ্যামাজন হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স কম্পানি।

এই অ্যামাজন হচ্ছে জেফ বেজোস এর মূল ব্যবসা আছে অনলাইনে পরিচালনা করে থাকে। এই জেফ বেজোস হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী।

আবার, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের উদাহরণ টানা যায়। সেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একজন ধনী। তার ব্যবসার মূল মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন।

আবার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তর কোম্পানি আলিবাবা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা ও অনলাইনের মাধ্যমে বিজনেস করছেন। অর্থাৎ বিশ্বের অনেক বড় বড় ধনীরা অনলাইনের মাধ্যমে বিজনেস করে তাদের ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

তাই বলা যায় যে অনলাইনে আয় করার সীমা কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। ইংরেজিতে যে প্রবাদটি আছে, “The sky is the limit” অনলাইনে আয়ের পরিসীমার ক্ষেত্রে খাটে।

বাংলাদেশ ও অনেক অনলাইন ব্যবসায়ী আছেন যারা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে কোটিপতি হয়েছেন। আবার অনেকে আছেন যারা অনলাইন ব্যবসা করে তাদের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এভাবে আপনি অনলাইনে বিজনেস করে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারেন। তবে এটার জন্য লাগবে প্রচুর শ্রম, মেধা এবং সময়। যে কোন ব্যবসার মত অনলাইনে ব্যবসা করাতেও অনেক পরিশ্রম দরকার আছে।

আপনার জন্যও আরও পোস্ট: 

অনলাইন ব্যবসা করার জন্য কি কি প্রয়োজন

প্রথমের ব্যবসার কথায় আসা যাক। যে কোন ব্যবসা করার জন্যই আপনার ব্যবসায় বিক্রয় করার জন্য পণ্য লাগবে। অনলাইনে বিজনেস এর ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।

এখানে প্রথমে আপনার কোন পণ্য থাকা লাগবে যা বিক্রয় করে আপনি অর্থ উপার্জন করবেন। অর্থাৎ প্রথম শর্ত হলো আপনার বিক্রয় করার জন্য পণ্য থাকা লাগবে।

তারপর আপনার একটি ইন্টারনেট কানেকশন থাকা লাগবে। একটি ডিভাইস থাকা লাগবে যে ডিভাইসে আপনি ইন্টারনেট সংযোগ করে চালাতে পারবেন। 

এই ডিভাইসটির হতে পারে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি। যে ডিভাইসে হোক না কেন খেয়াল রাখতে হবে যে তাতে যেন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া যায়।

অনলাইন বিজনেস এর জন্য আরেকটি জিনিস জরুরি তা হচ্ছে পণ্য পরিবহন। অর্থাৎ বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার কাছে কোন পণ্য পরিবহন করা। 

তবে পণ্য পরিবহন বর্তমানে খুবই সহজ হয়ে গিয়েছে। অনেক কুরিয়ার সার্ভিস আছে যারা মানুষের বাসায় পণ্য পৌঁছে দিয়ে থাকে। পণ্য পরিবহনের জন্য আপনি এ সকল কুরিয়ার সার্ভিসের সহায়তা নিতে পারেন।

এরপর আপনিই বিভিন্ন মাধ্যম যেমন ফেসবুক বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে পণ্য প্রদর্শন করে বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। 

অনলাইন বিজনেস কিভাবে শুরু করব (How to Start Online Business)

অনলাইন বিজনেস শুরু করার সম্পর্কে অনেকেই সাজেশন চান? আমরা আজকে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করব অনলাইন বিজনেস শুরু করা নিয়ে।

অনলাইনে বিজনেস শুরু করার একাধিক পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে আপনার জন্য জুতসই বা পছন্দনীয় যে কোন পদ্ধতি আপনি আপনার অনলাইন বিজনেস শুরু করার জন্য বেছে নিতে পারেন। 

ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন বিজনেস

ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন বিজনেস বাংলাদেশের প্রচলিত অনলাইন বিজনেস করার পদ্ধতি গুলোর মধ্যে সম্ভবত সবচাইতে জনপ্রিয় পদ্ধতি। বাংলাদেশে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা সকলে ফেসবুক চালাতে পারেন।

ফেসবুক সম্পর্কে সর্বসাধারণের জ্ঞান থাকার কারণে তারা খুব সহজেই কোন একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাদের অনলাইন পেজ খুলে ব্যবসা করতে পারেন। 

আমরা এখানে আলোচনা করব কিভাবে আপনি নিজস্ব একাউন্ট থেকে বা গ্রুপ খুলে বা পেজ খুলে অনলাইন বিজনেস করতে পারেন।

নিজস্ব একাউন্ট থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়

আমাদের প্রায় সকলেরই একটি নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। এই ফেসবুক একাউন্টে আমাদের পরিবারের আত্মীয়-স্বজন, আমাদের বন্ধু-বান্ধব এবং অনেকের ফেসবুক একাউন্টে অনেক না জানা বন্ধুবান্ধব সংযুক্ত থাকে।

আপনি কোনো পণ্য বিক্রয় করতে চাইলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পণ্যের বার্তা ফেসবুকের ফ্রেন্ড এর কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। তাদের মধ্যে যদি কেউ কিনতে আগ্রহী থাকে তখন তারা এই ফেসবুক আইডির মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে নেয়।

এই পদ্ধতির অনেক সুবিধা আছে কিন্তু এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে উপযুক্ত নয়। এই পদ্ধতির আরেকটি সমস্যা হল যে এখানে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত পোস্ট গুলো শুধু আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড দের এই নজরে আসবে।

ফেসবুক ফ্রেন্ড সার্কেলের বাইরে অন্যান্য মানুষ আপনার পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে না। তাই প্রাথমিকভাবে এ ধরনের পদ্ধতি দিয়ে আপনি আপনার বিক্রয় শুরু করতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে অন্য ধরনের স্ট্রাটেজি যেমন গ্রুপ খুলে বা পেজ খুলে পণ্য বিক্রয়ের দিকে যেতে হবে। 

প্রাথমিক অনলাইন বিজনেস শুরু করার জন্য নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুকে পণ্য বিক্রয় একটি চমকপ্রদ আইডিয়া। 

পেজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় 

পেজ খুলে পণ্য বিক্রয় করা একটি সুবিধাজনক এবং একটি দীর্ঘমেয়াদে উপযুক্ত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার অনেক সুবিধা আছে। যেমন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুক থেকে বুস্ট করতে পারবেন।

এখানে আপনার পেজে যারা লাইক করে বা ফলো করে তারা সকলেই আপনার পণ্য সম্পর্কিত পোস্ট গুলো দেখতে পাবে। ফেসবুক পেজ আপনি আপনার একাউন্টের মাধ্যমে খুলতে পারেন।

তারপর এই পেইজে আপনি আপনি সহ একাধিক এডমিন এড করতে পারেন। এই এডমিন গুলো হতে পারে আপনার অন্য আইডি, আপনার পরিচিত মানুষ যারা আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার পেজটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। 

একটি পেজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করলে বহু রকমের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন ধরুন আপনি যে পণ্য বিক্রয় করেন সেই পণ্য কোন ক্রেতা ব্যবহার করে ভাল ফল পেল। এখন এই ক্রেতা সে আপনার পেজে যদি ভালো রিভিউ দেয় তবে তা পেজ এর শুরুতে রিভিউ আকারে প্রকাশ পাবে।

এর মাধ্যমে অন্যান্য ক্রেতারা আপনার পেজ থেকে পণ্য কিনতে উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি আপনি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মেসেজিং সহ অনেক কাজ করতে পারবেন। 

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আরেকটি যে কাজ করা যায় তা হচ্ছে বুষ্টিং। বুষ্টিং বর্তমানে সর্বাধিক জনপ্রিয় পদ্ধতি পণ্য বিক্রয়ের জন্য। বুষ্টিং এ ফেসবুক কে কিছু পরিমাণ টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের কাছে পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায়।

যেমন ধরুন আপনি যদি প্রসাধন সামগ্রী বিক্রি করেন লিপস্টিক বা ফেসওয়াশ ক্রিম যা সাধারণত মেয়েরা বেশি ব্যবহার করে। সুতরাং সহজ হিসাব হল যে মেয়েরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনার পণ্যের ক্রেতা হবে।

এক্ষেত্রে আপনি যা করতে পারে তা হচ্ছে ফেইসবুক বুষ্টিং এর মাধ্যমে শুধু মেয়েদের কেই আপনার বিজ্ঞাপনের লক্ষ বানাতে পারেন। এক্ষেত্রে শুধু মেয়েদের ফেসবুক পেজে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে।

এই বুষ্টিং এর ফলে যেমন আপনার পণ্য বিক্রয় হবার সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি আপনার বিজ্ঞাপন থেকে রিটার্ন অফ ইনভেসমেন্ট এর সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেননা এই ধরনের বুষ্টিং থেকে একটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণীকে টার্গেট করা হচ্ছে যারা ঐ পণ্য বেশি কিনে থাকে। 

বুষ্টিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন আপনি যদি ছবির মাধ্যমে আপনার পণ্যের বুষ্টিং করতে চান তবে তা যেন আকর্ষণীয় হয়। আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন যদি আপনি আকর্ষণীয় করতে চান তবে কোনো গ্রাফিক ডিজাইনার এর সাহায্য নিতে পারেন। 

গ্রাফিক ডিজাইনারদের কে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে ছবির মাধ্যমে যেন আপনার পণ্য সম্পর্কিত বার্তা সংশ্লিষ্ট ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে । যদি ফটো এডিটিং সম্পর্কে আপনার নিজের জ্ঞান থাকে তবে আপনি নিজেও এই গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজটি করতে পারেন।

এখানে মূল বিষয়টি হচ্ছে যে আপনার পণ্যের বার্তা সুন্দরভাবে আপনার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো। 

আবার অনেকে এখন ছবির মাধ্যমে শুধু বিজ্ঞাপন না দিয়ে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তাদের পণ্যের প্রচারণা চালাতে চায়।  ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণা চালাতে চাওয়া খুবই ভাল একটি পদ্ধতি।

অনেক সময় দেখা যায় যে ভিডিও অনেক লম্বা হয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতারা পুরোটি ভিডিও দেখতে আগ্রহ বোধ করেন না। এসব ক্ষেত্রে মূল মেসেজ অনেক সময় তাদের সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে এসে পৌঁছায় না।

সুতরাং ভিডিওটি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত রেখে বার্তাটি কাঙ্খিত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি ভিডিও কোয়ালিটি উত্তম হতে হবে। 

পণ্যের বুষ্টিং করার জন্য আমি বলব ভিডিওগ্রাফি সবচাইতে উত্তম পদ্ধতি। কারণ ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পণ্য সম্পর্কিত বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া আরো সহজ হয়ে যায়। তবে ভিডিওগ্রাফি ছাড়াও আপনি সুন্দর করে ছবির মাধ্যমেও আপনার পণ্য সম্পর্কিত বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। 

ছবি বা ভিডিও ছাড়াও অনেকে শুধু কোন ছোট গল্পের মাধ্যমে ফেসবুকে বুষ্টিং করে থাকে। তবে এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর পদ্ধতি অন্যান্য পদ্ধতি গুলোর তুলনায়।  

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করতে চাইলে পোস্টিং এর জন্য ভিডিওগ্রাফি বা ছবি মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেয়ায় সবচাইতে ভালো

গ্রুপ খুলে ফেসবুকে পণ্য বিক্রয়

গ্রুপ খুলে ফেসবুকের পণ্য বিক্রয় অন্যতম আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। এতে পণ্য বিক্রয় এর নিয়ম হলো আপনাকে গ্রুপের এডমিন হওয়ার পর যত বেশি পারেন সদস্য এড করতে হবে।

যত বেশি সদস্য হবে পণ্য বিক্রয় হবার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। তবে গ্রুপ করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে গ্রুপ এর নিয়ন্ত্রণ যেন আপনার হাতে থাকে।

বাংলাদেশ দেখা যায় যে অনেকে কমন গ্রুপের মাধ্যমে বা নিজের সুনির্দিষ্ট গ্রুপের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে থাকে। কমন গ্রুপ হচ্ছে একটি প্ল্যাটফর্ম এর মত যাকে বাণিজ্যমেলার সাথে তুলনা করা যায়।

বাণিজ্য মেলায় যেমন অনেকগুলো বিক্রেতা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে ঠিক তেমনি কমন গ্রুপগুলোর অবস্থাও তদ্রুপ। এখানে নিয়ম হচ্ছে যদি এখানে পোস্ট করতে হয় তবে এডমিনকে কিছু পরিমাণ অর্থ দিতে হয়।

আবার অনেক কমন গ্রুপগুলো নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য যোগ করতে হয়।  অনেক জায়গায় কমন গ্রুপ গুলো তে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভেরিফিকেশন করার পর গ্রুপে পোস্ট করা যায়।

মূল কথা হলো গ্রুপগুলোর এডমিন যেভাবে চান সেভাবে তারা পোস্ট করার নিয়ম নীতি তৈরি করতে পারেন। সেই নিয়মনীতি মেনে একজন বিক্রেতা ওই গ্রুপে পোস্ট করতে পারেন।

আবার অনেকে নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করে এই গ্রুপের মাধ্যমে তারা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেন। এর মাধ্যমে তারা তাদের পণ্য বিক্রয় করে থাকেন।

সর্বোপরি ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রয় করে অনেকে অনলাইন বিজনেস করছেন।

সার্বিক বিবেচনায় আমরা বলবো ফেসবুকে যে পদ্ধতি সবচাইতে উত্তম পণ্য বিক্রির জন্য তাহল ফেসবুকে পেজ খুলে পণ্য বিক্রয় করা।

ইন্সটাগ্রাম এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়

ফেসবুকের পর বাংলাদেশের ইনস্টাগ্রামে একটি বহুল ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া সাইট। যদি ফেসবুকের পর বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকে তবে তা হল ইনস্টাগ্রাম।

ইন্সটাগ্রাম এর বৈশিষ্ট্য হলো ইনস্টাগ্রামে ছবি শেয়ার করার জন্য একটি বিশেষায়িত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা ছবি বা লেখা বা ভিডিও ইত্যাদি শেয়ার করে থাকি। কিন্তু ইন্সটাগ্রাম এর মূল বিষয় হচ্ছে ছবি।

ছবি ছাড়া ইনস্টাগ্রামে এমনকি কোন লেখা শেয়ার করা যায় না। যদি কোন লেখা শেয়ার করতে হয় তবে তা কোন ছবির নিচে লিখে শেয়ার করতে হয়। ইন্সটাগ্রাম এর মূল ব্যবহারকারীরা মূলত তরুণ-তরুণী।

সুতরাং কোনো বিক্রেতার যদি সম্ভাব্য ক্রেতারা বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী হয় তবে তাদের পণ্যের প্রচারণার জন্য ইনস্টাগ্রম দুর্দান্ত একটি জায়গা।

বাংলাদেশে অনেক পোশাকের ব্র্যান্ড ইন্সটাগ্রাম এর মাধ্যমে মূলত তাদের পণ্য বিক্রয় করে থাকে। ইনস্টাগ্রামে যেহেতু খুব সহজে হাই কোয়ালিটির ছবি আপলোড করা যায় কাজেই পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো বিশেষভাবে ইনস্টাগ্রাম কে টার্গেট করে। 

পণ্য বিক্রয় করার ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে ছবি দেওয়া হয় তার কোয়ালিটি যেন খুবই উন্নত মানের হয়। যেহেতু ইনস্টাগ্রাম ছবির জন্য বিশেষায়িত একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সুতরাং কোন লো কোয়ালিটির ছবি শেয়ার করা উচিত না ।

ইনস্টাগ্রামে পণ্য বিক্রয় করার জন্য বুস্টিং করার পাশাপাশি ইনস্টাগ্রম ইনফ্লুয়েন্সের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। ইনস্টাগ্রম ইনফ্লুয়েন্সার দের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়ানো যেতে পারে এবং পেজে ফলোয়ার সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।

ইন্সটাগ্রাম এর সবচাইতে বড় সুবিধা বাংলাদেশ হলো এখানে অনেক ব্যবহারকারী থাকলেও বিক্রেতার সংখ্যাও অনেক কম। তাই ফেসবুক এ যেমন খুবই কড়া প্রতিযোগিতা হয় বিক্রেতাদের মাঝে এখানে প্রতিযোগিতা অনেক কম হবে।

কম্পিটিশন এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের থেকে অনেক কম এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে। ইনস্টাগ্রামে একাউন্ট খুলে আপনি আজই শুরু করতে পারেন আপনার অনলাইনে বিজনেস। 

অনলাইন ই কমার্স প্লাটফর্মে অনলাইন বিজনেস

বাংলাদেশে বিভিন্ন অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আছে। বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এর মধ্যে আছে দারাজ, রকমারি, বিক্রয় ইত্যাদি ই-কমার্স ই প্লাটফর্ম। 

এসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দেশে অনেক দিন ধরে ব্যবসা করছে এবং তারা সফলতার সাথে তাদের ব্যবসা বাংলাদেশ এ পরিচালনা করছে। 

একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম এ যদি আপনি ভিজিট করেন তবে আপনি সেখানে প্রায় সকল ধরনের পণ্য পাবেন। আপনার নিত্য ব্যবহার্য পণ্য যেমন থালা-বাসন থেকে শুরু করে দরজা এবং এমনকি মোবাইল পর্যন্ত পাওয়া যাবে। 

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে সবকিছু যদি এই ই-কমার্স থেকে আপনি ব্যবসা করবেন কিভাবে? এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবসা বোঝার জন্য আপনাকে এদের বিজনেস মডেল প্রথমে বুঝতে হবে।

সাধারণত এই ই-কমার্স প্লাটফর্ম গুলো দুইটি বিজনেস মডেল ফলো করে। এর প্রথমটি হচ্ছে যে তারা নিজেরাই কিছু প্রোডাক্ট বিক্রি করে থাকে। তবে এই ধরনের প্রোডাক্টের সংখ্যা খুবই কম।

আর দ্বিতীয় বিজনেস মডেল হচ্ছে যে তারা বিভিন্ন বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যগুলো নিয়ে তাদের পণ্য গুলো ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করে। ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করার পর কোনো ক্রেতা ওই পণ্যটি কিনে নিল। তখন পন্যের সর্ব মোট দাম থেকে কিছু পরিমাণ অর্থ এই ই-কমার্স প্লাটফর্ম গুলোকে দিতে হয়।

এই অর্থের পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ওপর বিভিন্ন রকম হয়। যেমন কোন কোন পণ্যের ওপর ই-কমার্স কোম্পানিগুলো ৫% চার্জ নিয়ে থাকে। অর্থাৎ কোন পণ্যের দাম যদি একশ টাকা হয় তবে এই কোম্পানিগুলো ওখান থেকে ৫ টাকা নিবে।

আবার কোনো কোনো পণ্যের ওপর তারা দশ পার্সেন্ট পর্যন্ত চার্জ ধার্য করে থাকে। তবে কোন পণ্যের ওপর কি পরিমান চার্জ তারা ধার্য করবে তা পূর্বে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে।

যারা এরকম বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে পণ্য বিক্রয় করে থাকেন তাদের কে থার্ড পার্টি সেলার বলা হয়। আপনি এরকম একজন থার্ড পার্টি সেলার হয়ে এই সকল ইস কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার পণ্য বিক্রয় করতে পারেন।

এসকল ই-কমার্স প্লাটফর্ম গুলোর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে যে এখানে পণ্যের জন্য আপনার আলাদা কোনো বিজ্ঞাপন করা লাগছে না। 

এই ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভিজিটর ভিজিট করেন। ভিজিটররা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাদের জিনিসপত্র খুঁজে থাকেন। আবার এইসব ই-কমার্স প্লাটফর্ম গুলো নিজে উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন রকম ওয়েবসাইট যেমন ইউটিউব ফেসবুক এও বিজ্ঞাপন দেয়।

সেখান থেকেও অনেক মানুষ ওয়েবসাইটে ভিজিট করে থাকে। ধরুন আপনি এই ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করেন। এখন যখনই কেউ এরকম খেলনা লিখে সার্চ দিবে তখন সে এই ক্যাটাগরিতে আপনার প্রোডাক্ট দেখতে পাবে।

এভাবে আপনি বিজ্ঞাপনের পিছনে বিন্দুমাত্র ইনভেস্ট না করে সকল ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ আপনার পণ্য প্রদর্শন করে আয় করতে পারেন। 

তবে এই ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো থেকে অর্থ উপার্জন করার কিছু নিয়ম নীতি মালা আছে। যেমন আপনাকে ভালো প্রোডাক্ট দিতে হবে। আপনি যদি খারাপ প্রোডাক্ট দিয়ে মনে করেন যে কাস্টমারদের কেউ ধরতে পারবেন না তবে এটা আপনার ভুল ধারণা।

কারণ এখানে রিভিউ এবং রেটিং সিস্টেম আছে। যদি আপনি খারাপ প্রোডাক্ট দেন তবে আপনার রিভিউ এবং রেটিং কমে যাবে যাবে অন্য কাস্টমাররা দেখতে পাবে। ফলশ্রুতিতে আপনার পণ্যের বিক্রি কমে যাবে। 

সুতরাং আপনাকে অবশ্যই উন্নত মানের পণ্য এই ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে বিক্রি করতে হবে। আবার কাস্টমাররা ফেরত দেওয়ার অপশন রাখেন এখানে। সুতরাং কাস্টমাররা যে প্রোডাক্ট চাইবে সেই প্রোডাক্টটি আপনাকে দিতে হবে। 

এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিযোগিতাও অনেক তুমুল হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যায় যে একটি পণ্যের জন্য অনেকজন করে থার্ড পার্টি সেলার থাকে।

সুতরাং আপনার উচিত যে পণ্যের দাম যথাসম্ভব কম রাখা যেন কাস্টমাররা আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়। পাশাপাশি কাস্টমারকে ভালো রিভিউ দিতে উৎসাহিত করা যেন এই রিভিউ দেখে অন্য কাস্টমাররা পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়।

ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে বিজনেস

ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে বিজনেস করা অনলাইনে বিজনেস করার আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বিজনেস করার অনেক অনেক সুবিধা আছে। 

আমরা এখন ওয়েবসাইটের অনলাইনে বিজনেস কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। পাশাপাশি ওয়েবসাইটে বিজনেস করার সুবিধা এবং এর অন্যান্য কিছু দিক নিয়েও আলোচনা করব। 

পূর্বে আমরা অনলাইন ওয়েবসাইটে প্লাটফর্মের কথা বলেছি যেখানে হাজার হাজার ভিজিটর থাকে। আমরা এখন এমন একটি ওয়েবসাইটের কথা বলব যে সকল ওয়েব সাইট আপনি আপনার পণ্যের জন্য সুনির্দিষ্ট ভাবে তৈরি করবেন। 

অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে কোন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট অনলাইন ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম ছাড়া আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইন বিজনেস করবেন। 

এ ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি ডোমেইন নেম ও হোস্টিং কিনতে হবে। আপনি কোন প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন।

ওয়েবসাইট এর সুবিধার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আপনি যেভাবে চান সেভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারবেন। যেমন ধরুন কালার, ফন্ট, পেজের লেআউট এসব বিষয়ের উপর আপনার একচ্ছত্র অধিপত্য থাকবে। 

আপনি যেভাবে চান যেমন চান ঠিক সেভাবেই কালার, ফন্ট, পেজের লেআউট ডিজাইন করতে পারবেন। ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি এই ডিজাইনিং এর সুবিধাটি পাবেন না।

তাদের নির্ধারিত কালার, লে-আউট, ফন্টেই আপনার ওয়েব পেজটি ডিজাইন করতে হবে এ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপনি নিজের ইচ্ছা মতন বিভিন্ন বাটন যোগ করতে পারবেন বা বিভিন্ন ডিজাইন অ্যাড করতে পারবেন।

নিজের একটি ওয়েবসাইট থাকলে আপনি অনেক কিছুতেই স্বাধীনতা পাবেন। যেমন ধরুন যারা শুধু ফেসবুক এর ওপর নির্ভর করে পণ্য বিক্রি করে তাদেরকে অনেক রেস্ট্রিকশনের মধ্যে থাকতে হয়। 

যেমন ফেসবুকে যদি কেউ ঘনঘন তার পোস্ট গুলো বুস্ট না করে তবে ফেসবুক পেজের রিচ কমিয়ে দেয়। কিন্তু এসইও করে যদি আপনি অর্গানিক ভাবে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে পারবেন তবে আপনার পেজে ভিজিটর কমবে না। 

যদি বাংলাদেশের বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো আপনি দেখেন তবে তারা সকলে নিজস্ব ওয়েবসাইট এর উপর নির্ভরশীল। দারাজ, রকমারি বা বিক্রয় এদের সকলেরই বিক্রয় কেন্দ্র বা বিক্রয়ের স্থান বলা যায় তাদের ওয়েবসাইট।

বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ আছে। তবে এই পেজের মাধ্যমে তারা মূলত তাদের ব্যবসার বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করে থাকেন। খুব কম বড় বড় ওয়েবসাইটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন।

সুতরাং আপনি যদি আপনার পণ্য বৃহৎ আকারে এবং স্থায়ীভাবে বিক্রয় করতে চান তবে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকা অত্যন্ত জরুরী। ওয়েবসাইট হলো পার্মানেন্ট ডিজিটাল অ্যাড্রেস। 

একটি ওয়েবসাইট থাকা মানে আপনার গ্রাহকের আপনার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাওয়া। কারণ ফেসবুক পেজ বা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট পেজ যে কেউ চাইলেই খুলতে পারে। এখানে গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারটা কম থাকে।

কিন্তু ওয়েবসাইট যে কেউ চাইলেই খুলতে পারেনা। একটি ওয়েবসাইট খোলার জন্য অনেক পরিশ্রম, মেধা দরকার হয়। তাই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একটি পদ্ধতি।

আবার ওয়েবসাইট খোলার অন্যান্য কিছু দিক ও আপনাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন ওয়েবসাইট খোলার জন্য আপনাকে কিছু পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে।

তারপর ওয়েবসাইট রিচ বাড়ানোর জন্য আপনাকে বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ খরচ করতে হবে। কিন্তু একবার যদি আপনার ওয়েবসাইট এ রেগুলার ভিজিটর আসে তবে আপনার পণ্য বিক্রয় নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হবে না। 

রেগুলার ভিজিটর থাকা একটি ওয়েবসাইটের পণ্য বিক্রয়ের জন্য খুবই সহায়তা করে। এভাবে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে আপনি অনলাইনে বিজনেস করতে পারেন এবং আয় করতে পারেন।

বাংলাদেশ বসে বিদেশে অনলাইনে বিজনেস

আপনি যদি মনে করেন যে অনলাইনে বিজনেস করে শুধু আপনি বাংলাদেশে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন তবে তা ভুল ধারণা। আপনি অনলাইনের মাধ্যমে সারাবিশ্বে আপনার পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন।

এখন আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশে বসে আপনি কিভাবে বিদেশে অনলাইনে বিজনেস করতে পারেন।

অনলাইনে যে সকল পণ্য বিক্রয় হয় তাকে দুটি ভাগে আমরা এখানে ভাগ করব। প্রথম ভাগে আছে এমন পণ্যগুলো যার কোনো শারীরিক অস্তিত্ব নেই তবে তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কাজে লাগে।

তবে শারীরিক অস্তিত্ব না থাকলেও আমাদের জীবনে অনেক কাজে লাগে এসব পণ্য। যেমন সফটওয়্যার, ই-বুক, অ্যাপস ইত্যাদি। 

এসব পণ্য বিদেশে বিক্রয় করে বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি অনেক অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার, অ্যাপস এ সব বিক্রি করে অনেকেই অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে এবং করছে।

আপনিও এ সকল পণ্য বিদেশে বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। 

দ্বিতীয় ভাগে আছে এমন সব পণ্য যার শারীরিক অস্তিত্ব আছে এবং দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রয়োজনে আমরা ব্যবহার করি। 

এর মধ্যে আছে জুতা কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে থালা-বাসন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইত্যাদি। বিদেশে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেমন অ্যামাজন, ইবে যেখানে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করা যায়।

আমরা বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে তৈরি করে বা কিনে বিদেশে এসকল ওয়েবসাইটগুলোতে বিক্রয় করতে পারি। তবে বাংলাদেশে বসে এ ধরণের ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রয় করার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদেশে একজন পার্টনার এর প্রয়োজন হয়।

এসকল ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রয় করার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে। বাংলাদেশের এসব আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করা খুবই জটিল কাজ। 

এজন্য বিদেশে কারও সাথে পার্টনারশিপ এর মাধ্যমে ব্যবসা করলে এভাবে বিভিন্ন ওয়েব সাইটগুলোতে পণ্য বিক্রয় করা খুবই সুবিধাজনক হয়। 

বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটির মত প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করে। আপনি আপনার কোনো পরিচিত প্রবাসীর মাধ্যমে বিদেশে পার্টনারশিপ এর মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করতে পারেন।

এই পদ্ধতিতে প্রথমদিকে কাগজপত্র পূরণে একটু ঝামেলা হবে। তবে এ পদ্ধতিতেসবচাইতে সুবিধাজনক যেটা সেটা হল এখানে পণ্যের অনেক ভালো দাম পাওয়া যায়।

যেমন বাংলাদেশে পণ্য বিক্রয় করে উপার্জিত অর্থের কমপক্ষে দ্বিগুণ বিদেশে পণ্য বিক্রয় করে উপার্জন করা যায়। 

বাংলাদেশ অনলাইন বিজনেস এর অপার সম্ভাবনা

আমরা আগেই বলেছি যে অনলাইন বিজনেস কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগ। আমাদের দেশে এখনও অনেক প্রান্তে ইন্টারনেট সংযোগ সেভাবে পৌঁছায়নি।

আবার অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও তাঁর গতি অত্যন্ত ধীর। তবে আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট এর সংযোগ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নতুনভাবে ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত হচ্ছে। যত বেশি মানুষ ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হবে ততো বেশি অনলাইন বিজনেস বাড়বে। 

বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের দেশ। এখনো বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত না। তবে আর্থসামাজিক পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সাথে সাথে আরও মানুষজন ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে।

আবার অনলাইনে বিজনেস এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে বাংলাদেশে এখনও অনলাইনে বিজনেসে কম্পিটিশন কম। অ্যামাজন ইবে এর মত আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এখনো বাংলাদেশে অনলাইনে ব্যবসা করতে আসে নি।

সুতরাং বাংলাদেশের অনলাইনে বিজনেস এর বৃহত্তর সম্ভাবনা আছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশের যখন করোনাভাইরাস আসে তখন বাংলাদেশের প্রায় সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু এর মধ্যেও কিন্তু অনলাইন বিজনেস খোলা ছিল। করোনাভাইরাস এ অনলাইন বিজনেস খোলা থাকার কারণ হলো অনলাইন বিজনেস ঘরে বসে পরিচালনা করা যায়।

অফলাইন বিজনেস এর মত অনলাইন বিজনেসে বিক্রেতা ক্রেতার সামনাসামনি ক্রয়-বিক্রয় পরিচালনা করার দরকার হয় না। তাই করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে অনলাইন বিজনেস খোলা ছিল।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তে অনেক ব্যবসায়ী অনলাইনে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করেছে। তাই বলা যায় যে বাংলাদেশ অনলাইন বিজনেস এর অপার সম্ভাবনা আছে। ইতোমধ্যে অনলাইন বিজনেস এর কারণে বাংলাদেশের লক্ষাধিক কর্মসংস্থান হয়েছে

অনলাইন বিজনেস আইডিয়া

আজকে আমাদের এই লেখাটি পড়ার পর হয়তো আপনার মনে হল যে আপনি অনলাইনে বিজনেস করতে চান। কিন্তু কি বিজনেস করতে চান তা হয়তো আপনি নির্ধারণ করতে পারছেন না। আমরা এটার জন্য আপনাকে এখানে কিছু অনলাইনে বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করব।

মার্কেট রিসার্চ

অনলাইনে বিজনেস করার জন্য অনেক ধরনের আইডিয়াই হয়তো আপনার মাথায় আছে। আমরা এখন আপনাকে এমন একটি পদ্ধতি শেখাব যেখানে আপনি অনলাইন বিজনেস এর জন্য নিজে থেকেই আইডিয়া বের করতে পারবেন। 

মার্কেটে রিসার্চের মাধ্যমে আপনি নিজে থেকে অনলাইন রিসার্চের জন্য বিভিন্ন আইডিয়া বের করতে পারবেন। মার্কেট রিসার্চ হচ্ছে এমন পদ্ধতি যেখানে আপনি কোন পণ্যের দাম, বর্তমান বাজার চাহিদা,সম্ভাব্য লাভ ক্ষতির হিসেব করবেন।

মার্কেট রিসার্চ এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন প্রোডাক্ট এর চাহিদা বর্তমানে মার্কেটে আছে। মার্কেট রিসার্চ এর মাধ্যমে আপনি এটাও বুঝতে পারবেন যে এই পণ্যটি নিয়ে ব্যবসা আপনার জন্য কতটুকু লাভজনক হবে।

মার্কেট রিসার্চ এর বর্তমান উদাহরণ যদি আমি দেই তবে বলা যায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। যেমন ধরুন করোনাভাইরাস এর সময় ল্যাপটপ এর চাহিদা বাংলাদেশে অনেক বেড়ে যায়।

অনেক চাকরিজীবী কে ঘরে বসে কাজ করতে হয়, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজের জন্য ল্যাপটপ এর প্রয়োজন পড়ে। 

পূর্বে ল্যাপটপের যে বাজার চাহিদা ছিল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ল্যাপটপের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই ল্যাপটপের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু দেখা যায় যে চাহিদার তুলনায় ল্যাপটপের যোগান অত্যন্ত কম। এখন অনেকেই মার্কেটে রিসার্চ করার পর দেখে যে নতুন ল্যাপটপ দিয়ে যে কাজ করা যায় পুরাতন ল্যাপটপ দিয়েও ওই কাজ করা যায়।

সুতরাং অনেকে পুরাতন ল্যাপটপ এর বিজনেস শুরু করে অনলাইনে। এখন যারা পুরাতন ল্যাপটপ এর বিজনেস করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নতুন করে শুরু করেছে তাদের অনেকেই সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ব্যবসা থেকে তারা প্রচুর লাভ করেছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নতুন করে ল্যাপটপ এর বিজনেস শুরু করা হচ্ছে সফল মার্কেট রিসার্চ এর একটি উদাহরণ।

এভাবে আপনি যদি মার্কেটপ্লেস রিসার্চ করেন তবে আপনি অনেকগুলো বিজনেস আইডিয়া পেতে পারেন।

পুরাতন জিনিস বিক্রয় করে 

অনলাইনে আপনি যেভাবে ব্যবসা শুরু করতে পারেন তার অন্যতম হলো পুরাতন জিনিস বিক্রয় করে। আমার নিজের কথা যদি বলি তবে আমি অনলাইন এ ব্যবসা শুরু করেছিলাম আমার পুরাতন বই বিক্রি করে।

আপনার বাসায় এমন অনেক জিনিস থাকে যেগুলো হয়তো এখন আপনার কাজে লাগে না কিন্তু অন্যের জন্য খুবই দরকারি। আপনি এরকম জিনিস অনলাইনে বিক্রয় করতে পারেন।

বাংলাদেশ পুরাতন জিনিস বিক্রয় করার জন্য bikroy সহ অনেক ওয়েবসাইট আছে। আবার কিছু ফেসবুক গ্রুপ আছে যেখানে পুরাতন জিনিস ক্রয় বিক্রয় করা হয়। 

এগুলো জায়গায় আপনি আপনার পুরাতন জিনিস বিক্রয় করে অনলাইনে বিজনেস শুরু করতে পারেন।

কাপড় বিক্রয় করে 

কাপড় বিক্রি করে আপনি অনলাইন থেকে সহজে আয় করতে পারেন। বাংলাদেশে এমন হাজার হাজার ফেসবুক পেজ আছেন যারা কাপড় বিক্রি করে অনলাইনে ব্যবসা করছে। 

কাপড় আমাদের নিত্য ব্যবহার্য একটি জিনিস যা আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে কিনতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে আমরা আমাদের পছন্দ মত কাপড় আমাদের দোকানগুলো থেকে পাইনা।

এজন্য অনেকেই অনলাইনমুখী কাপড় কেনার জন্য। আপনি যদি নতুন নতুন ডিজাইনের কাপড় এনে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন তবে তা খুবই লাভজনক ব্যবসা হবে।

প্রসেসড ফুড বিক্রয় করে

প্রসেসড ফুড বিক্রয় করে আপনি অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন। আপনি বাসার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে তা অনলাইনে সরবরাহ করতে পারেন। 

প্রসেসড ফুড এর বিশেষ টার্গেট হলো যারা মেসে থাকে। অনেক সময় যারা মেসে থাকে তারা ব্যস্ততার কারণে তাদের রান্নাবান্না নিজেরা করে খেতে পারে না। 

এরকম অনেকেই সময় স্বল্পতার জন্য রান্নাবান্নার কাজটি করতে পারে না। তারা হতে পারে আপনার প্রসেসড ফুড অনলাইন বিজনেস এর জন্য কাঙ্খিত টার্গেটেড কাস্টমার।

এই পদ্ধতিতে আপনি অনেক আয় করতে পারেন। ফুডপান্ডা পাঠাও সহ বিভিন্ন অ্যাপের সাথে আপনি আপনার প্রসেসড ফুড ডেলিভারি দেওয়ার চুক্তি করতে পারেন। 

আবার আপনি নিজেও ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি গ্রাহকের কাছে আপনার প্রসেসড ফুড পৌঁছে দিতে পারেন। 

বই বিক্রি করে

বইয়ের চাহিদা সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। আমাদের সবার বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার দরকার হয় একাডেমিক পড়াশোনার জন্য। আবার অনেকেই গল্পের বই পড়ে থাকে।

আপনি অনলাইনে বই বিক্রয় করে ব্যবসা করতে পারেন। বইয়ের সুবিধা হচ্ছে বই আপনি সহজেই অল্প দামে কিনে তা অনলাইনে লাভে বিক্রি করতে পারেন।

অনলাইনে অনেক সময় দেখা যায় যে অনলাইন বই বিক্রেতারা দোকানে বিক্রেতাদের থেকে দাম কম রাখে। কারণ দোকানের বিক্রেতাদের দোকান খরচ, কর্মচারী খরচ অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়।

কিন্তু অনলাইনে বই বিক্রয় করলে এই ঝামেলা নাই। কারণ এখানে কোন দোকান খরচ, কর্মচারী খরচ নাই। কাজে আপনি বই এর দাম অন্যান্য অনেক অফলাইন দোকানের থেকে কম রাখতে পারবেন।

পুরাতন বই, নতুন বই ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ফেসবুকে অনেক গ্রুপ আছে। আপনি এসব গ্রুপের মাধ্যমে বা নিজেও কোন পেজ খুলে বা ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে বই বিক্রয় করতে পারেন।

প্রসাধন সামগ্রী বিক্রয় করে অনলাইনে বিজনেস

মেয়েরা তাদের সাজসজ্জার কাজে বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে। এই প্রসাধন সামগ্রীর মধ্যে আছে মেকআপ, ফেসওয়াশ, লিপস্টিক ইত্যাদি। এসব প্রসাধন সামগ্রী মেয়েরা সারা বছরই ব্যবহার করে থাকে।

এসব প্রসাধন সামগ্রী আপনি পাইকারি দরে কিনে অনলাইনে বিজনেস করতে পারেন। বলাবাহুল্য যে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এই সকল প্রসাধন সামগ্রী মেয়েরা সহজে পায় না।

এমন এলাকার মেয়েদের কে টার্গেট করা উচিত প্রসাধনসামগ্রীর সম্ভাব্য কাস্টমার হিসেবে যাদের এলাকায় এসব জিনিস সহজে পাওয়া যায় না।

আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জিনিস বিক্রয় করে

আপনার কাছে হয়তো অনেক জিনিস আছে যা আপনি সহজেই আপনার আশেপাশের জায়গা থেকে পেতে পারেন। কিন্তু অন্য অনেকের জন্য এই পণ্যটি পাওয়া সহজ লভ্য নয়। 

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চল এর এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। এক অঞ্চলের জিনিস অনেক সময় আরেক অঞ্চলে পাওয়া যায় না। যেমন মনে করুন উত্তরাঞ্চলে আম পাওয়া যায়, দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি, কক্সবাজার বিখ্যাত শুটকির জন্য।

আপনি এরকম আঞ্চলিক পণ্য অনলাইনে বিক্রয় করে আয় করতে পারেন। এর উদাহরণ হিসেবে দেওয়া যায় যে উত্তরবঙ্গে যখন আমের মৌসুম থাকে তখন উত্তরবঙ্গের অনেক ছেলেদের কাছে আম সহজলভ্য।

কিন্তু ঢাকার বা বাংলাদেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষের কাছে ঠিক সেরকম ভাবে আম সহজলভ্য নয়। উত্তরবঙ্গের অনেক ছেলেই এই সুযোগে অনলাইনে আমের বিজনেস করেছে।

তাদের কাছে আম সহজলভ্য ছিল কিন্তু ঢাকার মানুষের কাছে বা অন্য এলাকার মানুষের কাছে তা ছিল দুর্লভ। এই সুযোগে তারা অনলাইনে বিজনেস এর মাধ্যমে আয় করেছে।

এরকম আপনার এলাকার বা আপনার কাছে সহজলভ্য জিনিস আপনি বিক্রয় করে অনলাইনে বিজনেস করতে পারেন।

শেষ কথা,

আজকে আমরা অনলাইন বিজনেস এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানলাম। যে কোন বিজনেস এই একটি মূলমন্ত্র হচ্ছে পরিশ্রম এবং সততা। 

অন্যান্য সকল ব্যবসার মতন অনলাইন বিজনেস ও পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। আবার সততা ও খুবই জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন বিজনেস এর ক্ষেত্রে।

কারণ অফলাইন বিজনেস এ কোন মানুষকে যদি ঠকানো হয় তবে তা অন্য গ্রাহক নাও দেখতে পারে। কিন্তু অফলাইনে বিজনেসের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। 

অনলাইন বিজনেস গ্রাহককে খারাপ পণ্য সরবরাহ করলে তার একটি রিভিউ অন্য গ্রাহকরা দেখতে পারে। তখন সেই গ্রাহকদের মনে আপনার পণ্য সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার উদ্ভব হবে।

এজন্য অনলাইন বিজনেসে সততার সাথে ব্যবসা করা খুবই জরুরী। পণ্য সঠিক সময়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো অনলাইন বিজনেস এর জন্য খুবই জরুরী। 

অনলাইন বিজনেস এ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি কোন কাস্টমার শ্রেণীকে টার্গেট করবেন। কারণ বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কাস্টমার এর মনস্তত্ত্ব বোঝা অত্যন্ত জরুরী। এতে পণ্যের জন্য বিজ্ঞাপন করতে সুবিধা হয় এবং তা খুব কার্যকরীও হয়।

পূর্বেই বলা হয়েছে যে অনলাইন বিজনেস এর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে যে কেউ অনলাইন বিজনেস করতে পারে। কাজেই আপনার হাতে যদি থাকে একটি ডিভাইস থাকে যাতে ইন্টারনেট চালানো যায় তবে আপনিও শুরু করুন অনলাইন বিজনেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap