ইন্টারনেট কি?: ব্যবহার, সুবিধা, অসুবিধা বিস্তারিত জানুন

ইন্টারনেট কি?: ইন্টারনেট শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। আমাদের আশেপাশে সব জায়গায় সকল কাজেই শুধু ইন্টারনেট এর ব্যবহার।

প্রযুক্তির এক দৃষ্টান্ত আবিষ্কার হলো ইন্টারনেট যে ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীকে আমাদের হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে। দৈনন্দিন জিনিস পত্র কেনা কাটা থেকে শুরু করে পড়াশোনা এবং বিভিন্ন অফিশিয়াল কাজ এখন নিজের ঘরে বসেই ইন্টারনেট এর মাধ্যমে করা যায়।

১০ বছর আগে যে কাজ গুলো করতে এক সপ্তাহ সময় লাগতো এই ইন্টারনেট এর সুবিধার জন্য সেই কাজ গুলোই কয়েক মিনিটের মাঝেই করে ফেলা যায়।

আজ আপনাদের সাথে কথা বলবো “ইন্টারনেট কি” (What is Internet?), “ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে” ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।

আশা করি আমার এই সম্পূর্ন (What is Internet Bangla) লেখাটি পড়ে আপনি নতুন করে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। লেখাটি পড়ে অবশ্যই আপনার মতামত জানাবেন।

বর্তমানে সময়ে ১০ বছরের একটি বাচ্চা থেকে শুরু করে ৬০/৭০ বছরের বৃদ্ধের হাতে একটি স্মার্টফোন থাকে যা দিয়ে তারা বিনোদন এবং যোগাযোগের জন্য ফেসবুক,ইউটিউব, টিকটক সহ অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে। ইন্টারনেট হলো আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ।

একজন মানুষ একদিন না খেয়েও বা একদিন না ঘুমিয়েও থাকতে পারে তবে কেউ একদিন ইন্টারনেট একদিন ব্যবহার না করে থাকতে পারে না। ইন্টারনেট আমাদেরকে ২৪ ঘন্টা ব্যস্ত করে রাখে। কথা না বাড়িয়ে চলুন আমাদের মেইন টপিকে চলে আসি।

ইন্টারনেট কি?: ব্যবহার, সুবিধা, অসুবিধা

ইন্টারনেট কি? (What is Internet?)

ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। যে পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্বের সকল তথ্য এবং সকল কম্পিউটারকে একত্রে যুক্ত করা হয় সেই ব্যবস্থাকে বা পদ্ধতিকে ইন্টারনেট বলা হয়। এই ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ১ম কম্পিউটার ২য় কম্পিউটার এর সাথে এবং ২য় কম্পিউটার ৩য় কম্পিউটার এর সাথে যুক্ত হয়। এভাবেই একটি কম্পিউটার এর সাথে অন্য একটি কম্পিউটার এর সাথে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট তৈরি হয়ে থাকে।

এই ব্যবস্থায় একটি ডিভাইস বা কম্পিউটার এর সাথে বাকি সকল ডিভাইস বা কম্পিউটার যুক্ত থাকে এবং একটি ডিভাইসে যে সকল তথ্য পাবলিক করা থাকে সেই সকল তথ্য গুলো বাকি কম্পিউটার গুলো এক্সেস করতে পারে বা দেখতে পারে।

ইন্টারনেট এর কোনো তথ্য পেতে হলে আমাদের World Wide Web বা www এর সাথে যুক্ত হতে হয় এবং Hyper Text Transfer Protocol বা http এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

অবশ্যই দেখবেন: 

ইন্টারনেট এর ইতিহাস | ইন্টারনেট এর জন্মকাল

১৯৬৯ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা Advanced Research Projects Agency বা ARPA পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা এই নেটওয়ার্ক প্রথমে আরপানেট (ARPANET) হিসেবে পরিচিত ছিলো।

প্রথম দিকে এটি শুধু সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য তৈরি করা হলেও এর সুবিধা গুলো দেখে এর কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটকে সকলের জন্য এই সেবা উন্মুক্ত করে দেয়। ১৯৮৯ সালে ISP দ্বারা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয় আজকের এই ইন্টারনেট।

১৯৯০ সাল বা এর পর থেকে পশ্চিমাবিশ্বের দেশগুলোতে ইন্টারনেট ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত হতে থাকে। ধীরে ধীরে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং আজ পৃথিবীর সকল জায়গায় এই ইন্টারনেট এর সুবিধা পাওয়া যায়।

ইন্টারনেটের জনক কে?

ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে তুলেছে। আমরা প্রতিদিন এর সেবা ভোগ করছি কিন্তু আমরা কি জানি ইন্টারনেট এর জনক কে? কে বা কাদের নিরলস পরিশ্রম এবং গবেষণার মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট পেয়েছি? হয়তো ৮০% মানুষই জানেন না ইন্টারনেট এর জনক কে। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পিছনে অনেকের অবদান রয়েছে তবে যে দুজন ব্যক্তির নাম সারা জীবন মনে থাকবে তাদের দুজনের নাম হলো “রবার্ট ই কান এবং ভিনটন জি কার্ফ”।

এই দুই ব্যক্তি Tran-mission Control Protocol ( TCP ) and the Internet Protocol ( IP ) এই দুই প্রোটোকল আবিস্কার করেছে।

ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি?

ইন্টারনেটকে ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ

১/ ডায়াল – আপ

২/ ডি এস এল

৩/ স্যাটেলাইট

৪/ ক্যাবল

৫/ ওয়ারলেস

৬/ সেলুলার

এসব নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

১/ ডায়াল -আপঃ

স্ট্যান্ডার্ট ফোন লাইন থেকে যে ধরনের ইন্টারনেট কানেকশন পাওয়া যায় তাকে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট বলে। এ ধরনের ইন্টারনেট প্রক্রিয়ায় সাধারনত ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মোবাইলে কানেকশন সংযুক্ত করে থাকে অর্থাৎ আপনারর ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করতে ১০ সেকেন্ড সময় লাগবে। যা সবার কাছে কমফোর্টেবল বলে মনে হয় না।

২/ ডি এস এলঃ

ডায়াল – আপের ধীর গতির জন্য সবার কাছে সেটি বেশি পছন্দের মাধ্যম না। ডি এস এল হলো ডায়াল আপ এর পরবর্তী সংস্করণ। ডি এস এল মূলত ক্যাবল কানেকশন। যা ডায়াল – আপ থেকে ১০০ গুন গতি সম্পূর্ন। যা সবার কাছে গ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়।

৩/ স্যাটেলাইটঃ

সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট কানেকশন হচ্ছে স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে তার বিহীন ভাবে ইন্টারনেট পরিসেবা দেওয়া সম্ভব। স্যাটেলাইট কানেকশন ইন্টারনেট জগতের দ্রুততম পরিসেবা দেওয়ার মাধ্যম।

৪/ ক্যাবলঃ

ক্যাবল হচ্ছে ব্রডব্যান্ড লাইনের মাধ্যমে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট কানেকশন দেওয়ার মাধ্যম। যারা অনলাইনে কাজ করে তাদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে অনেক তাড়াতাড়ি ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়।

৫/ ওয়ারলেসঃ

দুটি মাধ্যম কাছাকাছি দুরুত্বে অবস্থান করে একে অপরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করা হয় তাকে ওয়ারলেস কানেকশন বলে। সাধারণত পুলিশ বা বিভিন্ন বাহিনীর লোকেরা এসব ব্যবহার করে থাকে।

৬/ সেলুলারঃ

আমাদের মোবাইলে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় তাকে সেলুলার ইন্টারনপট বলা হয়ে থাকে। এটি অধিক জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? (How does the internet work?)

আপনার মনে হয়ত প্রশ্ন আসতে পারে “আসলে ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে বা একটি ডিভাইস এর তথ্য অপর একটি ডিভাইস থেকে কিভাবে এক্সেস করা যায়?”

আসুন এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিই।

এখন অফিস আদালত ছাড়া বেশি ব্যবহার না হলেও একসময় সকল প্রতিষ্ঠান এবং ঘরে ঘরে ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করা হতো। তখন মোবাইল বা স্মার্টফোন না থাকাতে একে অপরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিলো এই ল্যান্ড ফোন বা টেলিফোন।যেগুলো ইলেক্টিক তার দিয়ে একটি সাথে অন্যটি সংযুক্ত করা হতো। যার মাধ্যমে কথাবার্তা বা তরঙ্গ স্থানান্তর হতো। ঠিক একই ভাবে তার বা অপটিক্যাল ফাইভার দিয়ে এবং বিভিন্ন ইন্টারনেট অপারেটরদের Frequency এর মাধ্যমে সকল কম্পিউটার কে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হয়ে থাকে। ল্যান্ড ফোনে যেমন একজনকে ফোন দিলে অন্যজনের কাছে যায় না বা অন্য কেউ তাদের কথা শুনতে পারে না ঠিক তেমনি কেউ তাইলেই ইন্টারনেট থেকে যেকোনো তথ্য দেখতে পারবে না এর জন্য তার প্রয়োজন হবে নিদিষ্ট একটি আইপি এড্রেস যা তাকে ঐ তথ্য পর্যন্ত নিয়ে যাবে।

ধরুন আপনি যদি Google এ গিয়ে কিছু সার্চ করতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে গুগলে যেতে হবে এর জন্য Google.com বা এর নিদিষ্ট IP এড্রেসে যেতে হবে। তাহলে গুগল ওয়েবসাইটটি আপনার ডিভাইসে উন্মুক্ত হবে। তারপর আপনি গুগলের সেবা গুলো পেতে পারবেন।

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কি কি লাগে

আমি প্রথমেই বলেছি একটি কম্পিউটার বা ডিভাইসের সাথে বাকি ডিভাইস বা কম্পিউটার গুলো যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা গঠে উঠেছে তাই আমরা যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে যাবো তখন সর্বপ্রথম আমাদের একটি কম্পিউটার বা ডিভাইস (যেমনঃ মোবাইল) লাগবে। তারপর আমাদের প্রয়োজন হবে কোনো একটি সিম কম্পানির মোবাইল ডেটা বা ওয়াইফাই এর সংযোগ। সবশেষে যেটি লাগবে সেটা হলো একটি ওয়েব ব্রাউজার (Chrome,Mozila FireFox, Edge,Opera ইত্যাদি) যার মাধ্যমে আপনি নিদিষ্ট কোনো আইপি এড্রেস বা ওয়েবসাইটে যেতে পারবেন বা নিদিষ্ট তথ্য গুলোতে এক্সেস করতে পারবেন।

আমরা অনেকেই বলি যে ইন্টারনেটের কারণে আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়ে গিয়েছে আবার অনেকেই বলে ইন্টারনেট হলো তরুণ প্রজন্মের জন্য হুমকীস্বরুপ। আসলে ইন্টারনেট কি আমাদের বন্ধু নাকি শত্রু এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করে নিই।

ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধা (Advantages and disadvantages of internet)

সুবিধাঃ

১/ দৈনন্দিন কাজঃ

যেমন আপনার পরিবারের ৪ জন সদস্য। আপনার মা একমাত্র সদস্য যিনি এই ৪ জনের জন্য রান্না করেন। কিন্তু তিনি যদি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে কে রান্না করবে আপনার জন্য?

আগে এমন হলে সবাইকে না খেয়েই থাকতে হতো কিন্তু এখন প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে আপনার মোবাইল দিয়ে অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্মে (যেমনঃ ফুডপান্ডা) আপনার পছদের খাবার অর্ডার দিলেই কিছু সময়ের মধ্যেই সেগুলো আপনার বাড়িতে পৌছে যাবে, এটা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র ইন্টারনেট এর জন্য। শহরে এমনকি অনেক গ্রামেও এখন এই সুবিধা পাওয়া যায়। আপনি যেকোনো সময় খাবার অর্ডার দিয়ে খেতে পারবেন।

২/ কেনা কাটাঃ

একটা সময় ছিলো যখন আমাদের ঈদের বা বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য মার্কেট করতে গিয়ে পায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সবচেয়ে বেশি এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো কিন্তু এখন কাপড় কিনার জন্য আর ঘন্টার পর ঘন্টা দোকানে দোকানে ঘুরতে হয় না।

এখন যে কেউ চাইলেই ঘরে বসেই তার স্মার্ট ফোন দিয়ে সকল প্রকার কাপড় কিনতে পারবে। অর্ডার দেয়ার কয়েকদিনের মাঝেই কাপড় আপনার কাছে পৌছে যাবে। এখানে থাকে ক্যাশ অন ডেলিভারি এর সুযোগ। যার জন্য টাকা মেরে দেয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

আপনি কাপড় পেয়ে বা কাপর ভালো করে দেখে তারপর পেমেন্ট করে দিতে পারবেন। কাপড় ছাড়াও অনলাইনে এখন সকল জিনিস পত্র পাওয়া যায়। এমনকি টাটকা সবজি পর্যন্ত আপনি অনলাইন থেকে কিনতে পারবেন।

৩/ টাকা ইনকামঃ

শুধুমাত্র অনলাইন শপিং বা অফিস আদালতের কাজের মধ্যেই ইন্টারনেট সীমাবদ্ধ নয়। আপনি চাইলে এর মাধ্যমে প্রতি মাসে হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় করে নিতে পারবেন। বিভিন্ন কম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে বিবিন্ন ধরনের কাজের অফর দিয়ে থাকে যে কাজ গুলো করে আপনি অনলাইন বা ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

অনলাইন থেকে টাকা আয় করার অনেক গুলো উপায় বা পদ্ধতি আছে। আপনি চাইলে যেকোনো একটি বা একসাথে একাধিক উপায়ে আয় করতে পারবেন। যেমনঃ অনলাইন গেম খেলে টাকা আয়,ছবি বিক্রি করে টাকা আয়, লগো/ওয়েব সাইট / গ্রাফিক্স ডিজাইন করে টাকা আয়, রেফার করে টাকা আয় সহ আরো অন্যান্য উপায়ে আপনি অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

এছাড়া আপনি বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনার স্কিল বিক্রি করেও আয় করতে পারবেন যেমনঃ ফাইভার,ফ্রিল্যান্সার,আপওয়ার্ক ইত্যাদি।

৪/ অফিশিয়াল কাজঃ

আগে এই সুবিধা বিষয়ে মানুষ অবগত না থাকলেও এই করোনা কালীন সময়ে মানুষ ভার্চুয়াল অফিস বা নিজের বাড়িতে বসে অফিস করার সুবিধা টি উপভোগ করতে পেরেছে।

এক গবেষণা দেখা গেছে অফিসে বসে কাজ করার থেকে বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করার প্রতি আগ্রহ সকলের বেশি। ভার্চুয়ালি কাজ করলে অফিসের অনেক খরচ কমে যায় এবং এ ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রতিদিন লম্বা জ্যাম পার করে অফিসে যাওয়ার ঝামেলা থাকে না।

অনেক কম্পানি এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে করোনায় এই সময়ে এবং করোনা শেষ হয়ে গেলেও তারা ভার্চুয়ালি তাদের অফিসের সকল কাজ কর্ম পরিচালনা করবে। এতে বিনিয়োগ কম করতে হয় এবং লাভ বেশি হয়। এক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য একটি ভালো দিক হলো যে তারা আগের তুলনায় আরো বেশি সময় তাদের পরিবারকে দিতে পারবে।

৫/ ইমেইল করাঃ

আমরা আমাদের দাদা-দাদীদের থেকে শুনতাম বা আমরা অনেকেই নিজেরাও দেখেছি মানুষ আগে চিঠির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতো। বিভিন্ন পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে এসব চিঠি আদান প্রদান করতে অনেক সময় লেগে যেতো। ধরুনঃ আপনার কোনো প্রতিবেশী মারা গেলো। তার ছেলে বা মেয়েরা ঢাকায় বা দূরে থাকে। তখন তো ফোন ছিলো না তাই চিঠির মাধ্যমেই তাদেরকে জানাতে হতো। কিন্তু তাদের কাছে যদি চিঠি লিখা হতো তাহলে তার থেকে সেই দিন থেকে ৭-১০ দিন পর সেই খবর বা চিঠি তার কাছে পৌছাতো।

কিন্তু এখন প্রযুক্তির যুগে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে যেকোনো খবর পাঠানো যায়। এই সময়ে ৮০% মানুষ যোগাযোগের জন্য ইমেইল ব্যবহার করে থাকে।

৬/ তথ্য খোঁজার জন্যঃ

ধরুন আপনি সাজেক ভ্যালিতে ঘুরতে যাবেন তবে আপনি বা আপনার সাথে যারা যাবে তারা কেউ এর আগে ওখানে যায় নি তাহলে কিভাবে জানবেন সাজেক কিভাবে যেতে হয়, কোন হোটেলের খরচ কেমন?

একসময় নিজের ঘরে বসেই এসব জানার কোনো উপায় ছিলো না কিন্তু আজ ২০২২ এ এসে যে কেউ চাইলেই ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো জায়গার বিষয়ে তথ্য বের করে ফেলতে পারে।

আমি উদাহরণ দেয়ার জন্য শুধু এটা বললাম তবে আপনি চাইলে যেকোনো সময় যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করলেই সেই বিষয়ে সব কিছু জানতে পারবেন।

৭/ বিনোদনের এর ক্ষেত্রেঃ

আমাদের চারপাশের অনেক মানুষ শুধুমাত্র বিনোদনের জন্যই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। মানুষ সারাদিন ফেসবুক,ইউটিউব,টিকটকে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখে তারা বিনোদন নিয়ে থাকে।

৮/ শিক্ষার ক্ষেত্রেঃ

আমরা যারা শিক্ষার্থী আছি তারা সকলেই এই করোনার সময়ে ইন্টারনেট বা অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করার সুবিধার কথা আমরা জানি। এর মাধ্যমে আমরা নিজের ঘরে বসেই স্কুল কলেজের পাঠদান সম্পূর্ণ করতে পারি।

এমনি বর্তমানে অনেক এপ এবং ওয়েবসাইট পাওয়া যায় যেগুলোর মাধ্যমে বেকার যুবকরা টিউশনি করিয়ে টাকা আয় করতে পারে।

৯/ যোগাযোগ করার ক্ষেত্রেঃ

আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকা বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি।

অসুবিধাঃ

সারা দিন অনলাইনে থাকাঃ

সব কিছুর একটি ভালো এবং একটি খারাপ দিক আছে ঠিক তেমনি ইন্টারনেটে ক্ষেত্রেও কিছু অসুবিধা আছে। তবে অসুবিধার পরিমাণ করলে তা এর সুবিধার পরিমাণ থেকেই অনেক কম। বেশিরভাগ লোক তাদের প্রয়োজনে যেমন অফিসের কাজ করতে বা টাকা আয় করতে বা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে কিন্তু অনেকেই আছে যারা সকল কাজ কর্ম ফেলে রেখে সারাদিন ফোন নিয়ে ফেসবুক বা ইউটিউব ব্রাউজ করে। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়।

নিজের প্রয়োজনে অনলাইনে থাকলে সেক্ষেত্রে বলার কিছু থাকে না তবে আপনি যদি কোনো কারণ ছাড়াই অনলাইনে গিয়ে বসে থাকেন তাহলে সেটা আপনার নিজের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

এছাড়া আপনি যদি সারাদিন অনলাইনে থাকেন তাহলে আপনার চোখের সমস্যা হতে পারে তবে বিশেষ করে সারাক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকলে মস্তিষ্কে সমস্যা হতে পারে। তাই এসব বিসয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার।

এছাড়া ইন্টারনেট এ অনেক সময় ক্ষতিকর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে যেগুলোর মাধ্যমে আমাদের কম্পিউটার হ্যাক হয়ে যেতে পারে বা সব কিছু ডিলিট হয়ে যেতে পারে।

এগুলো বাদ দিলে ইন্টারনেট সত্যিই আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ।

আমরা যদি ইন্টারনেট এর সঠিক ভাবে সঠিক পথে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমরা এর মাধ্যমে আমাদের সকল কাজ কর্মকে সহজ করে তুলতে পারবো।

আমাদের সবশেষ কথাঃ

ইন্টারনেট হলো একটি বিশ্বজাল। জালের মতোই এটি সারা বিশ্বকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা যদি ইন্টারনেটকে সঠিক পথে ব্যবহার করতে পারি তাহলে এর সুফল গুলো আমরা পাবো। তবে ইন্টারনেটেও অনেক অপরাধ হয়ে থাকে আমাদের জন্য অনেক ক্ষতি কর। মাঝে মাঝেই জানা যায় যে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের তথ্য হ্যাক হয়ে গিয়েছে। এই অপরাধ গুলোর মাধ্যমে অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে থাকে। আমাদের কে এই সব বিষয় নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আমার লেখাটি “ইন্টারনেট কি?: ব্যবহার, সুবিধা, অসুবিধা”কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাবেন। লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। সময় নিয়ে আমার লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top