পাইকারি ব্যবসা কি?: সেরা ১৫ টি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া

একটা সময় ছিল যখন মানুষ অনেক পড়াশোনার শেষে একটি ভালো চাকরির স্বপ্ন দেখতো। চাকরি যতই ভালো হোক না কেন চাকর থেকেই চাকরি শব্দের উৎপত্তি। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক অনেক ধনী ব্যাক্তিরা এসেছিল কই তাদের মধ্যে চাকুরীজীবি কয়জনই বা ছিল? 

আপনি যদি অনেক কোটিপতি হতে চান এবং ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে যাওয়ার মতো কিছু করে যেতে চান তাহলে আপনাকে ব্যবসা করতে হবে। ব্যবসা আপনাকে দিবে সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাধীনতা। যেটা কখনোই আপনি চাকুরির ক্ষেত্রে পাবেন না। 

এখন অনেকেই বলবেন ব্যবসায়তো অনেক রিস্ক আর সফল হওয়াও অনেক কষ্টের। হ্যা ভাই ব্যবসায় অনেক অনেক বেশি রিস্ক কিন্তু কথাই আছে না নো রিস্ক নো গেইন। যদি আসলেই ভালো কিছু পেতে চান তাহলে আপনাকে রিস্ক নিতে হবে এটাই সত্য। সফল হওয়া কষ্ট? পৃথিবীতে সফলতা শব্দটার পেছনে এমনিতেই অনেক কষ্ট জড়িয়ে আছে কোন কিছুই সফল হওয়া সহজ না। 

ব্যবসায় সফল না হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ কি জানেন? ব্যবসার ধরণ এবং পণ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ না করা। 

বর্তমানে যুব সমাজ ব্যবসার দিকে ধাবিত হচ্ছে ক্রমেই। সব কিছু অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যওয়ার ব্যবসায় হয়ে উঠেছে আরো সহজ।

কিন্তু প্রত্যেক ব্যবসায়ীরাইতো খুচরা ব্যবসা করছে তাই খুচরা ব্যবসার প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু পাইকারি ব্যবসা খুব কমই করছে মানুষ তাই এই পাইকারি ব্যবসার বাজারে একনো প্রতিযোগিতা খুবই কম। যদি শুরু করতে চান তাহলে আপনি পাইকারি ব্যবসা শুরু করুন।

পাইকারি ব্যবসা করার আইডিয়া
পাইকারি ব্যবসা করার আইডিয়া

আজকে আপনাদের কিছু পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া, Profitable Wholesale Business, এবং পাইকারি ব্যবসা কিভাবে করতে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব আজকের এই পোস্টে। 

পাইকারি ব্যবসা সম্পর্কে জানার আগে চলুন জেনে আসি ব্যবসা কাদের করা উচিত।

আপনার জন্য আমাদের সাইটে আর ও পোস্ট: 

কাদের জন্য ব্যবসা? (Business for whom?)

ব্যাবসা কি সবার করা উচিত? তার সহজ উত্তর হলো “না”। ব্যবসা সবার জন্য আসে নাই। আমি অনেক জনকেই বলতে শুনেছি “আমি খুব অলস মানুষ আমি চাকরি পারব না আমার জন্য ব্যবসাই বেস্ট” কিন্তু আপনি কি জানেন চাকুরী থেকে ব্যবসা বেশি কষ্টের?

আপনি যদি একটি চাকরি করেন তাহলে সপ্তাহে ১ দিন ছুটি পাবেন আর চাকরির ক্ষেত্রে আপনার যতক্ষণ ডিউটি থাকবে আপনি ততক্ষণই পরিশ্রম করবেন বা আপনার কাজ নিয়ে চিন্তিত থাকবেন বাকি সময়টা রিলেক্স। কিন্তু ব্যবসার ক্ষেত্রে কি হয় জানেন? ব্যবসায়ীদের কখনো উইকেন্ড থাকে না। তাদেরকে সারা বছরই তাদের ব্যবসা নিয়ে পরিশ্রম করতে হয় তাদের কোন নির্দিষ্ট সময় নয় বরং সারাদিনই ব্যবসার চিন্তা নিয়ে থাকতে হয়। আর লাভ ক্ষতির চিন্তা তো নিত্য সঙ্গী তাদের।

এখন একদল মানুষ আমাকে উত্তর দিবেন “আমিতো অমুক ব্যবসায়ীকে দেখেছি সারাদিন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে “। আরে মাশাই আপনি তার থেকে জিজ্ঞেসা করে আসুন তার এই ঘুম সে কতদিনে অর্জন করেছে। হাজারো রাত না ঘুমানোর বিনিময়ে তার এই ঘুম অর্জন হয়েছে।

আর তেলটা কিন্তু নাকেই দিয়েছেন তিনি মাথায় নয়। যতই নাকে তেল দিয়ে ঘুমাক মাথাই ঠিকই দুশ্চিন্তা কাজ করছে তার। আপনি আপনার ব্যবসায় হাজার লোক নিয়োগ দিন কোন সমস্যা নাই কিন্তু তাও ব্যবসা আপনার, টাকা আপনার, দুশ্চিন্তাও আপনার। কথা গুলো আপনার খারাপ লাগতে পারে তবে কথা গুলোই বাস্তব।

অনেকেই আপনাকে প্রলোভন দেখাবে ব্যবসা মানেই টাকা আর টাকা তারপর আপনি ব্যবসা শুরু করবেন তারপর হতাশা, ব্যর্থতার সূত্রপাত। কথা গুলো জেনে রাখা সবারই দরকার। চলুন জেনে আসি এবার ব্যবসা করার জন্য আপনার কোন বিষয় গুলো থাকা অত্যন্ত জরুরিঃ-

) ইনভেস্ট করা মতো অর্থ। 

২) রিস্ক নেওয়ার মতো সাহস। 

৩) ধৈর্য্য। 

পাইকারি ব্যবসা কি? (What is wholesale business?)

ব্যবসার অনেক অনেক রকমের প্রকারভেদ আছে তার মধ্যে একটি হলো পাইকারি ব্যবসা। পাইকারি ব্যবসা হলো এমন একটি ব্যবসা যেখানে ব্যবসায়ী সরাসরি উৎপাদনকারী থেকে পণ্য এনে সেই পণ্য খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌছে দেয়৷ একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝি, 

মনে করুন আপনি কাপড়ের পাইকারী ব্যবসা করবেন তাহলে আপনি কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা গার্মেন্টস থেকে কাপড় আনবেন সেই কাপড় আপনি খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন।

এখানে খুচরা বিক্রেতারা বেশি সংখ্যাক পণ্য কিনতে পারে না তাই তারা সরাসরি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পণ্য নেওয়ার সুযোগ থাকে না কারণ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পণ্য নিতে হলে বাল্ক এমাউন্টের পণ্য নিতে হয়। তাই wholesale businessman’রা বাল্ক একাউন্টের পণ্য নিয়ে তা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। 

এটিই হলো পাইকারি ব্যবসার মূল কনসেপ্ট।

আরও দেখতে পারেন: 

কেন পাইকারি ব্যবসা?

আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসছে এত এত ব্যবসা থাকতে কেন আপনি পাইকারি ব্যবসা করবেন? চলুন কারণটা একটু জেনে আসি।

আজকাল ব্যবসায়ীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আপনি চারপাশে তাকিয়ে দেখুন সবাই ব্যবসা করতে চাই এবং করছেও কিন্তু সবাই কেমন ব্যবসা করছে? দেখবেন বেশিরভাগই করছে খুচরা ব্যবসা।

মানে ফেইসবুকে পেইজ খুলে ব্যবসা করছে এটি মূলত খুচরা ব্যবসার মধ্যেই পরে। একটু ভেবে দেখুন খুচরা ব্যবসায়ী বাড়ছে তার মানে খুচরা ব্যবসার কম্পিটিশন বাড়ছে আবার দেখুন খুচরা ব্যাবসায়ীর পরিমাণ বাড়ছে মানে পাইকারি ব্যবসায়ীর চাহিদা বাড়ছে।

ব্যাপারটা কঠিন হয়ে গেলে আরেকটিবার চিন্তা করে দেখুন দেখবেন পাইকারি ব্যবসাই হলো বর্তমানে প্রোফিটেবল ব্যবসা। এবার চলুন আরো কিছু কারন দেখে আসি কেন আপনার পাইকারি ব্যাবসা করা দরকার। 

  • হিউজ প্রোফিট

পাইকারি ব্যাবসার কনসেপ্ট টা থেকেই বুঝার কথা এই ব্যাবসায় প্রচুর প্রোফিট। যাদের কাছে বিষয়টি ক্লিয়ার হয় নি তাদের একটি উদাহরণ দিই।

মনে করুন আপনি শার্টের ব্যবসা করবেন তাহলে আপনাকে বাল্ক একাউন্টের শার্ট বাজার গার্মেন্টস থেকে কিনে আনতে হবে মনে করুন আপনি প্রতি পিস শার্ট ৭০ টাকা কিনলেন। তারপরে আপনি সেই শার্ট খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন ১২০ টাকা দরে। এবার একটু ভাবুন খুচরা বিক্রেতা কখনোই একটি শার্ট নিবে না মনে করুন সে ১০ টি শার্ট নিলো ১২০ টাকা দরে তাহলে সে টোটাল ১২০০ টাকার শার্ট নিলো আপনার কাছ থেকে।

এবার হিসেব করুন এই শার্ট কিনতে আপনার খরচ হয়েছে ৭০*১০= ৭০০ টাকা। মানে একজন কাস্টমার থেকেই আপনার ৫০০ টাকা প্রফিট হয়েছে৷ যেটা অন্য ব্যবসায়ার ক্ষেত্রে করতে পারা খুব কঠিন শুধু মাত্র পাইকারী ব্যবসায়ই এত সহজে এত বেশি প্রোফিট করা যায়৷ 

  • পারমানেন্ট কাস্টমার

আপনি চিন্তা করুন আপনি কি সব সময় এক দোকান থেকেই শার্ট কিনেন? উত্তর হলো “না”। কিন্তু একজন খুচরা বিক্রেতা সব সময় একজন পাইকারী বিক্রেতা থেকেই পণ্য কিনে বেশিরভাগ সময়ে। তাই ভালো পণ্য দিতে পারলে কস্টমার পাওয়া খুব সহজ। 

  • সিজনাল প্রোফিট

প্রত্যেক পণ্যেরই এমন কোন সময় থাকে যে সময়ে সেই পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে কিন্তু উৎপাদন কম থাকে। তাই সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ব্যবসায়িরা আগে থেকে পণ্য স্টক করে সেই সময়ে মোটা দামে তা বাজারজাত করে। যদিও এটি সম্পূর্ণ অন্যায় একটি কাজ। 

আসা করি বুঝতেই পেরেছেন পাইকারি ব্যাবসা করার জন্য উৎসাহিত করার পেছনের কারণ।

আরও দেখুন: 

কত টাকা দিয়ে শুরু করা যায় পাইকারী ব্যবসা?

দেখুন পাইকারি ব্যবসায় যেমন রয়েছে প্রচুর লাভ তেমনি এখানে ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণও বেশি। তার কারণ আপনাকে অনেক বড় সড় একাউন্টের পণ্য কিনতে হবে তার খরচ হবে তারপর আবার সেই পণ্যকে সঠিকভাবে স্টোর করার পিছনেও খরচ আছে। মোট কথা আপনাকে বড় সড় টাকার একাউন্ট নিয়ে নামতে হবে এই ব্যবসায়। হ্যা ভাই ইনভেস্টমেন্ট যত বেশি রিস্কও তত বেশি আমি প্রথমেই বলেছিলাম রিস্ক নেওয়ার সাহস না থাকলে ব্যবসা আপনার জন্য। 

যাই হোক কত টাকা লাগবে তার সঠিক পরিমাণ আমি বলতে পারছি না কারণ তা নির্ভর করবে আপনার পণ্যের দামের উপর তবে এই টুকু বলতে পারি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১ লাখ টাকার বেশি ইনভেস্টমেন্ট লাগে। 

চলুন এবার দেখে আসি পাইকারী ব্যবসার জন্য সেরা ১৫ টি পণ্যের তালিকা। 

সেরা ১৫ টি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া

যেকোন ব্যবসা শুরু করার আগে সঠিক বিষয়টি সিলেক্ট করে নেওয়া সবার আগে জরুরি বলে আমি মনে করি। যদি সঠিক বিষয়টি আপনি সিলেক্ট করে ফেলেন তাহলে বাকি ক্যালকুলেশন গুলো আপনার কাছে সহজ মনে হবে৷ যেমনটা আমরা ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে বলি সবার আগে নিশ সিলেক্ট করে নিতে। তাহলে চলুন দেখে আসি সেরা ১৫ টি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া।

১) স্টেশনারি পণ্যের ব্যবসা:- স্টেশনারি পণ্য বলতে বুঝানো হয়েছে বই, খাতা, কলম ইত্যাদি বিষয় গুলোর। এই পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্কুল থেকে শুরু করে অফিস আদালত পর্যন্ত সব জায়গায়ই এই স্টেশনারি পণ্যের ব্যবহার রয়েছে। এই স্টেশনারি ব্যবসাটি তাদের জন্যই সবচেয়ে ভালো হবে যাদের ইনভেস্টমেন্ট তুলনা মূলক কম। কম ইনভেস্টমেন্টে এটি খুব ভালো একটি পাইকারি ব্যবসা হতে পারে। 

২) টি-শার্টের ব্যবসা:- একটি পণ্য সিলেক্ট করার আগে আপনাকে চিন্তা করতে হবে সেই পণ্যের চাহিদা কেমন? আপনি ভেবে দেখুনতো টি-শার্টের চাহিদা কেমন। পৃথিবীতে যতদিন মানুষ বেঁচে থাকবে ততদিন থাকবে এই টি-শার্টের চাহিদা। টি-শার্ট বিজনেসের মেইন পয়েন্ট হলো টি-শার্ট ডিজাইন। যার ডিজাইন যত সুন্দর হয় তার টি-শার্টের সেলের পরিমাণ তত বেশি হয়। এক্ষেত্রে অনেকেই উৎপাদনকারীদের অর্ডার দিয়ে নিজেদের মনের মতো কাস্টমাইজড টি-শার্ট বানিয়েও সেল করতে পারে। 

৩) কসমেটিকস সামগ্রীর ব্যবসা:- বর্তমান সময়ে নারীদের সাজসজ্জার জন্য কসমেটিকস সামগ্রির প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে বাজারে। আর প্রতিদিন নিত্য নতুন কসমেটিকস পণ্য বাজারে আসছে আর সেসব পণ্যের চাহিদার সমানুপাতিক হারে দামও বেড়ে চলেছে। আবার অনেক নারীরাই সচেতন বেশি দাম দিয়ে সঠিক পণ্যটি কেনার ব্যাপারে। তাই আপনি যদি ভালো মানের পণ্য দিতে পারেন এই কসমেটিকস ব্যবসায় অনেক অনেক ভালো করতে পারবেন। 

৪) জিন্স প্যান্ট ও শার্টের ব্যবসা:- বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো প্যান্ট এবং শার্টের পাইকারি ব্যবসা। এই ব্যবসা করে এখন পর্যন্ত অনেকেই লাখ লাখ টাকা পকেটে ডুকিয়েছেন। এছাড়াও বাজারে জিন্স পেন্ট এবং টি-শার্টের প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে। কিন্তু এই ব্যবসায় আসতে হলে ভালো অংকের টাকা ইনভেস্ট করতে হবে আপনাকে। 

৫) সেলোয়ার-কামিজ ব্যবসা:- বর্তমানে বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে সেলোয়ার-কামিজ বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও নারীদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাজারে চলে এসেছে নানা রকমের সেলোয়ার-কামিজ এবং নানা দামেরও। একটা সময় সেলোয়ার-কামিজের দাম ছিল সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা কিন্তু বর্তমানে ১০,০০০ টাকারও সেলোয়ার-কামিজ আছে। বেশিরভাগ রেডি-মেইড থ্রি পিজের ডিমান্ড রয়েছে। যদি ভালো কোয়ালিটি এবং সুন্দর ডিজাইনের পণ্য দিতে পারেন তাহলে এটি একটি সম্ভাবনাময় বিজনেস। 

৬) জুতার পাইকারি ব্যাবসা:- আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় আরেকটি পণ্য হচ্ছে জুতা। চিন্তা করুন মানুষ যতদিন এই পৃথিবীতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত জুতার চাহিদা থাকবে। তাই জুতার পাইকারী ব্যাবসা করে আপনি ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন। জুতার পাইকারী ব্যবসার আরেকটি ভালো দিক হলো এখানে আপনি আরেকটু বেশি ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে নিজেই জুতা তৈরি নিজে বিক্রি করতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনার প্রফিটও বেশি হবে। 

৭) বাচ্চাদের খেলনার ব্যাবসা:- পৃথিবীর প্রতিটা বাচ্চারই শৈশব কাটে খেলনার সাথে৷ আপনি আমি আমরা সবাই খেলনা দিয়ে খেলেছি। বর্তমানে শপিং কমপ্লেক্স গুলোই গেলে দেখতে পারবেন কেমন জাঁকজমক ভাবে সাজানো হয় খেলনার দোকান গুলো। খেলনার প্রচুর চাহিদাও রয়েছে এবং আপনি চাইলে অল্প বিনিয়োগে খেলনার পাইকারি ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন। 

৮) কাঁচা পণ্যের ব্যাবসা:- আপনার বাসায় তো প্রতিদিনই বাজার করা হয় তাই না? তরি তরকারি কেনা হয়। এসব তরি তরকারি গুলো আমরা বাজার থেকে কিনে আনি কিন্তু বাজারের খুচরা বিক্রেতারা এগুলো কিনে বিভিন্ন আরতদার থেকে৷ আরতদার অর্থাৎ যারা এসব পণ্যের পাইকারি ব্যাবসা করে তারা সরাসরি কৃষকদের থেতে কিনে আনে এসব পন্য। আপনিও চাইলে এই কাঁচা পণ্যের পাইকারি ব্যাবসা শুরু করতে পারেন তবে এই ব্যাবসায় আপানকে বিশাল ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসতে হবে৷ যেহেতু কাঁচা পণ্য তাই পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা কারনে এগুলোকে সঠিক ভাবে সংরক্ষণও করতে হবে। 

৯) মুদি পণ্যের ব্যাবসা:- আমাদের সবারই বাসার আশেপাশে অনেক মুদি দোকান আছে। আমরা প্রায় সময়ই নানা জিনিসপত্র কেনার জন্য মুদি দোকানে যায়। আর এই মুদি দোকানদারেরা তাদের পণ্য কেনার জন্য যায় মুদি পণ্যের পাইকারি দোকানদারের কাছে। আপনিও চাইলে মুদি পণ্য গুলো পাইকারিতে বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ডিমান্ডেবল পণ্য গুলো বিক্রি করতে হবে এবং ভালো ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। 

১০) গিফট আইটেমের ব্যাবসা:- পৃথিবীতে প্রতিদিনই কারো না কারো জন্মদিন বা কোন না কোন অনুষ্ঠান হয়েই চলেছে। এসব অনুষ্ঠানে দেওয়ার জন্য অনেকেই উপহার কিনে। তাই গিফট আইটেমের চাহিদা অনেক বেশি। আপনি চাইলে অল্প বিনিয়োগেই গিফট আইটেমের পাইকারী ব্যাবসা শুরু করতে পারেন৷ 

১১) খাবার পণ্যের ব্যাবসা:- খাবারে চাহিদা তো থাকবেই এটি কখনো শেষ হবে না। আপনি প্রতিদিনই দোকান থেকে নানা ধরনের খাবার কিনেন। এসব খাবার গুলোর মধ্যে চানাচুর, বিস্কুট ইত্যাদি পণ্যগুলো উল্লেখযোগ্য। আপনি চাইলে এসব পণ্যের ব্যাবসাও করতে পারেন। তবে খাবার পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার একটি রিস্ক থাকে তাই এগুলোকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তার জন্য বিশাল ইনভেস্টমেন্টের দরকার হয়।

১২) ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যাবসা:– আমাদের জীবনের দৈনন্দিন একটি বিষয় হলো ইলেক্ট্রিসিটি। যা ছাড়া আমরা একটি মূহুর্তও চলতে পারি না। ইলেক্ট্রনিক পণ্যের বেশ চাহিদা বাজারেও আছে। বাজারে অনেক অনেক রমকের ইলেক্ট্রনিক পণ্য রয়েছে আপনি চাইলে সেসব পণ্যের পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু ইলেক্ট্রনিক পণ্যগুলো তুলনামূলক দাম বেশি হওয়ায় ইনভেস্টমেন্ট বেশি দরকার হয়।

১৩) ফার্ণিচারের ব্যাবসা:- আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই কম বেশি ফার্ণিচার রয়েছে। এই ফার্ণিচারগুলো আমাদের সকলেরই দরকার হয়। বাজারে ফার্ণিচারেরও রয়েছে চড়া দাম। আপনি যদি ফার্ণিচারের ব্যাবসা করতে চান তাহলে আপনাকে একজন ফার্ণিচারের মিস্ত্রি দিয়ে নিজের ফার্ণিচার বানিয়ে তা খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু বারবার বলছি এই ব্যাবসায় বিশাল অংকের টাকা নিয়ে শুরু করতে হবে। 

১৪) চকলেটের পাইকারি ব্যাবসা:- আমারা আমাদের শুভ কাজ বা প্রিয় মানুষদের সব সময়ই চকলেট দিয়েই শুভ কামনা জানায়। গিফট আইটেমের পাশাপাশি নানা উৎসবে চকলেটেরও চাহিদা আছে। বেশিরভাগ চকলেটই বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা হয়। আপনি নিজে বিদেশ থেকে চকলেক এনে দেশে পাইকারি ব্যাবসা শুরু করতে পারেন। 

১৫) ফলের পাইকারী ব্যাবসা:- ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। আমাদের দেশে ফলের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। সরাসরি ফল চাষীদের কাছ থেকে ফল কিনে এনে তা বাজারে পাইকারি বিক্রি করা যায়। তবে বিশার সংখ্যাক ফল সংরক্ষণ করা খুবই ব্যায়বহুল হয়ে পরে। আর ফল যদি সঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে তা পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

উপরের আলোচনা থেকে আপনি হয়ত আপনার ব্যাবসার বিষয়টি খুজে পেয়েছেন আর যদি না পেয়ে থাকেন তাহলে এ বিষয়ে আরো রিসার্চ করুন আশা করি পেয়ে যাবেন। 

এবার দেখে আসি পাইকারি ব্যাবসা শুরু করতে হলে কোন কোন স্টেপ ফলো করতে হবে। 

পাইকারি ব্যাবসা শুরু করার স্টেপ সমূহ (Steps to Start a Wholesale Business)

আপনি যদি মাইন্ডসেট করে ফেলেন যে আপনি পাইকারি ব্যাবসা শুরু করবেন এবং কোন পণ্য নিয়ে করবেন তাহলে আপনাকে নিম্নোক্ত স্টেপ গুলো ফলো করতে হবে৷ 

ইনভেস্টমেন্ট রেডি করা:- আপনি যে পণ্য নিয়ে ব্যাবসা করতে চান সেই পণ্য নিযে ইতিমধ্যে যারা ব্যাবসা করে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। সম্ভাব্য কত টাকা ইনভেস্ট করতে হবে তা জানুন। এরপরে আপনি নিজের কাছে সেই ইনভেস্টমেন্ট রেডি করুন। যদি আপনার সিলেক্ট করা পণ্যটির ইনভেস্টমেন্ট বেশি লাগে তাহলে আপনার সুবিধামত পণ্য সিলেক্ট করুন যেটার জন্য আপনি ইনভেস্ট করতে পারবেন। ইনভেস্টমেন্ট রেডি করা ছাড়া সামনের দিকে আগানো উচিত নয়। তাই যতক্ষণ আপনি ইনভেস্টমেন্টর ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন হবেন না ততক্ষণ পরের স্টেপে যাবেনা ন।

সাপ্লাইয়ারের সাথে যোগাযোগ করা:- আপনার নির্বাচিত পণ্য কারা সাপ্লাই দেয় এবার আপনাকে সেটি খুজতে হবে। কাদের কাছে সব চেয়ে ভালো পণ্য ভালো দামে পাওয়া যাবে তা আপনাকে যাচাই করে নিতে হবে। ধরুন আমি কাপড়ের ব্যাবসা করব তাহলে আমি কয়েকটি গার্মেন্টসের কাপড় দেখবো এবং তাদের দাম সম্পর্কে আইডিয়া নিব। সর্বশেষে যাদের কাছে সব কিছু ভালো পাবো তাদের থেকেই পণ্য নিবো। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে আপনার পণ্য সম্পর্কে এক্সপার্ট এমন কাউকে সাথে রাখতে পারেন যাতে সে পণ্যের গুণগত মান যাচাই করতে পারে। 

স্টোর হাউজ রেডি করা:- আপনি পণ্য কিনলেইতো হবে না সেই পণ্য গুদামজাতও করতে হবে সঠিক ভাবে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে কোন পণ্যের কোথায় গুদামজাত করলে ভালো হবে সেটি আপনাকে বুঝতে হবে। যেমন পঁচে যায় এমন পণ্য গুলো এমন কোথাও গুদামজাত করতে হবে যেখানে সেগুলো সহজে পঁচবে না। মোট কথা আপনার পণ্যের জন্য ভালো হবে এমন স্টোর হাউজ রেডি করতে হবে। 

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস রেডি করা:- ব্যাবসা করতে গেলে সরকারি কিছু ডকুমেন্টস আপনার দরকার হবে। অনেকেই বলে প্রথমেই এগুলোর দরকার নেই।তবে আমি মনে করি যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাবসা করতে চান তাহলে এগুলো আপনাকে তৈরি করে রাখা দরকার। যখন আপনি ব্যাবসায় মোটা অংকের টাকা ইনভেস্ট করে ফেলবেন তখন যদি আপনার কোন সমস্যা হয় তাহলে বিপদে পড়তে হবে। তাই প্রয়োজনীয় সরকারী ডকুমেন্টস গুলো প্রস্তুত করে ফেলুন। 

ক্রেতাদের কাছে যাওয়া:-  এবার আপনি আছেন লাস্ট স্টেপে। আপনার পণ্যের ক্রেতা কারা তাদের খুজে বের করুন। তাদের কাছে যান আপনার পণ্য এবং আপনার কাছে কি কি সুবিধা পাবে তা তাদের বলুন। প্রয়োজনে তাদের বিনামূল্যে কিছু পণ্য ট্রায়াল হিসেবে দিন। এভাবে ক্রেতাদের সাথে এনগেজড হবেন এবং আপনার সেলস আস্তে আস্তে বাড়বে। 

সততা এবং ধৈর্য:– আমি মনে করি সততা এবং ধৈর্য দিয়ে পৃথিবীর যেকোন কাজ খুব সহজেই করা যায়৷ আপনি আপনার ব্যাবসায় সত থাকুন ধৈর্য ধারণ করুন সফলতা আপনার কাছে আসবে।

শেষ কথা,

পাইকারি ব্যাবসা নিয়ে আপনাকে ধারণা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যদিও পুরো পাইকারি ব্যাবসার দুনিয়াকে বুঝানোর জন্য একটি পোস্ট যথেষ্ট নয়। পড়ুন, রিসার্চ করুন, জানুন এবং মোস্ট ইমপরটেন্ট সত থাকুন। ধন্যবাদ এতক্ষণ ধরে পোস্টটি পড়ার জন্য৷ 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top