ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে এবং শুরু করবো ২০২২

Rate this post

বর্তমানে সবচেয়ে ভাইরাল এবং প্রচলিত একটি বিষয় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। সকল পর্যায়ের মানুষ ফ্রিল্যান্সিং চর্চা হচ্ছে। এই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে সকলের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হচ্ছে দিনের পর দিন।

তাই আমরা আপনাদের জন্য আজকে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে (How to start freelancing) টপিক নিয়ে এসেছি। এই টপিকস সম্পর্কে জানার জন্য আপনারা সকলে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন এবং প্রতিনিয়ত এই টপিকের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সূত্রে আপনারা সন্ধান চালিয়ে যান।

আপনারা যদি আমাদের এই সম্পূর্ণ টপিকটি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে থাকেন তাহলে আশা করছি আপনাদের আর অন্য কোন সময় নষ্ট করতে হবে না।

আমাদের এখান থেকে আপনারা সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে এর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং আপনারা কিভাবে শুরু করলে সাফল্য পাবেন তার সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন। চলুন তাহলে আমরা আর দেরি না করে আমরা এখন জেনে নেই ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে

ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে
ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে

ফ্রিল্যান্সিং কি (What is Freelancing?)

ফ্রীলান্সিং কথাটি শুনে এবং ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার আয় করা যায় সেই কথাটি শুনে আমরা সকলেই ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য বিভিন্ন পথ খুঁজে থাকি কিন্তু আমরা আসলে এটাই জানিনা যে ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে তা জানার আগে আমাদের অবশ্যই জেনে নিতে হবে ফ্রিল্যান্সিং কি।

ফ্রীলান্স শব্দের অর্থ মুক্ত। ফ্রিল্যান্সিং মূলত একটি পেশার নাম। তাই যে ব্যক্তি মুক্তভাবে অর্থ উপার্জন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে নিজে অংশ নেয় তাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। ফ্রিল্যান্সিং পেশা মূলত অন্যান্য চাকরির তুলনায় অন্য রকম। কারণ এটি সম্পূর্ণ একটি মুক্ত পেশা।

এই কাজের জন্য কাউকে নির্দিষ্ট সময়ে অপেক্ষা করতে হয় না। যেমন করে চাকুরীর ক্ষেত্রে  সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে বিরতিহীন ভাবে কাজ করা হয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে এটি একদম ভিন্ন। ক্লায়েন্ট থেকে কাজ নিয়ে এরপর ক্লায়েন্টের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো সময়ে কাজ করে জমা দেয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন গ্রাফিক ডিজাইনার তার থেকে যেকোন একটি পোস্টার ডিজাইন করার জন্য দুই থেকে তিন দিনের সময় পেয়েছে। কাল থেকে যখন কাজ নেয়া হয় ঠিক তখনই সে কাজটি সম্পন্ন না করে বায়ার তার ক্লায়েন্টের নির্ধারিত সময় অনুসারে যেকোনো সময় বসে এই পোস্টার তৈরি করে দিতে পারবে। আর তাই এই কাজকে ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়।

আমাদের ওয়েবসাইটে আরও পোস্ট আপনার জন্য:

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো কিভাবে (How To Start Freelancing)

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে আমরা ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব? ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্বে আপনাদের অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জেনে নিতে হবে এবং সেই সাথে কোন কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে আপনারা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন সে সম্পর্কেও আপনাদেরকে জেনে নিতে হবে। তানাহলে, আপনারা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না। ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে আপনাদের যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে আর সেই টপিকের উপর পূর্ণ ধারণা এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

আর আমাদের সকলের উচিত ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে তা জানার আগে ফ্রীলান্সের যাত্রা কিভাবে শুরু করতে হবে তা নির্ধারণ করা।

কারণ আমরা যদি ফ্রীলান্স শেখার আগে ফ্রীলান্স সম্পর্কে জানতে পারি এবং কোন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারলে আমাদের উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ফ্রিল্যান্সিং শেখার উৎসাহ পাবো সে বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।

তাহলে চলুন আমরা পর্যায়ক্রমে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে, ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায় এবং কোন কোন বিষয়ের প্রতি ফ্রিল্যান্সিং করে নিজেকে দক্ষ করে তোলা যায় সেটি জেনে নিই।

ফ্রিল্যান্সিং শিখব কিভাবে (How To Learn Freelancing)

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেয়ার পর ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে তা জানার জন্য সকলে উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিব ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন এবং ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কিভাবে আয় করা সম্ভব তা জানিয়ে দিব।

তবে ফ্রিল্যান্সিং শেখার পূর্বে আপনাদের মধ্যে দুটি গুণ থাকা আবশ্যক। আপনাদের মধ্যে যদি এই দুটি গুণ না থাকে তাহলে বলব আপনারা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে না এগোনোই ভালো। কারণ জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হচ্ছে সময়। সময় নষ্ট না করে সময়কে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে এগুলো বুদ্ধিমানের কাজ।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে যে গুণটি থাকা আবশ্যক সেগুলো হচ্ছে-  দক্ষতা অর্জন এবং ধৈর্য।

আপনারা যে বিষয়টি নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইছেন সে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আপনাদেরকে পরিপূর্ন দহ্মতা অর্জন করতে হবে। যদি আপনারা বিষয়টি নিয়ে পূর্ণতা অর্জন না করেন তাহলে আপনারা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।

অন্যটি হচ্ছে ধৈর্য। ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে আপনাদেরকে প্রচুর পরিমাণে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আপনারা যদি ধৈর্য ধারণ করতে না পারেন তাহলে বলবো ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার আয় করার স্বপ্ন আপনাদের বৃথা যাবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে প্রথমে আমাদের যে দক্ষতা অর্জন করতে হবে তা বাস্তবে প্রমাণ করার জন্য আমাদের ধৈর্য সহকারে মার্কেটপ্লেসে টিকে থাকতে হবে। ক্লায়েন্ট থেকে কাজ নেয়ার পর সেই কাজ ধৈর্য সহকারে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে আপনারা দক্ষ ব্যক্তির নিকট হতে যে বিষয়টি নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চান সে বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্ন করে দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং ব্যবহারিকভাবে আপনাদের কাজ শিখে কাজে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কাজের দক্ষতা অর্জন হয়ে গেলে সঠিক উপায়ে মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ধৈর্য সহকারে অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করতে হবে এবং কাজ নেয়ার জন্য ক্লায়েন্টের সাথে মার্জিত ব্যবহার করতে হবে। সেই সাথে মার্কেটপ্লেস এর নিয়ম অনুসারে মার্কেটপ্লেস টিকে থাকতে হবে।

আরও পোস্ট দেখতে পারেন: 

ফ্রিল্যান্সিং শিখে কত টাকা আয় করা যায়

আপনারা মনে করেন যে ফ্রিল্যান্সিং মানে অনেক টাকা। ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক বড়লোক হওয়া যায়। আপনারা যারা এধরনের ধারণার মধ্যে থাকেন তা তাদেরকে বলব আপনারা আপনাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা টির মধ্যে বাস করছেন।  কারণ ফ্রিল্যান্সিং করে আপনারা মিলিয়নিয়ার বা বিলিনিয়ার হতে পারবেন না, তবে আপনারা যদি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং আপনাদের ভাগ্যে যদি থাকে তাহলে আপনারা মিলিয়নিয়ার বা বিলোনিয়ার হতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে কত টাকা আয় করা যায়? এই প্রশ্নটি আমরা হরহামেশাই যেকোনো স্থানে পেয়ে থাকি। তাই বলছি ফ্রিল্যান্সিং করে নির্দিষ্ট অঙ্কের কোন আয় বলা সম্ভব নয়। যার দক্ষতা যত বেশি সে ততো বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবে এবং যে যত বেশি কাজ করতে পারবে সে তত বেশি কাজের পারিশ্রমিক অর্জন করতে পারবে।

তাই দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে নিজের সিম ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। আর তার জন্য নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় ফ্রিল্যান্সিং শিখতে কত টাকা আয় করা যায়।

সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং শিখে কত টাকা আয় করা যায় তা নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের দক্ষতা এবং যোগ্যতার উপর।

ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয় (Freelancing Topic)

ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে তা জানার পূর্বে আপনাদেরকে অবশ্যই জেনে নিতে হবে কোন কোন বিষয়ের উপর আপনারা ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারবেন এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সে বিষয়গুলো নিম্নে আলোচনা করা হল-

  • গ্রাফিক ডিজাইন
  • ইউ আই/ ইউ এক্স ডিজাইন
  • ওয়েব ডিজাইন/ ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট 
  • গেম ডেভেলপমেন্ট
  • মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
  • প্রোগ্রামার
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • সিপিএ মার্কেটিং 
  • 2D & 3D এনিমেশন
  • ইন্টেরিয়র ডিজাইন
  • এক্সটেরিয়র ডিজাইন

গ্রাফিক ডিজাইন

ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত একটি বিষয় হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন। গ্রাফিক ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। কারণ বর্তমানে গ্রাফিক ডিজাইনারদের মূল্য অনেক। যেহেতু সবকিছু আধুনিকায়ন হচ্ছে সেহেতু গ্রাফিক ডিজাইনারদের মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ্রাফিক ডিজাইন যে সকল কাজ শিখে আপনারা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন সে সকল কাজ গুলো হল-  বিজনেস কার্ড ডিজাইন, ফ্লায়ার ডিজাইন, ব্রুশিয়ার ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানার ডিজাইন, ফেসবুক ব্যানার ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ, ভেক্টর ডিজাইন, ইমেজ মানিপুলেশন, ফটো এডিটিং ইত্যাদি.

ইউ আই/ ইউ এক্স ডিজাইন

UI/UX ডিজাইন এমন একটি সেক্টর যেখানে কোনো প্রজেক্ট, সার্ভিস বা সিস্টেমকে এমন ভাবে সাজিয়ে তুলে যাতে করে ব্যবহারকারীরা সহজেই তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। এই ডিজাইন এর ফলে যেকোনো প্রজেক্টকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থির হতে পারে। যেমনঃ আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান আর আপনার চাহিদা অনুসারে যখন কোন ডিজাইনার সেই ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন হবে তার একটি ডেমো তৈরি করে আর সেই সেটিকে UI/UX DESIGN বলা হয়।

ওয়েব ডিজাইন/ ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট 

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান এবং ভবিষ্যতে এর মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাবে যে কাজটি সেটি হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন বা ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট। কারণ বর্তমানে সবকিছু ওয়েবসাইট ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে আর এই ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকেন ডিজাইনাররা।

আর ওয়েবসাইটটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে থাকেন এবং পরিচালনা করে থাকেন ডেভলপাররা। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা ওয়েব ডিজাইন করে থাকেন তারা web-development করে থাকেন।

তাই আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন এবং যাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারণা রয়েছে তারা খুব সহজেই এই কোর্সটি করে দক্ষতা অর্জন করে কাজে লাগাতে পারেন। একজন ওয়েব ডিজাইন বা ওয়েব ডেভেলপারের যেসকল দক্ষতা অর্জন করতে হয় তা হচ্ছে  কিছু ল্যাঙ্গুয়েজ এর ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হয়। সেইসাথে কোডিং সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হয়।

আপনাদের সুবিধার্থে আমরা সেই ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো উপস্থাপন করছি- HTML. CSS, BOOTSTRAP, JAVASCRIPT, C, C++, C#, JAVA। এক্ষেত্রে দক্ষ তাকে আরো সেম বৃদ্ধি করার জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা যায়।

গেম ডেভেলপমেন্ট

বর্তমানে দিনদিন গেম এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই গেম গুলো তৈরি করে থাকেন বিভিন্ন গেম ডেভলপার। তাই আপনাদের ইচ্ছা অনুসারে গেম ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শিখে গেম তৈরি করতে পারেন এবং সেইসাথে মার্কেটপ্লেসে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

কারণ দিনদিন গেম এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে সকল বয়সী মানুষের কাছে। আর এই চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তাই আপনারা যারা গেম খেলতে ভালোবাসেন তারা গেম ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শিখে গেম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট

আমরা সকলেই জানি যে এখন সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে আসছে। যেহেতুসকলের কাছে একটি মুঠোফোন থাকে সেহেতু আমাদের সবচেয়ে বেশি মুঠোফোন ব্যবহার করা হয়। কারণ এটি বহন করা অনেক সহজ এবং সেইসাথে এটিতে কাজ করা অনেক সুবিধাজনক। ছোট্ট একটি ডিভাইসে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সকল অ্যাপ গুলো ব্যবহার করতে পারছি। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের সকলেরই কোনো না কোনো এক সময় মুঠোফোন ব্যবহার করতে হয় আর এই মুঠোফোন গুলো বিভিন্ন এপস এর মাধ্যমে তাদের কার্য পরিচালনা করে থাকে।

তাই আপনারা আপনাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শিখে বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করতে পারেন এবং ব্যবহারকারীদের নিকটেই অ্যাপস গুলো পৌছে দিতে পারেন। বর্তমান প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এর কাজের কোনো জুড়ি নেই।

প্রোগ্রামার

আমরা সকলেই জানি যে কম্পিউটারের সকল কাজ সঠিক এবং নির্ভুল ভাবে করে থাকে শুধুমাত্র প্রোগ্রামের সুবাদে। আর এই প্রোগ্রামের কোন শেষ নেই। দিনের-পর-দিন প্রোগ্রামের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পৃথিবী প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার পর থেকে প্রোগ্রামের চাহিদা আরো বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ আমরা যতগুলো প্রযুক্তিনির্ভর কাজ দেখে থাকি তার সবচে প্রোগ্রামের কল্যাণে হয়েছে। তাই একজন প্রোগ্রামারের মূল্য অনেক বেশি।

সুতরাং আপনারা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের উপর দক্ষতা অর্জন করে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর কাজগুলো করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারেন এবং সেইসাথে নিজে দেশের অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতকে আরো উন্নয়ন করতে পারেন। আপনার যেসকল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে পারেন সে সকল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে- PYTHON, JAVASCRIPT, JAVA, C, C++, C#, GO, R, SWIFT, PHP, KOTLIN ETC..

ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই আপনারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন ধরনের কোর্স করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর দক্ষতা অর্জন করে পোর্টফোলিও তৈরি করে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজের সন্ধান করতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং মূলত হচ্ছে-  ডিজিটাল উপায় কোম্পানির বিভিন্ন সেবা এবং পণ্য বিক্রি করার মাধ্যম।

সুতরাং আপনারা ভালো একটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করে আপনারা ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট হয়ে যেতে পারেন এবং সেইসাথে আন্তর্জাতিক ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর কাজ করে  বৈদেশিক মুদ্রা  অর্জুন করতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং এর সেক্টর গুলো হচ্ছে- প্রডাক্ট প্রমোশন, সিপিএ মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, ফেসবুক মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং ইত্যাদি।

ভিডিও এডিটিং

আমরা সকলে এখন কমবেশি ইউটিউব বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে থাকি। আমাদের জীবনের প্রয়োজনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পেতে আমরা ইউটিউবে ভিডিও দেখে শিখতে পারি। আর এই ভিডিওগুলো তৈরি করার পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম এবং সঠিক ভিডিও এডিটিং।

কারণ শুধুমাত্র একটি ভিডিও দেখে শেখা যায় তা নয় সেই ভিডিওটির কোয়ালিটি আমরা নির্ধারণ করে থাকি। আর এই ভিডিওটির কোয়ালিটি আমরা বুঝতে পারি সঠিক ভিডিও এডিটিং করার মাধ্যমে।

প্রতিনিয়ত ভিডিও এডিটিং এর ওপর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আপনা্রা ভালো কোন প্রতিষ্ঠান হতে ভিডিও এডিটিং এর ওপর দক্ষতা অর্জন করে ভিডিওটি এডিটিং এর কাজ শুরু করতে পারেন।

2D & 3D এনিমেশন 

আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে আমরা যে টেলিভিশনে বা বিভিন্ন মাধ্যম হতে যে কার্টুন দেখি সে কার্টুন গুলো কিসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এই কার্টুন গুলো 2D & 3D এনিমেশন এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়।

তবে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের চাহিদার কথা চিন্তা করি তাহলে  2D & 3D এনিমেশন এর চাহিদা ব্যাপক। তাই আপনারা ভালো কোন প্রতিষ্ঠান হতে 2D & 3D এনিমেশন এর কাজ শিখে দক্ষতা অর্জন করে মার্কেটপ্লেসে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে পারেন।

ইন্টেরিয়র ডিজাইন

ইন্টেরিয়র ডিজাইন হচ্ছে বাড়ির ভেতরে বিভিন্ন আসবাবপত্র সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখার যে আধুনিকায়ন ডিজাইন সেটিকে বুঝায়। আমরা সকলে বাড়ি সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের আলমারি, সোফা, চেয়ার টেবিল ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে থাকে। কিন্তু এই সকল জিনিস গুলো যখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মাধ্যমে সুন্দরভাবে সাজানো হয় তখন এর সৌন্দর্য আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়।

তাই দিন দিন ইন্টেরিয়র ডিজাইনে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।আরে কাজের ওপর অন্যান্য কাজের তুলনায় বেশি আয় করা সম্ভব। যদি আপনারা সঠিকভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারন। আর সেজন্য আপনারা এ বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়ে বিদেশি মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হতে পারেন।

এক্সটেরিয়র ডিজাইন 

এক্সটেরিয়র ডিজাইন হচ্ছে বাড়ির বাহিরের ডিজাইন। অর্থাৎ আপনি যখন একটি বাড়ি তৈরি করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন অবশ্যই সেই বাড়িটি কোন ডিজাইনের হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। তাই একটি তৈরি করার পূর্বে অবশ্যই সেই বাড়িটি ডিজাইন তৈরি করে নিতে হবে। আর এই ডিজাইনগুলো করে থাকে এক্সটেরিয়র ডিজাইনাররা।

বর্তমানে ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের যেমন মূল্য রয়েছে ঠিক তেমনি এক্সটেরিয়র ডিজাইনারদের মূল্য রয়েছে। কারণ দিনদিন মানুষ রুচিশীল এবং সৌন্দর্য পিপাসু হয়ে উঠছে।

তাই রুচিশীল এবং সৌন্দর্য ভিত্তিক বাড়ি তৈরি করার জন্য তারা এক্সটেরিয়র ডিজাইনারদের খোঁজ করে থাকেন। আপনারা এই এক্সটেরিয়র ডিজাইনের ওপর দক্ষতা অর্জন করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন এবং সেইসাথে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারেন।

শেষ কথা

এবার আপনারা আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে আশা করছি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে পেরেছেন সেইসাথে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে তা বুঝতে পেরেছেন।

আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আবার বলছি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাদের প্রয়োজন সঠিক দক্ষতা এবং ধৈর্য। আপনাদের মধ্যে এই গুণটি বজায় রেখে আপনারা সামনে এগিয়ে চলুন এবং ফ্রিল্যান্সিং করে নিজে সমৃদ্ধ হন এবং দেশকে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করুন।

আপনারা যদি ফ্রীলান্স সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন অথবা আপনাদের মধ্যে যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আমাদেরকে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

6 thoughts on “ফ্রিল্যান্সিং শিখবো কিভাবে এবং শুরু করবো ২০২২”

    1. আপনি যে কাজটি করতে চান সেটাতে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। আর যদি আপনি কাজটি পারেন, তাহলে এখনই শুরু করতে পারবেন। আর যদি আপনি কাজটি না পারেন, তাহলে আপনাকে ভালোভাবে শিখিয়ে নিতে হবে কাজটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top