নিশ কি? নিশ কত প্রকার? সঠিক নিশ বাছাই করার গাইডলাইন

3.2/5 - (4 votes)

যারা অনলাইনে কাজ করে থাকেন নিশ কি এবং নিস কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয় সর্ম্পকে তাদের মোটামুটি ধারনা থাকলেও যারা বিগিনার তাদের এই বিষয়ে তেমন ধারনা থাকে না।

আপনি অনলাইনে যে প্লাটফর্মে কাজ করুন না কেন অবশ্যই নিশ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে। কেননা নিশ সম্পর্কে ধারনা যদি না থাকে তাহলে কখনোই অনলাইনে ভালো কিছু করা যাবে না। 

প্রতিটি নতুন ব্লগার অথবা যারা অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকেন তাদের প্রথমেই এই বিষয়টা নিয়ে ভাবা জরুরি যে তাদের নিশ কি হবে। কেননা এই সকল প্লাটফর্মে যদি আপনাকে সফল হতে হয় তাহলে একটি সঠিক নিশ বাছাই করা খুবই জরুরী। 

অর্থাৎ আপনি যদি এই ক্ষেত্রে সঠিক একটি নিশ সিলেক্ট করতে পারেন তাহলে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই আপনি যদি কোন ওয়েবসাইট বা কোন ইউটিউব চ্যানেল করবেন বলে ভেবে থাকেন তাহলে অবশ্যই একটি সঠিক নিশ আপনাকে বাছাই করে নিতে হবে। 

নিশ কি? নিশ কত প্রকার? নিশ বাছাই করার গাইডলাইন
নিশ কি? নিশ কত প্রকার? নিশ বাছাই করার গাইডলাইন

আজকের পোষ্টে নিশ কি, নিশ কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে নিশ সিলেকশন করব এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনারা জানতে পারবেন। তাই যাদের এই বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে তারা আজকের পোষ্টটি অবশ্যই বিস্তারিত পড়বেন।

আপনার জন্য আরও পোস্ট: 



নিশ কি/What Is Niche

নিশ কথাটি সাধারণত বিভিন্ন ভাবে বোঝানো যেতে পারে। তবে নিশ বলতে বোঝানো হয়ে থাকে কোন বিষয়।

ধরুন আপনার একটি এফিলিয়েট ওয়েবসাইট রয়েছে আপনি সেখানে কোন ধরনের প্রোডাক্ট বা কোন ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন সেটাই হচ্ছে নিশ।

অর্থাৎ আপনি যদি নিজের এফিলিয়েট ওয়েবসাইটে টেকনোলজি রিলেটেড প্রোডাক্ট বিক্রি করে থাকেন তাহলে আপনার নিশ টেকনোলজি। আবার আপনি যদি কোন ইউটিউব চ্যানেল করবেন বলে ভেবে থাকেন এবং যদি স্বাস্থ্য রিলেটেড ভিডিও দিবেন বলে ভাবেন তাহলে আপনার নিশ হবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য। 

নিশ কেন গুরুত্বপূর্ণ

নিশ কি সেই বিষয়ে তো জানলেন তাহলে চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক নিশ কেন গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে। ধরুন আপনি একজন ব্লগার। ব্লগার হিসেবে যদি আপনাকে সফল হতে হয় তাহলে অবশ্যই একটি ভালো নিশ টার্গেট করতে হবে।

আপনি যদি একটি ভাল নিশ নির্ধারণ না করেন তাহলে কোনোভাবেই ব্লগিং সেক্টরে সফল হতে পারবেন না। অর্থাৎ আপনাকে ব্লগিং এ ক্যারিয়ার গড়তে হলে নিশ সিলেক্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিশ সিলেক্ট যে শুধুমাত্র ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে তা নয়। আপনি যদি একজন ইউটিউবার হয়ে থাকেন তাও আপনাকে একটি নিশ টার্গেট করে সেই অনুযায়ী ভিডিও আপলোড করতে হবে। তা না করতে পারলে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকবে।

তাছাড়া একটি ব্লগে বা একটি ইউটিউব চ্যানেলে যদি আপনি নিয়মিত নির্দিষ্ট নিশের উপর কনটেন্ট দিতে থাকেন তাহলে কনটেন্ট রেঙ্ক  করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

তাছাড়া খুব সহজেই ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলের প্রতি আস্থা অর্জন করতে পারে। যার ফলে পরবর্তীতে এখান থেকে সফল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া একটি ওয়েবসাইটে যদি নিশ সিলেক্ট করে কাজ করতে থাকেন তাহলে যে সকল সুবিধা গুলো হবে-

১. আপনি ওয়েবসাইটে হাই কোয়ালিটি কনটেন্ট দিতে পারবেন এবং নিশটি আপনার পছন্দমত হওয়াই ভালোভাবে রিসোর্স করতে পারবেন। 

২. আপনি অনেক কম সময়ে ভাল আর্টিকেল লিখতে পারবেন। 

৩. আপনি যেহেতু নিদৃষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করে নিয়মিত ভিজিটর পাচ্ছেন তাই আপনি বড় বড় আর্টিকেল লিখতে আগ্রহী হবেন। 

৪. আর্টিকেল কোয়ালিটি অন্যদের থেকে অনেক ভাল হবে যার কারণে র্যাংক করতে সুবিধা হবে। 

৫. আপনার ওয়েবসাইটটি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষ চিনবে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। 

৬. যেহেতু আপনি পছন্দমত নিশ নিয়ে কাজ করছেন তাই এই বিষয়ে আপনার লেখার আগ্রহ অনেক বেশি হবে এবং অনেক আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

৭. গুগল অন্যান্য ওয়েবসাইটগুলোর থেকে আপনার ওয়েবসাইটকে বেশি প্রাধান্য দিবে যার কারণে আপনার পোস্টগুলো উপরের সারিতে থাকবে।

তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারছেন অনলাইনে যেকোনো সেক্টরে সফলতা অর্জন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটি সঠিক নিশ সিলেক্ট করতে হবে।

আর সঠিক নিশ যদি টার্গেট না থাকে তাহলে আপনার কাজের প্রতি তেমন আগ্রহ থাকবে না এবং বেশিদূর এগোতে পারবেন না।

তাছাড়া আপনার যেহেতু সঠিক পরিকল্পনা থাকবে না তাই সময় এবং পরিশ্রম দুটাই বৃথা যাবে।তাহলে এতক্ষণে অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে নিশ কি এবং নিশ কেন গুরুত্বপূর্ণ। 

এছাড়াও দেখতে পারেন: 



নিশ কয় প্রকার?

নিশ কত প্রকার এবং কি কি এই বিষয়টা না জানলে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই প্রথমেই নিশের প্রকারভেদ সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরী।

ইতিমধ্যে আপনারা জেনে গিয়েছেন নিশ কি এবং নিশ কেন গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিশ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়ার জন্য নিশ কয় প্রকার এটাও জানতে হবে। নিশ কে সাধারনত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমনঃ-

➡️ব্রড নিশ

➡️মাইক্রো নিশ

➡️স্পেসিফিক নিশ

তাহলে এবার এই তিনটি নিশ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ব্রড নিশ কি

ব্রড নিশ হচ্ছে এমন এক ধরনের নিশ যে নিশ গুলোকে ছোট ছোট আরো ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। ধরুন আপনি একটি ওয়েবসাইট করেছেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের নিশ হচ্ছে স্বাস্থ্য।

স্বাস্থ্য যদি আপনার নিশ হয় এই নিশ এর আন্ডারে আপনি আরো কয়েকটি ক্যাটাগরি যেমন (রেসিপি,বিউটি টিপস, চুলের যত্ন,লাইফস্টাইল) খুব সহজেই করা যাবে। আর এটাকেই বলা হয়ে থাকে একটি ব্রড নিশ। সহজ কথায় ব্রড নিশকে অনেকে মাল্টি নিশ হিসেবেও চিনে থাকেন।

মাইক্রো নিশ কাকে বলে

নিদৃষ্ট একটি টপিককে ধরে সেই টপিকের খুঁটিনাটি যেই নিশ এর মাধ্যমে আলোচনা করা হয় তাকে মাইক্রোনিশ বলে। এই নিশ ওয়েবসাইটগুলো অনেক ছোট হয়ে থাকে। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে ধরুন টেকনোলজি নিশের মধ্যে মোবাইল রিভিউ পড়ে। তাই এক্ষেত্রে কেউ যদি মোবাইল রিভিউ টার্গেট করে ওয়েবসাইট তৈরি করে তাহলে তার ওয়েবসাইটটি হচ্ছে মাইক্রোনিশ ওয়েবসাইট।

অর্থাৎ কোন নিশের সাব ক্যাটাগরি গুলোই হচ্ছে মাইক্রো নিস। এই ক্ষেত্রে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির টার্গেট করে কাজ করে যেতে হবে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যারা মাইক্রো নিশ নিয়ে কাজ করে থাকেন তাদের সফলতার হার অন্যদের থেকে বেশি।

স্পেসিফিক নিশ কি?

কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয় বিষয়ের উপরে যে নিশে আলোচনা করা হয় সেটাই হচ্ছে স্পেসিফিক নিশ। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটটি যদি ভিসা রিলেটেড হয়ে থাকে তাহলে এখানে ভিসা সম্পর্কিত তথ্য ছাড়া অন্যান্য কোন তথ্য দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ আপনি যা কিছু লিখবেন তার ভিতরে ভিসা কে ফোকাস করতে হবে। এই সকল নিশ নিয়ে বর্তমানে অনেকেই এখন কাজ করছে।

বর্তমান সময়ে কোন নিশ সিলেক্ট করবেন /নিশ বাছাই কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান সময়ে আপনি ব্লগিং বলুন অথবা ইউটুবিং বলুন সবকিছুতেই অনেক প্রতিযোগীর সৃষ্টি হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে আপনি যদি সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগাতে না পারেন তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ছিটকে যাবেন। 

তেমনি সঠিক পরিকল্পনার পথে রাখতে নিশ সিলেক্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কম সময়ে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে এবং প্রতিযোগী খুব কম এরকম নিশ সিলেক্ট করতে হবে। তাহলে আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই এই লাইনে ভালো কিছু করতে পারবেন। 

তাই অনলাইন প্লাটফর্মে সফল হতে হলে নিশ বাছাই সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকতে হবে। ধরুন আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেছেন আপনার পছন্দের বিষয় অনুযায়ী। তাহলে এই বিষয়ের ওপর ভিডিও আপলোড করতে আপনার ভালো লাগবে এবং এই বিষয়ে আপনি অন্যদের তুলনায় বেশি রিসোর্স করতে পারবেন। তাহলে হয়তো অবশ্যই বুঝতে পারছেন সঠিক নিশ সিলেক্ট করলে দ্রুত সফল হওয়া যায়।

১০ টি নিশ এর নাম

যারা ওয়েবসাইট চালিয়ে থাকেন বা ব্লগিং করে থাকেন তাদের জন্য নিশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিশ সিলেক্ট করা হলে অনেক কম পরিশ্রমেও ভালো কিছু করা সম্ভব। তাই বর্তমান সময়ের সেরা ১০ লাভজনক নিশ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো যে গুলোতে কাজ করার মাধ্যমে খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

১.Technology Niche

যারা ব্লগিং করে থাকেন তাদের অনেকেরই টেকনোলজি নিশটি পছন্দের। বিশেষ করে যারা এডসেন্স টার্গেট করে ওয়েবসাইট বা ব্লগ চালাতে চান তারা প্রথমেই টেকনোলজি নিশটি সিলেক্ট করতে পারেন।

কেননা টেকনোলজি নিশে রয়েছে হাই সিপিসি অসাধারণ সব কিওয়ার্ড যেগুলো নিয়ে কাজ করলে এডসেন্স ইনকাম অনেক বেশি হয়ে থাকে।

টেকনোলজি নিশে রয়েছে অসংখ্য sub-category। টেকনোলজি নিশ নিয়ে যদি কেউ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে তাকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। কেননা বর্তমানে টেকনোলজি নিয়ে হাজার হাজার ওয়েবসাইট কাজ করছে।

তাই তাদেরকে টপকে আপনাকে ভাল কিছু করতে হলে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে রিসোর্স করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে দীর্ঘদিন কাজ করে যেতে হবে। 

টেকনোলজি নিশে অনেক কম্পিটিশন থাকলেও এই নিসে আপনি অনেক কম ভিজিটরে ভালো ইনকাম করতে পারবেন। আর একবার যদি আপনার ব্লগটি ভালো পজিশনে চলে যায় তাহলে আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

তাই যারা কম্পিটিটর এনালাইসিস করে প্রচুর পরিমাণে রিসোর্স করতে পারবেন তারা টেকনোলজি নিশ নিয়ে কাজ করতে পারেন। 

২.ভ্রমণ এবং ভিসা 

বর্তমান সময়ে যদি ভালো লাভজনক নিশ খুঁজে থাকেন তাহলে এই নিশটিকে টার্গেট করতে পারেন। এই নিশটি সারাবিশ্বে খুবই জনপ্রিয়।এই নিশে আপনি শুধু বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ এবং সেই দেশের ভিসা কিভাবে পাবেন এই সকল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। 

ধীরে ধীরে আপনার ব্লগটি যখন অনেক বড় হয়ে যাবে এবং আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত পরিমান ভিজিটর আসা শুরু করবে তখন আপনি চাইলে গুগল এডসেন্সের এড বসিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

তাছাড়া পরবর্তীতে আপনার ব্লগ যদি অনেক বড় হয়ে যায় আপনি তখন স্পনসর্শিপ কনটেন্ট থেকেও আয় করতে পারবেন।তাছাড়া এই ব্লগ নিয়ে কাজ করলে দ্রুত সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩.অনলাইন ইনকাম নিশ

অনলাইনে ইনকাম করতে এখন সকলেই আগ্রহী। বিশেষ করে বেকার তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটের অনলাইনে কিভাবে ইনকাম করা যায় বা অনলাইন থেকে ইনকাম করার উপায় খুঁজে থাকেন। তাই এই নিশটির কেমন চাহিদা রয়েছে তা নিয়ে আর বেশি কিছু বলা লাগবে না। 

আপনার যদি এই বিষয়ে খুব ভালো অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে অনলাইন ইনকাম রিলেটেড একটি ব্লগ তৈরি করতে পারেন এবং সেখানে অনলাইনে কিভাবে আয় করা যায় সে সকল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

নিয়মিত কাজ করার ফলে আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং অনেক ভিজিটর আসা শুরু করবে। তখন ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল নিয়ে ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইনে ইনকাম হচ্ছে এমন একটি নিশ যার মাধ্যমে আপনি অনেক কম ভিজিটরে অ্যাডসেন্স থেকে ভালো আয় করতে পারবেন।

৪.স্বাস্থ্য এবং লাইফস্টাইল

স্বাস্থ্য থাকলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকবেই। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিদিন ইন্টারনেটে হাজার হাজার সার্চ এসে থাকে। কেননা আমরা কমবেশি সকলেই স্বাস্থ্যসচেতন। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য আমরা কত কিছুই না করে থাকি।

বিশেষ করে এখন কারো কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা হইলে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে থাকেন। আর যার ব্লগ এক্ষেত্রে গুগলে প্রথম পজে থাকে তার ব্লগে ভিজিটর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নিশটি হচ্ছে খুবই জনপ্রিয় একটি নিশ।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এই নিশে অসংখ্য ক্যাটাগরি পেয়ে যাবেন লেখার জন্য যার কারণে আপনাকে তেমন বেশি রিসার্চ করতে হবে না। তাছাড়া আপনার ব্লগ টি যদি একবার জনপ্রিয় হয়ে যায় তাহলে আর পিছনে ফিরে তাকানো লাগবে না। তাই যদি বর্তমান সময়ের লাভজনক নিশ খুঁজে থাকেন তাহলে স্বাস্থ্য নিশটি হতে পারে আপনার জন্য দারুণ নিশ।

৫.Education 

এডুকেশন হচ্ছে খুবই বড় একটি নিশ। অনলাইনে সবথেকে যে নিশগুলোতে বেশি সার্চ হয়ে থাকে তার মধ্যে এডুকেশন অন্যতম। যত সময় যাচ্ছে তত মানুষের জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী ইন্টারনেটে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে জানার জন্য সার্চ করে থাকেন। তাই আপনি এডুকেশন রিলেটেড একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

আর আপনার এডুকেশন সাইটটিতে বর্তমান সময়ে সার্চ হওয়ার ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে আর্টিকেল পাবলিশ করতে থাকবেন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই আপনার সাইটটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে। সাইটের যখন প্রতিদিন ভিজিটর ঢুকবে এবং ধীরে ধীরে ভিজিটরের পরিমাণ বাড়বে তখন আপনি চাইলে গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। গুগল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল দিলে আপনি নিজের ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখে ইনকাম করতে পারবেন।

৬.কুকিং এন্ড রেসিপি নিশ

বর্তমানে আমাদের দেশ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বে এই ধরনের ব্লগ গুলোর প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মেয়েরা এই ধরনের ব্লগগুলো খুঁজে থাকে এবং তারা প্রতিদিনই নতুন নতুন রেসিপি বানানো শিখতে ব্লগে এসে থাকেন।

তাই এই বিষয়ে যদি একটি ভাল ব্লগ বানানো যায় এবং সেটা ভালোভাবে চালানো যায় তাহলে ভিজিটরের কোন অভাব হবে না। আর এটি যেহেতু হট টপিক তাই এখানে অনেক কম ভিজিটরে ভালো ইনকাম আসবে। তাই যদি বর্তমান সময়ে লাভজনক নিশ খুঁজে থাকেন তাহলে কুকিং এন্ড রেসিপি এইটাকে টার্গেট করে ব্লগ তৈরি করতে পারেন। 

৭.Garden Nish

যারা নতুন ব্লগ তৈরি করবেন বলে Evergreen নিশ খুঁজছেন তারা চাইলে গার্ডেন নিশটি টার্গেট করতে পারেন। এই নিশটি united states of America তে খুবই জনপ্রিয় একটি নিশ। প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে সার্চ এসে থাকে এই নিশের কিওয়ার্ডগুলোতে।

যেহেতু ব্লগটি বাইরের দেশকে টার্গেট করে বানানো হচ্ছে তাই এখানে অ্যাডসেন্স থেকে হাই সিপিসি পাওয়া যাবে এবং অনেক কম ভিজিটরে ভালো ইনকাম আসবে।

আমার এক পরিচিত ভাই রয়েছে যে গার্ডেন নিশ নিয়ে কাজ করে থাকে। তার ওয়েবসাইটের বয়স এখন দুই বছরের বেশি। সে এখন তার ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্সে বিজ্ঞাপন বসিয়ে প্রতি মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ইনকাম করে থাকেন। তাহলে অবশ্যই বুঝতে পারছেন গার্ডেন নিশ কতটা লাভজনক। 

৮.টিপস-এন্ড-ট্রিকস

আমরা নিত্য নতুন জিনিস ব্যবহার করতে পছন্দ করে থাকি। নিত্য নতুন জিনিস ব্যবহার করার আগে অবশ্যই এই জিনিসগুলো সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে নেওয়ারও অভ্যাস রয়েছে আমাদের। যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, টিভি ইত্যাদি।আর এই সকল জিনিস নিয়ে আমরা যখন সমস্যায় পড়ে থাকি তখন ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকি।

তাই আপনি যদি চান এইসব টপিক গুলো নিয়ে একটি ব্লগ তৈরি করতে পারেন যেখানে বিভিন্ন প্রোডাক্টের ভালো খারাপ দিক নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা করা হবে। তাছাড়া টিপস-এন্ড-ট্রিকস নিয়ে অসংখ্য সাব ক্যাটাগরি পেয়ে যাবেন যার কারণে আপনার লিখতে কোন রকমের অসুবিধা হবে না। এই নিশটিও গুগল এডস্নেসের জন্য লাভজনক একটি নিশ।

৯.ব্যবসা (Business)

নতুন সব ব্যবসা আইডিয়া বা ব্যবসা সম্পর্কিত টিপস পড়তে সকলের ভালো লাগে। আমাদের দেশ থেকে শুরু করে সারা বিশ্বে ব্যবসা রিলেটেড নিশটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কেননা অনেক শিক্ষিত তরুণ পড়াশোনা শেষ করে যখন চাকরি পায় না তখন ইন্টারনেটে ব্যবসা আইডিয়া লিখে সার্চ করে থাকেন।

ব্যবসা রিলেটেড সাইটগুলোতে ভিজিট করেন এবং সেখান থেকে ব্যবসা আইডিয়া গুলো নিয়ে থাকেন। তাই আপনি যদি এই হট টপিক নিয়ে একটি ব্লগ তৈরী করতে পারেন তাহলে আখেরে লাভবান হবেন। 

ব্লগ টি যদি একবার জনপ্রিয় হয়ে যায় তাহলে এখান থেকে আনলিমিটেড টাকা আয় করতে পারবেন।তখন আপনার ব্লগে যে সকল ভিজিটর ঢুকবে তারাই আপনার ব্লগের প্রচার করে দিবে। ধীরে ধীরে যত ভিজিটর বৃদ্ধি পেতে থাকবে আপনার ইনকাম এর পরিমাণ যত বাড়বে। তাই সেরা লাভজনক নিশের সন্ধান যদি করে থাকেন তাহলে business নিশটি নিয়ে কাজ করতে পারেন। 

১০.গেমিং নিশ

আপনি যদি গেম খেলতে পছন্দ করে থাকেন অর্থাৎ একজন ভালো গেমার হন তাহলে গেমিং নিয়ে একটি ব্লগ তৈরী করতে পারেন। ব্লগ টিতে আপনি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় গেম গুলোর ভালো এবং খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা করবেন এবং কিভাবে গেম খেলতে হয় সেই বিষয় নিয়ে বলবেন ।

তাছাড়া গেম খেলতে গিয়ে অনেকে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে আপনি চাইলে সেই সমস্যাগুলো নিজের ব্লগের মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন। ধীরে ধীরে আপনার ব্লগে যখন নিয়মিত ভিজিটর আসা শুরু করবে তখন আপনি চাইলে গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপন বসিয়ে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

জনপ্রিয় আরো কয়েকটি নিশের নাম

জনপ্রিয় আরো কিছু নিশ রয়েছে নিশগুলোর নাম আপনাদের জানা জরুরী। নিচে আরো ২০ টি নিশ আইডিয়া দেওয়া হলো:-

১. ফ্যাশন 

২. মোবাইল রিভিউ 

৩. খেলা 

৪. বিউটি ব্লগ 

৫. ট্রেন্ডিং নিউজ 

৬. সফটওয়্যার রিভিউ 

৫. ইভেন্ট ব্লগিং 

৬. মুভি রিভিউ 

৭. মোটিভেশনাল নিশ

৮. জব নিশ

৯. কৃষি নিশ

১০. সংবাদ 

১১. গেমিং নিশ

১২. খামার 

১৩. ব্যাংকিং নিশ

১৪. গানের লিরিক্স 

১৫. ফুড 

যদি উপরের নিশ আইডিয়া গুলো পছন্দ না হয়ে থাকে তাহলে এদের মধ্য থেকে যে কোন একটি নিস সিলেক্ট করতে পারেন। 

Best niche selection এর জন্য কয়টি বিষয় ফলো করতে হয়

লাভজনক কয়টি নিশ সম্পর্কে তো এতোক্ষনে জেনে নিয়েছি এবার জানতে হবে নিশ সিলেক্ট করার আগে কয়েকটি বিষয়ে ফলো করতে হয়। অর্থাৎ আপনি যখন কোনো একটি নিশ নিয়ে কাজ করবেন তখন অবশ্যই সেই নিশ সম্পর্কে সঠিক পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। 

ব্লগিং থেকে শুরু করে ইউটিউবে বা অনলাইন সেক্টরে যত কাজ শুরু হয়েছে আপনাকে যদি সফল হতে হয় তাহলে অবশ্যই সঠিক একটি নিশ সিলেক্ট করতে হবে।

কিন্তু আমরা অনেকেই সঠিক নিশ সিলেক্ট করতে পারিনা তার জন্য ব্যর্থ হই। সঠিক নিশ সিলেক্ট করার আগেও আপনাকে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। যেমনঃ-

➡️টার্গেটেড নিশটির কম্পিটিশন কেমন।

➡️নিশটির উপর আপনার আগ্রহ রয়েছে কিনা।

➡️টার্গেট নিশের কম্পিটিটরদের সাইট কেমন।

টার্গেটেড নিশের কম্পিটিশন যাচাই 

ব্লগিং সেক্টরে কোন ব্লগারকে যদি সফল হতে হয় তাহলে অবশ্যই এই বিষয়টা সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান থাকা উচিত। অর্থাৎ আপনি যদি কোনো একটি নিশ সিলেক্ট করে ফেলেন তাহলে নিশটির কম্পিটিশন কেমন সেই বিষয়ে আগে গবেষণা করে নিতে হবে। 

ধরুন বর্তমানে টেকনোলজি নিশে যারা এডসেন্স নিয়ে কাজ করে তাদেরকে ভালো সিপিসি দিয়ে থাকে। কিন্তু নতুন ব্লগাররা টেকনোলজি নিশ কাজ করলে তাদের অনেক সময় লেগে যাবে ওয়েবসাইটটা ভালো একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু অনেকেরই এই ধৈর্যটা থাকেনা।

আবার এমন কিছু জিনিস রয়েছে জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করলে খুব দ্রুতই ভালো কিছু করা যাবে। এই সকল নিশ গুলোর কম্পিটিশন একটু লো থাকে। তাই অবশ্যই নিশ সিলেক্ট করার আগে আপনার প্রতিযোগী, প্রতিযোগিতা টেক্কা দেওয়ার দক্ষতা সবকিছু পরিকল্পনা করে নিয়ে একটি নিশ সিলেক্ট করে কাজ করা উচিত।

নিশটি আপনার পছন্দের হতে হবে 

অনেক সময় দেখা যায় আমরা কারো গাইডলাইন অনুযায়ী নিশ সিলেক্ট করে থাকি। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইট চালু করতে চলেছি এক বড় ভাই সাজেশন দিচ্ছে আপনি টেকনোলজি নিশ নিয়ে কাজ করেন।

কিন্তু আপনার ওই নিশ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ নেই। এতে করে কিছুদিন যাওয়ার পর আপনি আর কিওয়ার্ড আইডিয়া বের করতে পারবেন না বা রিসার্চ করতে অনেক সমস্যা হবে। যার ফলশ্রুতিতে আপনি বেশিদূর এগোতে পারবেন না।

তাই অবশ্যই সাইট তৈরি করার আগে এমন একটি বিষয় সিলেক্ট করতে হবে যে বিষয় সম্পর্কে আপনার আগ্রহ রয়েছে এবং মোটামুটি এই বিষয়ে আপনি অভিজ্ঞ।

টার্গেটের নিশের প্রতিযোগীদের  সাইট এনালাইসিস করতে হবে 

কোন নিশ সিলেক্ট করার আগে অবশ্যই সেই নিশ নিয়ে যারা কাজ করছে টপ কিছু ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিবেন। ধরুন আপনি গার্ডেন নিশ নিয়ে কাজ করবেন। আপনি যদি united states of america টার্গেট করে সাইট বানাতে চান তাহলে এই নিশ নিয়ে যারা অনেক আগে সাইট বানিয়েছে এবং সার্চ রেজাল্টের পথে রয়েছে তাদের কিছু সাইট আপনি এনালাইসিস করে নিবেন।

অর্থাৎ তারা কত বছর ধরে কাজ করছে, কেমন পরিমাণে আর্টিকেল পাবলিশ করে, এসইও কেমন করেছে সবকিছু সম্পর্কে মোটামুটি জেনে নিবেন। তাহলে আপনার কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে। আপনি সেই সকল সাইট গুলোর করা কিছু ভুল সংশোধন করে আপনার সাইটে ভালোভাবে কনটেন্ট লিখতে পারবেন।

নিশ নিয়ে আমাদের শেষ কথা,

নিশ কি এবং নিশ কেন গুরুত্বপূর্ণ আজকের পোস্টটি যারা পড়েছেন এই বিষয়ে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন। যারা অনলাইন সেক্টরে কাজ করতে চান তাদের অবশ্যই নিশ সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরী। কেননা যেকোনো কাজের টার্গেট না থাকলে আপনি কখনোই সফল হতে পারবেন না।আর ব্লগিং সেক্টরে যদি সঠিক নিশ সিলেক্ট  না করেন তাহলে ভালো কিছু করতে পারবেন না। 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top