ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন ২০২৪ সালে (বিস্তারিত জানুন)

যারা ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইনে অর্থ উপার্জন করতে চান তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করব।

এজন্য বরাবরের মতো এবারো বলে রাখছি, আপনি সময় নিয়ে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়বেন। আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন বিস্তারিত আপনাকে জানাবো।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন

আপনার হাতে সময় না থাকলে এই আর্টিকেলটি স্কিপ করতে পারেন। যখন হাতে সময় হবে সে সময় পড়ে নিবেন। কেননা আপনি যদি সময় নিয়ে না পড়েন তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বস্তু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন না। এজন্য আগে থেকে সতর্ক করছি।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কিসের প্রয়োজন এই বিষয়ে যাওয়ার আগে ফ্রিল্যান্সিং কি এটা আগে জানি।

আপনি দেখতে পারেন: 



ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি?

অনলাইনে কোন কোম্পানি বা অন্যের কোন কাজ নিজের জায়গায় বসে অনলাইনে সম্পন্ন করে দিয়ে অর্থ উপার্জন করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুধুমাত্র অনলাইনে হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্ত পেশা। এটি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর একটি বড় গুণ। যার কারনে লাখা লাখো মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন?

এবার আসল কথায় আসি। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কিসের প্রয়োজন এটি এখন আপনাকে স্টেপ বাই স্টেপ আমি বোঝানোর চেষ্টা করব। সেজন্য অবশ্যই ধৈর্য ধরে পড়তে থাকুন…

১. লক্ষ্যে অটুট থাকা

ফ্রিল্যান্সিং কাজটি এত সহজ নয় যে যে কেউ আসলেই এই কাজে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করবে। ফ্রিল্যান্সিংকে অর্থ উপার্জন করতে চাইলে আপনার মধ্যে জেদ/লক্ষ্য পূরণ করা তীব্র ইচ্ছা।

আপনি যদি একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিল কিন্তু সেখানে অধিকাংশ লোকই ব্যর্থ হয়েছে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে। সকল তারাই হয়েছে যারা তাদের লক্ষ্যে অটুট ছিল। হাজারো ঝড় তুফানের মধ্যে কখনো তাদের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি।

ফ্রিল্যান্সিং কাজে অনেক ক্ষেত্রে আয় পর্যন্ত পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়। সে ক্ষেত্রে যদি আপনি দু এক মাস কাজ করে হাল ছেড়ে দেন তাহলে বিষয়টা কেমন হবে! এজন্য অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিংয়ে যদি আপনি ভালো কিছু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার তীব্র লক্ষ্য থাকতে হবে আপনার স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে।

২. ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন

ফ্রিল্যান্সিং কাজ আপনাকে অনলাইনে করতে হবে আর অনলাইন উপস্থিতির জন্য আপনার ইন্টারনেট কানেকশন থাকা লাগবে। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং টা অনলাইন নির্ভর এজন্য আপনার একটি ভাল মানের ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন।

ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য আপনি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও আপনি ফোনের মোবাইল ডাটা কিনো ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

তবে আমি আপনাকে সাজেশন করব আপনি যদি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেন তবে ভালো। যদি ওয়াইফাই আপনি ব্যবহার করতে না পারেন তাহলে আপনি মোবাইলের ডাটা ব্যবহার করতে পারেন।

মোবাইলে ডাটা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনি মাসিক প্যাকেজ গুলো নিতে পারেন। মাসিক প্যাকেজ গুলো যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার টাকা সাশ্রয় হবে।

৩. প্রয়োজনীয় ইংরেজি বোঝা

ফ্রিল্যান্সিং একটি আন্তর্জাতিক কাজ। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে যারা কাজ দিয়ে থাকে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে এসে থাকে। তারা সাধারণত ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে বা নেওয়ার ক্ষেত্রে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট গুলোতে শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষায় ব্যবহার করা হয়।

এখন আপনি যদি ইংরেজি না বুঝেন তাহলে কিভাবে আপনি ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলে আপনার কাজকে বুঝে নিবেন। আপনি যদি সঠিকভাবে কাজ বুঝতে না পারেন তাহলে কিভাবে আপনি সঠিকভাবে কাজটি করে জমা দিবেন। এজন্য অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয় ইংরেজি জানতে হবে।

আবার অনেকে মনে করে যে ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ইংরেজি জানতে হবে। বিষয়টি কিন্তু একদমই ভুল। আমার পরিচিত অনেকে রয়েছে যারা পরিপূর্ণ ইংরেজি জানে না কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং করে ভালো অর্থ উপার্জন করতেছে।

ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার কাজ সম্পর্কে ইংরেজি জানতে হবে। আপনি যদি একজন গ্রাফিক ডিজাইন হন তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর যে বিষয়াদি রয়েছে এগুলো সম্পর্কে আপনাকে ইংরেজিতে জানতে হবে। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে হবে।

আরেকটা আসার কথা হল, আপনি যদি কাজ করতে থাকেন সে সাথে ইংরেজি প্র্যাকটিস করতে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনি দ্রুত সময় ইংরেজি শিখে নিতে পারবেন।

৪. প্রয়োজন মত ইন্টারনেটকে ব্যবহার করা

ফ্রিল্যান্সিং করার সময় আপনি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন। সে সময় যদি আপনি ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনি যেকোনো ধরনের ফ্রিল্যান্সিং সমস্যা থেকে সমাধান বের করতে পারবেন।

যেমন আমি ব্লগিং করি, অনেক সময় দেখা যায় যে ব্লগিংয়ের অনেক আপডেট আসে বা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন আমি হয়। সে সময় আমি গুগলে সার্চ করি যে সমস্যাটিতে আমি পড়ি সেটি নিয়ে। তারপর আমার সামনে আমার সমস্যার বিষয়ে বিভিন্ন সমাধান পোস্ট পেয়ে যায়। তারপর আমার সমস্যার সমাধান আমি করে ফেলি।

আমি যদি ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করতে না পারতাম তাহলে হয়তো আমি ব্লগিং এতদূর আসতে পারতাম না। গুগল এমন কোন জিনিস নেই যে পাওয়া যায় না। এজন্য অবশ্যই আপনাকে গুগলকে ভালোভাবে ব্যবহার করা শিখতে হবে।

৫. ভালোভাবে একটি কাজ শেখা

ফ্রিল্যান্সিং কাজে যে যত দক্ষ তার মূল্য তত বেশি। একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফ্রিল্যান্সারের মার্কেটপ্লেসে প্রচুর পরিমাণে মূল্য রয়েছে। এজন্য আপনাকে একটি কাজ ভালোভাবে শিখতে হবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেখার ক্ষেত্রে আপনাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সেটি হচ্ছে আপনি অবশ্যই এমন একটি কাজ শিখবেন যে কাজটি শিখলে বর্তমান সময়ে এবং ভবিষ্যৎ সময়ে ভালো পরিমাণ মূল্য পাওয়া যাবে। অর্থাৎ যে কাজের চাহিদা এখনো ভালো রয়েছে ভবিষ্যত ভালো থাকবে।

আমাদের ওয়েবসাইটে ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজের চাহিদা বেশি এর সম্পর্কিত একটি আর্টিকেল রয়েছে। আপনি চাইলে সেই আর্টিকেলটি পড়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজটি আপনার শেখা উচিত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন।

৬. আপনার কাজের কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া

আপনি যে কাজটি ফ্রিল্যান্সিং এ করবেন বা ফ্রিল্যান্সিং এ করতেছেন সে কাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন কমিউনিটিতে আপনাকে যুক্ত হতে হবে। আমার কথা দিয়েই আপনাকে বোঝায়।

আমি বিভিন্ন ব্লগিং কমিউনিটিতে যুক্ত হয়েছি। আমার যখন কোন সমস্যা হয় আমি সেই কমিউনিটিতে পোস্ট করি। পোস্ট করলে আমার বিভিন্ন অভিজ্ঞ সম্পূর্ণ ভাইয়েরা আমাকে সমাধান করার জন্য বিভিন্ন ধরনের টিপস দিয়ে থাকে।

আর ওই সকল টিপস পেয়ে আমার সমস্যার সমাধানে অনেক হেল্প হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার পোস্ট কমিউনিটিতে পাওয়া যায় সেখানেও আমি অন্যকে হেল্প করার মাধ্যমে আমার অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারি।

কমিউনিটি বলতে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের কথা বলছি। আপনি অবশ্যই আপনার সম্পর্কিত ফেসবুক গ্রুপগুলোতে যুক্ত হবেন এবং যারা সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করে তাদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন। এতে আপনার বিশাল উপকার হবে।

৭. ধৈর্য ধরতে হবে

ধৈর্য ছাড়া সফলতা অর্জন করা কোনভাবে সম্ভব নয়। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ধর্য্য বিশাল বড় একটা বিষয়। আমি আগেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং এ অনেক সময় দেখা যায় ইনকামের পথে আসতে অনেক লম্বা সময় লাগে। এখন যদি আপনি ধৈর্য ধরতে না পারেন তাহলে কিন্তু আপনি এই কঠিন যাত্রা টিকে থাকতে পারবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং আপনি যদি কাজ পেয়ে না থাকেন বা কোন একটি সমস্যায় পড়েছেন সমাধান করতে পারতেছেন না তাহলে ধৈর্য ধরে কিন্তু আপনার এই সমাধান গুলোর করার চেষ্টা করে যেতে হবে। অন্যের ইনকাম দেখে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতেই হবে।

যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সফল হয়েছে তাদের কাছে শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন যে তারা কি পরিমান ধৈর্য ধরে এ পর্যন্ত এসেছে। শুধু সফল ফ্রিল্যান্সারে জানে যে তাদের এত দূর আসার পেছনে কি পরিমান কষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে।

শেষ কথা,

আশা করি আপনি এই ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন আর্টিকেলটি উপভোগ করেছেন। এটুকু আমি বলতে পারি, আপনি যদি মনোযোগ সহকারে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে আপনার এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া হয়ে গেছে।

তারপরও আপনাকে আমি বলে রাখছি, আপনার যদি ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে কি কি প্রয়োজন সম্পর্কে কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকে, আপনি আমাকে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করতে পারেন। আমি আপনার প্রশ্ন দেখার জন্য বা উত্তর দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত আছি ইনশাল্লাহ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top