ফ্রিল্যান্সিং কি?: ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার গাইডলাইন: আজকে আমার লেখা যারা যারা পড়ছেন তারা সকলেই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অবশ্যই শুনে থাকবেন। অনেকেরই কোন পরিচিত আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত।

তাদের অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করছেন মাসে মাসে অনেক টাকা। আজকে আমাদের এই লেখাটি পড়ার পর আপনি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আদ্যোপান্ত জানতে পারবেন এবং জানতে পারবেন তারা কিভাবে কোন পদ্ধতিতে এই টাকা আয় করছে।

পাশাপাশি আপনি নিজেও ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন এবং ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করতে পারবেন অনেক টাকা ইনশা আল্লাহ।

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার গাইডলাইন
ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার গাইডলাইন

আর্টিকেল সূচি

ফ্রিল্যান্সিং কি?

প্রচলিত কোনো চাকরি কে উদাহরণ হিসেবে ধরুন। এই চাকরিতে আপনাকে সপ্তাহের একটি সুনির্দিষ্ট সময় এবং প্রতিদিন একটি সুনির্দিষ্ট সময় ব্যয় করতে হয়।
সপ্তাহের সর্বোচ্চ এক বা দুইদিন শুক্রবার না শনিবার ছুটি পাওয়া যায়।

তারপর মাস শেষে সেই চাকরির বেতনের টাকা পকেটে আসে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিষয়টি কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনাকে প্রতি সপ্তাহে বা প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট কোন সময় দিতে হবে না। আপনি সপ্তাহে কত সময় দিবেন বা প্রতিদিন কত সময় দিবেন বা আদৌ কোন সময় দিবেন কিনা এটা পুরোপুরি আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং কি বা ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে এই প্রশ্নের জবাবে আমরা বলতে পারি কোন সুনির্দিষ্ট কাজে স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক কাজ করাই হল ফ্রিল্যান্সিং। আর যারা ফিল্যান্সিং করেন তাদের বলা হয় ফ্রিল্যান্সার।

ফ্রিল্যান্সিং কত ধরনের হয়, ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয, ফ্রিল্যান্সিং কোথা থেকে শিখব, ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যা প্রয়োজন ইত্যাদি সকল প্রশ্নের জবাব আজকে আপনি আমাদের এই ব্লগটি পড়লেই ইনশা আল্লাহ পেয়ে যাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে এই লেখাটি আপনার জন্য এ টু জেড একটি বিস্তারিত গাইড লাইন হবে ইনশা আল্লাহ।

অবশ্যই পড়ুন: 

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু অনন্য সুবিধাঃ

ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু অনন্য সুবিধা আছে যেগুলো চাকরি বা ব্যবসা তে পাওয়া যায় না। আমরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের এমন কিছু অনন্য সুবিধা নিচে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

১. আপনি নিজের পছন্দের সময়ে কাজ করতে পারবেন। আপনি যদি কোন চাকরি করেন তবে আপনার একটি অফিস টাইম মেনটেন করা লাগবে ।

এমনকি পার্টটাইম চাকরির ক্ষেত্রেও আপনার সুনির্দিষ্ট একটি অফিস টাইম মেনটেন করা লাগবে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এ এই ঝামেলাটা নেই।

আপনি নিজেই এখানে নিজের কাজের সময় বেছে নিতে পারেন।

২. কাজ করার স্বাধীনতা ফ্রিল্যান্সিং এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা । যেমন ধরুন কোন অফিসে আপনাকে যদি কোন কাজ করতে বলা হয় আর আপনি যদি তা পারেন তবে তা আপনাকে করতেই হবে।

কিন্তু ফ্রীল্যান্সিং এ আপনার যদি কোন কাজ পছন্দ না হয় তবে সে কাজে বাধ্য করার মত কেউ নেই। ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার কাজগুলো বেছে নেবার বা প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে।

৩. ছুটি উপভোগ করার স্বাধীনতা ফ্রিলান্সিং এর কাজের আরেকটি অনন্য দিক। ছুটি উপভোগ করার স্বাধীনতা ফ্রিল্যান্সিংয়ে এর কাজে অনেক বেশী।

আপনি যখন ইচ্ছা তখনই আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ থেকে ছুটি নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনে। কিন্তু আপনি যদি ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী হন তবে আপনি এই কাজটি করতে পারবেন না।

আপনাকে নির্দিষ্ট সময়েএবং অনেক আগে থেকে এই ছুটির প্লানিং করে রাখতে হবে এবং বেশি দিনের ছুটি নিতে পারবেন না। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে আপনি যতদিন চান ততদিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।

অবশ্যই পড়ুন: 

ফ্রিল্যান্সিং এর প্রকারভেদঃ

প্রথমেই ফ্রিল্যান্সিং এর প্রকারভেদ আমরা আলোচনা করছি। এর মূল কারন হল প্রথমেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন প্রকারভেদ সম্পর্কে জানার পর আপনি যখন এই লেখাটির বাকি অংশ পড়বেন তখন আপনার একটি স্পষ্ট ধারণা থাকবে।

পাশাপাশি আপনি কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং করতে চান এবং এই ধরনের ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন তাও আপনি সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর ধারণা অনেক পুরাতন এবং ফ্রিল্যান্সিং কে অনেক ব্যাপক আকারে ব্যাখ্যা করা যায়।

যেমন কেউ কোন অফিসে সুনির্দিষ্ট কোনো কাজ একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পাদন করার জন্য কোন চুক্তি করলে তাকেও ফ্রীলান্সিং বলা যায়। কিন্তু আমরা আলোচনার সুবিধার্থে আমাদের আজকের আলোচনার শুধুমাত্র কম্পিউটার বা মোবাইল ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবো।

কম্পিউটারের সাহায্যে করা যায় এমন কাজ যেমন গ্রাফিক ডিজাইনিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটিং এসকল কাজকেই এখন ফ্রিল্যান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত বলা যায়।

আমরা এখন কম্পিউটারের সাহায্যে করা যায় এমন কিছু ফ্রিল্যান্সিং কাজ আলোচনা করব।

কনটেন্ট রাইটিংঃ

শুরুতেই কনটেন্ট রাইটিংয়ের কথা বলতে চাই । কনটেন্ট রাইটিং করার জন্য আপনার বিশেষ কোন স্কিলের প্রয়োজন নেই।

কোন ওয়েবসাইটের জন্য ফিচার ব্লগ বা বিভিন্ন পোস্ট লেখাকে কনটেন্ট রাইটিং বলে।

আপনি যেমন ছোটবেলায় বিভিন্ন ধরনের রচনা লিখে এসেছেন সেই রচনা লেখাকে, ভাব- সম্প্রসারণ, সারাংশ লিখে এসেছেন তাই আপনার বিভিন্ন ব্লগে বা ওয়েবসাইটে সুন্দর পরিশীলিত ভাষায় লিখতে হবে।

বলা বাহুল্য একজন কনটেন্ট রাইটার এর সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে গুণ আমি মনে করি তা হল রিসার্চ করা।

যেমন ধরুন আপনাদের জন্য এই ফ্রিল্যান্সিং লেখাটি লেখার জন্য আমাকে অনেক রিসার্চ করতে হয়েছে, অনেক লেখা পড়তে হয়েছে এবং পরিশেষে লেখাগুলো লেখাগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ধারাতে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করতে হয়েছে আমাকে।

কনটেন্ট রাইটার হবার জন্য আপনার আরো একটি গুণের দরকার তা হলো দ্রুত টাইপ করার ক্ষমতা। যত দ্রুত আপনি টাইপ করতে পারবেন আপনি তত বেশি কাজ করতে পারবেন এবং ক্লায়েন্টরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে।

যদিও কনটেন্ট রাইটিং আপনি মোবাইল দিয়েই করতে পারবেন; তবু একটি পিসি বা ল্যাপটপ থাকলে খুবই ভালো হয়। বিশেষ করে টাইপিং এর কাজে পিসি বা ল্যাপটপ খুবই দরকার।

কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য সাধারণ কনফিগারেশনের পিসি বা ল্যাপটপে যথেষ্ট।

আরও পড়ুন:

ডিজিটাল মার্কেটিংঃ

কনটেন্ট রাইটিং এর পর ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং এর একটি দুর্দান্ত ক্ষেত্র। ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে এই লেখাটি “ডিজিটাল মার্কেটিং কি? | কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন?“আপনি পড়ে আসতে পারেন।

বিশ্বের সবচাইতে বেশি বিখ্যাত চাকরির সাইট লিঙ্কড ইন। লিঙ্কড ইনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে চাকরি সবচাইতে বেশি খোঁজা হয়েছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ

ছবি, ভিডিও ব্যবহার করে কোন বার্তা জনসাধারণের কাছে পৌঁছানোর যে পদ্ধতি তাই হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনিং।

আপনার যদি ছবি আঁকা বা এডিটিং এর দক্ষতা থাকে বা আপনার এই বিষয়ে ভালো লাগে তবে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন।

ভালো করে কোন গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ করার জন্য ল্যাপটপ এর নূন্যতম কনফিগারেশন কোর আই ফাইভ হওয়া চাই।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর খুটিনাটি সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় আপনি আমাদের ওয়েবসাইটের এই পোস্ট থেকে দেখে আসতে পারেন “গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? | গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার সহজ উপায়!!“।

ওয়েব ডিজাইনিং এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্টঃ

কোন ওয়েবসাইটের পেজ কেডিজাইন করার কাজই হল ওয়েব ডিজাইনিং এবং ওয়েব সাইটের বিভিন্ন ফাংশন কিভাবে কাজ করবে এসব ডেভেলপ করা হল ওয়েব ডেভেলপিং।

যারা ডিজাইন করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য ওয়েব ডিজাইনিং এর কাজটি বিশেষভাবে রিকমেন্ড করব আমি এবং যারা প্রোগ্রামিং এর কাজ করতে চান তাদের জন্য ওয়েব ডেভেলপিং এর কাজ রিকমেন্ড করব। ওয়েব ডিজাইন সর্ম্পকে বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি পড়ুন: “ওয়েব ডিজাইন কি? | ওয়েব ডিজাইন শেখার পূনার্ঙ্গ গাইডলাইন

ভিডিও এডিটরঃ

কোন সুনির্দিষ্ট ভিডিওকে বা কয়েকটি ভিডিও কে একত্রে সুন্দর ভাবে এডিট করে তা উপস্থাপনযোগ্য করে তোলাই হলো ভিডিও এডিটিং।

ভিডিও এডিটর এর ক্ষেত্রে অনেক চাহিদা আছে। ইউটিউব চ্যানেলের জন্য, ফেসবুকের জন্য ভিডিও বানানোর দরকার হয়।

আবার বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর নিজের পণ্যের প্রচার প্রচারণার জন্য ভিডিও তৈরি করা খুবই প্রয়োজন হয়। তখন তারা ভিডিও এডিটর দেরকে ফ্রিল্যান্সিং ভিত্তিতে হায়ার করে থাকে।

ভিডিও এডিটিং এর জন্য আপনার ল্যাপটপ বা পিসির কনফিগারেশন কোর আই সেভেন হলে সবচাইতে ভালো হয়।

অবশ্যই পড়ুন: 

ট্রানসলেশনঃ

কোন ভাষার বই আর্টিকেল বা লেখাকে আরেকটি ভাষায় অনুবাদ করা হলো ট্রান্সলেশন।

ট্রান্সলেশন করার জন্য দুটি ভাষা জানা আবশ্যক। তার মধ্যে একটি হলে যে ভাষায় সে ট্রান্সলেশন করবে আরেকটি ভাষা হচ্ছে যে ভাষা থেকে ট্রান্সলেট করা হবে।

সাধারণত কোন আর্টিকেল, বই বা ডকুমেন্ট এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ট্রান্সলেশন করার প্রয়োজন হয়। মোবাইল দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং ট্রান্সলেশন এর কাজ করা যাবে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবোঃ

ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন প্রকারভেদ জানার পর আমরা আশা করি যে আপনি কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তা নির্ধারণ করে নিয়েছেন।
ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো, কোথা থেকে শিখব, কার কাছে শিখব এসব বিষয়ে আমরা এখন বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিক্ষাঃ

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা অনেক জায়গায় ফ্রিতে বা কিছু অর্থের বিনিময়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কোর্স করিয়ে থাকেন ।আপনি এখান থেকে যেই বিষয় এর ফিনান্সিং করতে চাচ্ছেন সেই বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কোর্স করতে পারেন।

তবে ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে এ ধরনের কোর্স করার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিবেন যে তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট কিনা।

অনলাইনে পেইড ফ্রিল্যান্সিং কোর্সঃ

অনলাইনে অনেক পেইড ফ্রীলান্সিং কোর্স পাওয়া যায় দেশি এবং বিদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে। তবে আপনি যদি অনলাইনে পেইড ফ্রীলান্সিং কোর্স করতে চান তবে আমি বলব যে আপনি বিদেশের বিভিন্ন বিখ্যাত ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে পেইড কোর্স করাই ভালো।

Udemy, Udacity মত বিখ্যাত ওয়েবসাইটে তারা তাদের পেইড কোর্সগুলো ছেড়ে থাকে। এখান থেকে আপনি খুব অল্প মূল্যে ১০ থেকে ৩০ ডলার এর মধ্যে বিভিন্ন কোর্স কমপ্লিট করে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারেন।

ইউটিউব থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখুনঃ

ইউটিউবে বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষাতেই ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন বিষয় যেমন ওয়েব ডেভলপমেন্ট গ্রাফিক্স ডিজাইন কনটেন্ট রাইটিং এর উপর বিস্তারিত অনেক টপিক আছে। এখান থেকে আপনি ফ্রিতে অনেক কোর্স করতে পারেন।

বাংলাদেশের অনেক বিখ্যাত ইউটিউবার আছেন যারা ফ্রিল্যান্সিং এর উপর বিভিন্ন কোর্স ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছেন। যেমন যুবায়েরস অ্যাক্যাডেমি, এন শামীম উনারা ইউটিউবে বিভিন্ন রকম কোর্স ফ্রিল্যান্সিং এর উপর আপলোড করেছেন।

এখান থেকে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারবেন খুব সহজেই।এছাড়া ইংরেজি ভাষার হাজার হাজার চ্যানেল আছে যেখান থেকে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারেন ইউটিউব থেকে।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার বইঃ

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের বই পাওয়া যায়। আপনি এই সকল বই থেকে ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন খুঁটিনাটি টেকনিক খুব সহজেই শিখতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য আপনি বইগুলো রকমারি থেকে কিনতে পারেন। আবার সামনাসামনি যেকোনো ভালো লাইব্রেরীতে বাছাই করে ও কিনতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর বই কেনার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন যে লেখক এর পরিচিতি কেমন এবং ফ্রিল্যান্সিং কাজে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে কি না।

পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এর বই কেনার সময় মাথায় রাখবেন যদি আপনার ওয়েব ডেভলপমেন্টে আগ্রহ থাকে কিন্তু আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর বই কিনেন তবে আপনার লাভ হবে না।

সুতরাং আপনি যেই বিষয়ের উপর ফ্রিল্যান্সিং করতে চান আপনাকে সেই বিষয়ের উপরই বই কেনা উচিত। পাশাপাশি এটাও খেয়াল রাখবেন যে বইয়ের রিভিউ কেমন দিয়েছেন পাঠকরা।

রকমারি ওয়েবসাইট এ আপনি যদি যান তখন দেখবেন সেখানের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পাঠকেরা বই সম্পর্কে মন্তব্য করে থাকেন এবং বই সম্পর্কে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

ফলে বই সম্পর্কে আপনার ধারণা হবে আর বই বাছাই আপনার জন্য সহজ হবে।

আর আপনি যদি বিদেশি ভাষার বই পড়তে চান তবে আপনি অ্যামাজন থেকে বইগুলো কিনতে পারেন।

এখন অনেকেই আছেন যারা নতুন বই কিনতে চান না বা নতুন বই কিনে অনেক টাকা খরচ করতে চান না। তারা পুরাতন বই কিনে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং বই PDF:

আর এমন অনেকেই আছেন যাদের নতুন না পুরাতন কোন বই কেনার সুযোগই নেই। তারা ফ্রিল্যান্সিং বই pdf পড়তে পারেন.

ফ্রিল্যান্সিং বই পিডিএফ পড়ার জন্য আপনি গুগলে সার্চ করে ফ্রিল্যান্সিং এর উপর অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত বইয়ের পিডিএফ পেয়ে যাবেন।

পিডিএফ পড়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যে কিছু ওয়েবসাইট বইয়ের নকল সংস্করণ একটি পিডিএফ ছেড়ে থাকেন যাতে পাঠকেরা ওই ওয়েবসাইটের দিকে আকৃষ্ট হন।

এই ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য আপনি যে লেখকের বই পিডিএফ পড়তে চান আর সেই লেখকের যদি রিকমেন্ড করা ওয়েবসাইট পিডিএফ প্রকাশ করে থাকে তবে সেই ওয়েবসাইট থেকে পিডিএফ নামিয়ে পড়া ভালো।

তাহলে আপনি নকল বইয়ের চক্করে পড়বেন না। এভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর বিভিন্ন বই এবং ফ্রিল্যান্সিং-এ র উপর পিডিএফ পড়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণঃ

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রচলিত ফ্রিল্যান্সিং এর কোর্স গুলো থেকে একটু আলাদা ধরনের। যেমন বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রোগ্রাম আছে লার্নিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সংক্ষেপে এলইডিপি।

সরকারের এই এলইডিপি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ ফ্রি হলেও বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কে আপনার টাকা দিয়ে শিখতে হবে।

এখানে হাতে-কলমে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে কিভাবে টাকা রিসিভ করবেন এসব বিষয়েও হাতে কলমে শিখানো হয়।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজঃ

ফ্রিল্যান্সিং বাংলাদেশ এ কাজ করার জন্য অনেক কাজ আছে এবং প্রতিদিন নিত্যনতুন কাজ এর ক্ষেত্র হচ্ছে।

যেমন কেউ কোন ওয়েবসাইট যদি খুলে তখন তার ওয়েবসাইটের ডিজাইন করার জন্য এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপ করার জন্য দুইজন ফ্রিল্যান্সারের প্রয়োজন।

পাশাপাশি যদি এই ওয়েবসাইটে যদি সে বিভিন্ন ছবি ভিডিও এডিটিং করতে চায় তবে তার ভিডিও এডিটর, গ্রাফিক্স ডিজাইনার এর প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাবার উপায়ঃ

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ পাবার জন্য সবচাইতে কার্যকরী উপায় এবং আমি নিজেও যে উপায়ে ফল পেয়েছি তা হচ্ছে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ খোজা।

ধরুন, আপনার ওয়েব ডিজাইনিং এ অভিজ্ঞতা আছে। এখন আপনি ওয়েব ডিজাইনারদের বিভিন্ন বাংলাদেশি গ্রুপে এড হতে পারেন।

এই গ্রুপে এড হওয়ার পর আপনি দেখবেন যে এখানে অনেক ক্লায়েন্ট রা তাদের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিদিন অনেক পোস্ট করে।

পোস্ট গুলোতে ক্লায়েন্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইমেইল দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের ফেসবুক আইডিতে যোগাযোগ করতে বলেন।

এখন আপনি ইমেইলের মাধ্যমে বা তাদের ফেসবুক আইডিতে নক করে তাদেরকে আপনার কাজের স্যাম্পল এবং পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে আপনি সহজেই কাজটি নিতে পারেন।

তবে আপনি যদি নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করেন তবে আমি আপনাকে বলবো আপনি অবশ্যই আপনার কাজের কয়েকটি স্যাম্পল রেডি করে রাখবেন এবং আপনার আস্কিং রেট অন্যান্য অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের থেকে অবশ্যই কম রাখবেন।

পাশাপাশি আরেকটা বিষয় যদি আপনি করেন তাহলে খুব ভাল হয় আর তা হল যদি আপনি আপনার কাজগুলো সমস্ত গুলো না হলেও অনেকগুলো কাজের স্যাম্পল একসাথে নিয়ে আপনার নিজের নামে কোন ওয়েবসাইট খুলেন।

ওয়েবসাইট খোলার সুবিধা হল আপনি আপনার ওয়েবসাইট খুললে সেখানে আপনার পোর্টফোলিও যেমন সহজে সবাইকে দিতে পারবেন পাশাপাশি প্রতিটা ক্লায়েন্টকে আপনার আলাদা করে স্যাম্পল দিতে হবে না।

আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেস যদি দেন তবে সেটাই আপনার পোর্টফলিও হবে এবং এই ওয়েবসাইট থাকা মানে আপনার অনলাইনে একটি ঠিকানা থাকা। ক্লায়েন্টরা তখন আপনার সবগুলো কাজ একবারে দেখতে পাবে এবং আপনি ওয়েবসাইট যদি খুলেন তবে সমসাময়িক অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের থেকে অনেক দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন ইনশা আল্লাহ।

বাংলাদেশে কাজ করে ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহণ পদ্ধতিঃ

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহন পদ্ধতি টা অনেক সহজ।

আপনার যদি পার্সোনাল বা আপনার পরিবারেরও যদি কারো বিকাশ একাউন্ট থাকে তবে আপনি সেই বিকাশ একাউন্ট থেকে পেমেন্ট গ্রহন করতে পারেন। এটাই বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহন করার সবচাইতে প্রচলিত পদ্ধতি।

তবে টাকার অঙ্ক যদি অনেক বেশি হয় তবে সে ক্ষেত্রে বিকাশ না করে আমি আপনাকে বলবো যে আপনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে টাকাটা তুলবেন।
তাহলে আপনার কোন টাকা কাটা যাবে না।

ফ্রিল্যান্সিং এর পেমেন্ট গ্রহন এর কাজে অনেকেই একটু শঙ্কায় ভোগেন যে ক্লায়েন্টরা তাদেরকে টাকা দিবে কিনা। এক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় হচ্ছে প্রথমবার যদি ক্লায়েন্ট আপনাকে টাকা দেয় তবে সে বারবার টাকা দিতেই থাকবে।

কাজেই ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করার সময় প্রথম পেমেন্ট রিসিভ করার ব্যাপার টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কাজ করার আগে আপনি দেখে নেবেন যে ক্লায়েন্টের আইডিটি ফেক আইডি কি না।

আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে আয়ঃ

আন্তর্জাতিক অনেকগুলো ফ্রিল্যান্সিং সাইট আছে যেখান থেকে আয় করা যায়। বিদেশী এসব ফ্রিল্যান্সিং সাইটে বিভিন্ন ক্লায়েন্টরা তাদের কাজের জন্য পোস্ট করে থাকেন।

যেমন এই ধরনের ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মধ্যে এক নাম্বার এ আছে ফাইবার। তার পরে আছে আপওয়ার্ক, গুরুর মত বিখ্যাত বিখ্যাত ওয়েবসাইট।

এইসব ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ক্লায়েন্টরা পোস্ট করে থাকেন এবং যারা যারা ফ্রিল্যান্সার আছেন তারা সেই পোস্ট পড়ার পর সেই কাজের জন্য বিড করে থাকেন।

যেমন ধরুন কানাডা তে একজন লোক একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলেছে। এখন তার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন পণ্যের বিবরণ লেখার জন্য একজন কনটেন্ট রাইটার দরকার সাময়িকভাবে।

এখন কনটেন্ট রাইটার পাওয়ার জন্য সে ফাইবার এ পোস্ট করল। ফাইবারের পোস্ট করার পর যার কাজ ক্লায়েন্টের পছন্দ হবে এবং যার আস্কিং প্রাইস তার প্রাইস এর সাথে মিলে যায় যাবে এরকম একজন কনটেন্ট রাইটার সে তার কাজের জন্য হায়ার করবে।

ক্লায়েন্ট রা যে শুধু কনটেন্ট রাইটার এর জন্যই পোস্ট করে তা না। তারা ওয়েব ডেভলপার, ওয়েব ডিজাইনার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার সহ সকল ধরনের ফ্রিল্যান্সিং ক্যাটাগরির জন্য পোস্ট করে থাকে।

বিদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার সুবিধাঃ

বিদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার কিছু অন্যান্য সুবিধা আছে। তার মধ্যে প্রধান আমি বলব যে বিদেশে ফ্রিল্যান্সিং আয় বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করলে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় তার থেকে সাধারণত কয়েকগুণ বেশি হয়।

যেমন ধরুন বিদেশের সর্বনিম্ন পারিশ্রমিক ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য যেটা এমনকি আপনি যদি বিগিনার ও হন তাও ঘন্টায় ৫ ডলার। ঘন্টায় ৫ ডলার মানে ৪৮৫ টাকা।

ঘন্টায় ৪২৫ টাকা বর্তমান বাংলাদেশে এক ডলার সমান ৮৫ টাকা করে ধরে। বাংলাদেশে এমন ফ্রিল্যান্সার আছে যারা প্রতি মাসে ঘরে বসে বসে থেকে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছে এরকম বিদেশি ফার্মে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে।

বিদেশে ওয়েবসাইট গুলোতে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করলে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট অসাধারণ হবে বাংলাদেশ এ ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার তুলনায়। এর মূল কারণ আমি বলব বিদেশের ওয়েবসাইটগুলো অনেক কম্পেটিটিভ।

এখানে কাজ করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক বেশি পড়তে হবে এবং অনেক বেশি যোগ্য হওয়া লাগবে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের যে ফ্রিল্যান্সিং এর বাজার তা অনেক কম কম্পিটিটিভ বিদেশের তুলনায়।

কাজেই বিদেশে কাজ করলে আপনার যে দক্ষতা এবং জ্ঞান হবে তা অবশ্যই বাংলাদেশ কাজ করলে অর্জিত দক্ষতা ও জ্ঞান থেকে বেশি হবে এবং এর ফলে আপনার ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিদেশে কাজ করলে বাংলাদেশের কাজ করার তুলনায় অনেক অনেক ভালো হবে ইনশা আল্লাহ।

বিদেশে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ পাবার উপায়ঃ

বিদেশে ফ্রিল্যান্সিং সাইট এ কাজ করলে অর্থের পরিমাণ অনেক অনেক গুণ বেশি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ করার তুলনায় তা আপনারা আগের প্যারা তেই জেনে এসেছেন। কিন্তু বিদেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করলে অর্থের পরিমাণ যেমন বেশি পাশাপাশি এখানে কাজ পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে একজন বিগিনারের জন্য কাজ পাওয়া বিশেষ কঠিন।

আমি এখানে কিছু টেকনিক শিখিয়ে দিব যার ফলে একজন যদি কেউ ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ পাবার যোগ্য হয় তবে তবে বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে সহজেই কাজ পেতে পারবে ইনশা আল্লাহ।

আমার লেখা যারা পড়ছেন তাদের অনেকর দেশী বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ব্লগে লেখার অভিজ্ঞতা আছে। আপনারা জানেন যে বাংলা ভাষায় প্লেজিয়ারিজম ধরার জন্য কার্যকরী কোন টুল নেই।

কিন্তু, ইংরেজি ভাষায় লেখার প্লেজিয়ারিজম ধরার জন্য অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত টুল আছে কপিস্কেপ এর মত। এমনকি আপনি যদি একটি লাইন কোন জায়গা থেকে হুবহু কপি করে থাকেন তবে আপনার এই প্লেজিয়ারিজম ধরা পড়ে যাবে এবং এই প্লেজিয়ারিজম আপনার ক্যারিয়ারকে ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

কাজে প্রথমে মাইন্ডসেট আপনার চেঞ্জ করতে হবে আর তা হল প্লেজিয়ারিজম কে বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ করার ক্ষেত্রে পুরোপুরি না বলতে হবে।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে প্লেজিয়ারিজম যদি না হয় তাহলে আমি তথ্য সংগ্রহ করবো কোথা থেকে। এটার জন্য আমি আপনাকে সহজ বিষয় বলব যে আপনি যদি কোন বিষয়ে লিখতে চান যেমন ধরুন আপনি যদি সিংহের বিষয়ে লিখতে চান তবে আপনি ১০ থেকে ১৫ টি ওয়েবসাইট এর এই সম্পর্কিত লেখা পড়ুন।

অথবা অনেকগুলো বইয়ের লেখা পড়ে লেখাগুলোকে আপনি নিজের মত সাজান। তারপর আপনার নিজের মতো সাজিয়ে আপনি একটি লেখা লিখুন তাহলে এই লেখাগুলো প্লেজিয়ারিজম হিসেবে গণ্য হবে না।

প্লেজিয়ারিজম তখনই হবে যখন আপনি অন্য আর একজনের কোন লেখাকে হুবহু কপি করবেন।

বিদেশে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোর ভাষা ইংরেজি। সুতরাং ইংরেজি ভাষায় আপনাকে বিশেষ দক্ষ হতে হবে।

বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে যদি আপনি কাজ করতে চান তবে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এখন আপনি বলতে পারেন ইংরেজি ভাষার সম্পর্কে আমি অনেক জানি তবুও লিখতে গেলে প্রিপজিশন টেন্স হালকা ভুল হয়েই যায়।

তবে এক্ষেত্রে আমি আপনাকে একটি সহজ সমাধান দিব আর তা হলো গ্রামারলি সফটওয়্যার ইউজ করা। আপনি সফটওয়্যারটি আপনার ল্যাপটপ, পিসি বা মোবাইলে ডাউনলোড করতে পারবেন ফ্রি তে এবং এই সফটওয়্যার টি ইউজ করতে পারবেন।

এই সফটয়্যার আপনার ছোটখাটো অনেক ভুল যেমন স্পেলিং মিসটেক, টেন্স, প্রিপজিশন এর ভুল এরকম ছোটখাটো ভুল গুলো ধরিয়ে দেবে যার ফলে আপনার সেন্টেন্স শুদ্ধ হবে।

তবে এই সফটওয়ারের আপনাকে এরকম প্রিপজিশন টেন্স ধরিয়ে দিলেও আপনার যদি ইংলিশে বেসিক নলেজ একদমই কম থাকে তবে এই সফটওয়্যারের এর ধরিয়ে দেওয়া ভুল আপনার কারেকশন করতে করতেই দিন চলে যাবে।

সুতরাং বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ করতে হলে আপনার ইংরেজীতে ভাল হতে হবে।

এরপর আপনি যদি ফাইবার আপওয়ার্ক বা গুরুর মত ওয়েবসাইটগুলোতে কাজ করেন তবে দেখবেন প্রতিটা ওয়েবসাইটের কিছু আলাদা আলাদা নিয়ম আছে।

যেমন ফাইবারে আপনি নিজের পার্সোনাল নাম্বার আদান-প্রদান করতে পারবেন না আবার আপওয়ার্কে আপনার তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই শুধু ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে হবে।

অর্থাৎ তারা তারা চাই যেন আপনি তাদের ওয়েবসাইটে সীমানার মধ্যে থেকে লেনদেন থেকে শুরু করে সমস্ত কথাবার্তা ক্লায়েন্টের সাথে বলেন। তাদের এরকম নিয়ম দেওয়ার কারণ হল যে তাঁরা ক্লায়েন্টদের এবং ফ্রিল্যান্সারদের যে কাজ হয় সেই কাজের থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে তারা একটি নির্দিষ্ট অংকের কমিশন পেয়ে থাকে।

এখন ক্লায়েন্ট এবং ফ্রিল্যান্সাররা যদি তাদের ওয়েবসাইট কে বাদ দিয়ে নিজেরা নিজেরা ডিল করতে শুরু করে দেয় তাহলে তো তাদের কমিশন কমে যাবে; তাই তারা এরকম কিছু নিয়মকানুন করে রেখেছে।

তবে আপনাকে এতসব বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি এসব নিয়ম মেনে চলবেন সব সময়। যদি আপনি এসব নিয়মকানুন মেনে না চলেন তবে আপনাকে ওয়েবসাইট থেকে ব্যান করে দেয়া হতে পারে।

এরপর ধরুন আপনি ক্লায়েন্টের একটি কাজ যেমনএকজন ওয়েবসাইট ডিজাইনার ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর জন্য একটি বিজ্ঞাপন দেখল।

এখন ওই ওয়েবসাইট ডিজাইনার ক্লায়েন্ট এর সাথে যোগাযোগ করবে এবং তাকে তার স্যাম্পল দেখাবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথমে যা বলে এসেছিলাম সেটা করাই সবচাইতে ভালো আর তার তা হলো ফ্রিল্যান্সার এর নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট তৈরি করা এবং ফ্রিল্যান্সারের নিজস্ব ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া তাহলে ক্লায়েন্ট।

এখানে ক্লায়েন্ট যেমন একসাথে সবগুলো ডিজাইন দেখতে পাবে পাশাপাশি ক্লায়েন্টের কাছে ফ্রিল্যান্সারের ইমেজ ও বৃদ্ধি পাবে।

তারপর যদি ফ্রিল্যান্সার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজটি পেয়ে যায় তবে তার প্রথম যে লক্ষ্য হবে তাহলো কাজটি সুন্দরভাবে শেষ করা। কাজটি করতে যে সময় দেয়া হয়েছে যেমন ধরুন দুই দিনের সময় দেয়া হয়েছে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য।

ফ্রিল্যান্সার কাজটি যত দ্রুত সম্ভব কাজটি যেন শেষ করে এর মূল কারণ হলো কাজটি সে যত দ্রুত শেষ করতে পারবে ক্লায়েন্টের জন্য তা তত ভাল হবে এবং ক্লায়েন্ট তার কাজ তত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারবে।

ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সবসময় ফাইভস্টার রিভিউ নেওয়ার চেষ্টা করবেন আর আপনি যদি প্রথম দিকে অ্যাকাউন্ট খুলে থাকেন বিশেষ করে ফাইবারের মত ওয়েবসাইটে তবে মনে রাখবেন যে এখানে আপনি যতক্ষণ পারেন পারলে ২৪ ঘন্টা এক্টিভ থাকবেন।

কারণ যতক্ষণ একটিভ থাকবেন আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। আর একবার যদি আপনি কোন ক্লায়েন্টের কাজ ভালো করে করতে পারেন তবে সেই ক্লায়েন্টের কাছ থেকে বারবার কাজ পাবার সম্ভাবনা আপনার বেড়ে যাবে।

আর ক্লায়েন্টের সাথে সবসময় প্রফেশনাল বিহেভ করবেন। এখানে প্রফেশনাল বলতে আমি বুঝাতে চেয়েছি যে কাজ শেষ হলে কখনোই তার কাছে এমন কি এক ডলার ও টিপস চাইবেন না।

আর আরেকটি বিষয় হল যে কাজ আপনি পারেন না সেই কাজ আপনি কখনোই বিড করবেন না।

যেমন আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার কিন্তু আপনি যদি একজন কনটেন্ট রাইটার এর কাজ নেন তবে আপনার কনটেন্ট রাইটার এর কাজ সম্পর্কে কিছু ধারনা থাকলেও তা একজন প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার এর মত হবে না।

যার ফলে আপনার রেটিং কমে যেতে পারে যা আপনার ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলবে। কাজে আপনি যে কাজ পারেন শুধুমাত্র সেই কাজের জন্য বিড করবেন।

প্রথমদিকে আস্কিং রেট অবশ্যই কম রাখবেন। যদিও ফাইবার, আপওয়ার্ক, গুরুর মত ওয়েবসাইটে সর্বনিম্ন আস্কিং রেট হচ্ছে ঘণ্টায় ৫ ডলার।

বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলো থেকে পেমেন্ট যেভাবে গ্রহণ করবেনঃ

বিদেশের ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে আপনি পেমেন্ট গ্রহন করার জন্য আপনার অবশ্যই একটি জিনিস লাগবে আর তা হল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড। সুতরাং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ক্রেডিট কার্ড অবশ্যই নিতে হবে তারপর বিভিন্ন রকম ওয়েবসাইটে যেমন ফাইবার, আপওয়ার্কে এদের পেমেন্ট গ্রহন করার আলাদা আলাদা নিয়ম থাকে।

তবে ক্রেডিট কার্ড সব জায়গায় ব্যবহার করতে হয়। আর আপনি যদি এইসব ফাইবার, আপওয়ার্ক এসব ওয়েবসাইটের নেটওয়ার্কের বাইরে অন্য কোন ভাবে কাজ যোগাড় করেন তবে পেমেন্ট গ্রহন করার জন্য বাংলাদেশ থেকে সবচাইতে কার্যকর উপায় হল payoneer একাউন্ট খোলা।

paypal বাংলাদেশ এ না চললেও payoneer একাউন্ট চলে। payoneer একাউন্ট ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা বাংলাদেশে আনতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারঃ

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কম্পিউটার রিলেটেড কাজের গুরুত্ব খুবই বেশি। একটি উদাহরণ দিলে আপনি সহজেই তা বুঝতে পারবেন।

খুব সম্প্রতি হয়ে যাওয়া করোনায় অনেকের কাজ চলে গেলেও যারা ফ্রিল্যান্সার তাদের কাজের কোনো ক্ষতি হয়নি বরং তাদের বেশীরভাগেরই কাজ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনকে দিন যত যাবে ততো ফ্রিল্যান্সারদের মূল্য বৃদ্ধি পাবে কারণ কম্পিউটার রিলেটেড কাজের পরিমাণ দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে।

ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন দক্ষতা সময় ব্যয় এর পরিমাণ ইত্যাদি। দক্ষতার ক্ষেত্রে আপনি একটি কাজে কি পরিমান দক্ষ এবং কত দ্রুততার সাথে তা সম্পন্ন করতে পারছেন তার সাথে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার এর গ্রাফ এর সম্পর্ক আছে।

আর সময়ের ক্ষেত্রে বলা যায় যে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে কতটা সময় দিচ্ছেন। যেমন যে ফুলটাইম ফ্রিল্যান্সার এর ক্যারিয়ার যে পার্টটাইম ফ্রিল্যান্সার অর্থাৎ ২ থেকে ৩ ঘন্টা কাজ করে তা অবশ্যই ভালো হবে।

সুতরাং নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ফ্রিল্যান্সিং এর ক্যারিয়ার খুবই ভালো। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি যেসব কাজ শিখবেন যেমন ওয়েব ডিজাইনিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, কনটেন্ট রাইটিং তা যে শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে লাগার পাশাপাশি চাকরি ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে।

এসব কাজের মূল্যমান এতটাই বেশি যে এসব কাজের জন্য আপনি বিভিন্ন ফুলটাইম জব অনায়াসে পাবেন স্কিল শিখে রাখলে।

শেষ কথা, 
এতক্ষণ আমরা ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানলাম। ফ্রিল্যান্সিংয়ের যেই ক্ষেত্র আপনি বেছে নেন না কেন আপনার মনে রাখতে হবে যে আপনার সেই দিকগুলো ভালো করে শিখতে হবে এবং এটার জন্য আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে।

পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রথম দিকে আপনার কাজ পাবার জন্য বেশ স্ট্রাগল করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আপনার যদি আর কোন প্রশ্ন থাকে তবে আপনি আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান আর লেখাটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তবে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে আমাদের পাশে থাকুন।

9 thoughts on “ফ্রিল্যান্সিং কি?: ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন”

  1. মোহাম্মদ আসাদ

    ভাই, আসসালামু আলাইকুম। লেখাটা পড়ে ভলো লেগেছে। ধন্যবাদ।
    আমার প্রশ্ন ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে বয়স কোন বাধা কিনা? আমার বয়স ৩৪ আমি কি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবো?
    ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এ কাজ করতে চাই। ইংরেজিতে ভালো টাইপিং স্পিড ৫/৬।
    ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট শিখতে কেমন সময় লাগবে?
    মেহেরবানি করে বিস্তারিত জানবেন।

    1. মোহাম্মদ আসাদ, ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে বয়স কোন বিষয় না। ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট শিখতে কেমন সময় লাগবে? এই প্রশ্নের উওর সঠিক ভাবে বলা মুশকিল। আপনার পরিশ্রম আর মেধার উপর নির্ভর করবে। তবে শিখতে কমপহ্মে ০৬ মাসতো লাগবেই।

      1. মোহাম্মদ আসাদ

        ধন্যবাদ
        ইমেইল এ আপনাদের সাইটের আপডেট পেতে চাই। সুযোগ আছে কি?

  2. মোহাম্মদ আসাদ

    ধন্যবাদ
    ইমেইল এ আপনাদের সাইটের আপডেট পেতে চাই। সুযোগ আছে কি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap