গুগল এডসেন্স কি?: গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়

গুগল এডসেন্স কি?: গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়:  অনলাইনে আয়ের জন্য ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয়ের ব্যাপারটা অনেক জনপ্রিয় বর্তমান সময়ে। আর ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে মূলত আয় করা হয় গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে।

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ নতুনদের মনে প্রশ্ন থাকে Adsense কি? এডসেন্স ব্যবহার করে কিভাবে আয় করা যায়। আজকের এই পোস্টে আপনাদের আমি সম্পূর্ণ ধারণা দিব এই বিষয়ে। তাই মনোযোগ দিয়ে পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। 

গুগল এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স থেকে আয়
গুগল এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স থেকে আয়

গুগল এডসেন্স কি?

গুগল এডসেন্স হলো গুগলের একটি অঙ্গ সংগঠন। যেটি গুগলের বিজ্ঞাপন নিয়ে কাজ করে। এটি শুধুমাত্র ইউটিউব এডস এবং ওয়েবসাইটে যেসব এড ব্যবহার করা হয় (ব্যানার এড, নেটিভ এড ইত্যাদি ) এগুলো নিয়ে কাজ করে।

অর্থাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে গুগলের যেসব বিজ্ঞাপন ইউটিউবে এবং ওয়েবসাইটে যায় ঐসব বিজ্ঞাপনকে নিয়ন্ত্রণ করার দ্বায়িত্ব হলো গুগল এডসেন্স এর।

গুগল এডসেন্স এর কাজ কি?

প্রথমে গুগল Adword এর মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন কোম্পানি থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে থাকে। তারপর যেসব বিজ্ঞাপন গুলো ইউটিউব এবং ওয়েবসাইটে দেখানো হবে সেসব বিজ্ঞাপনের দায়িত্ব এডসেন্সকে দিয়ে দেওয়া হয়।

এবার এডসেন্স বিভিন্ন ওয়েবসাইট মালিক কিংবা ইউটিউবারের সাথে চুক্তি করে তাদের ওয়েবসাইটে কিংবা ইউটিউব ভিডিও’র মধ্যে বিজ্ঞাপন গুলো দেখায়( ইউটিউবার বা ওয়েবসাইট মালিকের সাথে এডসেন্সের যে চুক্তি তা নিয়ে একটু পরেই আলোচনা করব)। এভাবেই মূলত Adsense গুগলের বিজ্ঞাপন গুলো প্রচার করে থাকে।

গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়

Google Adsense কি সেটা বুঝার পর এখন হয়ত আপনাদের মনে প্রশ্ন আসছে কিভাবে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করা যায়?

আপনাদের একটু আগে এডসেন্স কি সেটা বুঝাতে গিয়ে বলেছিলাম এডসেন্স ইউটিউবার বা ওয়েবসাইট মালিকের সাথে একটি চুক্তি করে তাদের ওয়েবসাইটে কিংবা ইউটিউব ভিডিওতে এড দেখায়। এই চুক্তিটি হলো এডসেন্স এড থেকে যে পরিমাণ অর্থ আয় করবে তার ৬৮% ওয়েবসাইট মালিক কিংবা ইউটিউবারকে দিয়ে দিবেন এবং বাকি ৩২% তারা নিজেরা রেখে দিবে।

এভাবেই ওয়েবসাইট মালিক কিংবা ইউটিউবার এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করে থাকে। যদি আপনার নিজস্ব কোন ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনিও এডসেন্সের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে কিংবা ভিডিওতে এড যুক্ত করে আয় করতে পারেন। 

আর আপনার জন্য পোস্ট: 

ইউটিউবের মাধ্যমে এডসেন্স ব্যবহার করে আয় 

আপনি যদি ভেবে থাকেন এখন একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে গুগল এডসেন্সের বিজ্ঞাপন বসিয়ে ইনকাম শুরু করবেন তাহলে আপনার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

প্রথমত আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ১২ মাসে ১০০০ সাবসক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। তবেই আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলকে এডসেন্সের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন।

তারপরে যদি আপনি এডসেন্সের সাথে চ্যানেল যুক্ত করে ফেলেন তাহলেও আপনার ইনকাম হবে না, ইনকাম হবে তখন যখন মানুষ আপনার ভিডিও দেখবে এবং ভিডিওর সাথে থাকা এড দেখবে।

তাই আপনি যদি ইউটিউবের মাধ্যমে এডসেন্স ব্যবহার করে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে যথেষ্ট উন্নত এবং ভালো মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ আপনার ভিডিও দেখতে আগ্রহ পায় এবং মানুষ যত বেশি আপনার ভিডিও দেখবে আপনার ইনকামও তত বেশি হবে।

তাই চ্যানেল খুলেই ইনকামের কথা বাদ দিয়ে নিজের কন্টেন্টের দিকে মনোনিবেশ করুন। আর আপনাকে কন্টেন্ট তৈরির সময় অবশ্যই এডসেন্স গাইডলাইন মানতে হবে যেসব টপিক নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি নিষিদ্ধ সেসব টপিক নিয়ে কন্টেন্ট বানাবেন না এবং কারো চ্যানেল থেকে কন্টেন্ট চুরি করে আপলোড দিবেন না।

যদি আপনার ১০০০ সাবসক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম হয়ে যায় তাহলে আপনি ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম অর্থাৎ চ্যানেলের মনিটাইজেশন অন করে আপনার চ্যানেলকে গুগল এডসেন্স একাউন্ট এর সাথে সংযোগ করে দিবেন।

তারপর আপনার ভিডিওতে এড দেখানো শুরু হবে। প্রতি ভিউতে কত টাকা আয় করবেন তা নিয়ে একটু পরেই আলোচনা করছি। 

ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম

আপনি যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এডসেন্স ব্যবহার করে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে। তারপরে ওয়েবসাইটে একটি টপ লেভেল ডোমেইন যুক্ত করা ভালো তবে বর্তমানে ব্লগস্পটের ফ্রী ডোমেইনে এডসেন্স পাওয়া যায় তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি টপ লেভেল ডোমেইন নেন তাহলে তাড়াতাড়ি এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন। আপনার ওয়েবসাইটে এডসেন্সের এড দেওয়ার জন্য আপনাকে কিছু শর্ত মানতে হবে যেমনঃ- 

  • Contact us, about us, privacy policy এই পেইজ গুলো থাকতে হবে। 
  • আপনার ওয়েবসাইটে থাকা আর্টিকেল গুলো ইউনিক থাকতে হবে। অন্য কারো কপি আর্টিকেল ব্যবহার করলে আপনি এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন না। 
  • কপিরাইট ফ্রি ইমেজ ব্যবহার করতে হবে৷ 
  • ওয়েবসাইট অবশ্যই মোবাইল অপটিমাইজড থাকতে হবে। 
  • ওয়েবসাইটের স্পিড ভালো থাকতে হবে। 
  • এমন কোন টপিক নিয়ে আর্টিকেল লেখা যাবে না যেগুলো গুগলের পলিসির বাইরে। 

উপরোক্ত সকল শর্ত মানলে আপনার ওয়েবসাইট এডসেন্সের এড বসানোর জন্য প্রস্তুত হবে। কিন্তু ইউটিউবের মতো ওয়েবসাইটেও শুধু এড বসালে ইনকাম হবে না ওয়েবসাইটে ভিজিটর’স আসতে হবে তবেই ইনকাম হবে।

তাই আপনার উচিত আপনার কন্টেন্টের মান উন্নত করে ভালো ভিজিটর আনার দিকে ফোকাস করা তবেই আপনার ভালো ইনকাম হবে। 

কিভাবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলতে হয়?

আপনার ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ওয়েবসাইট যদি উপরোক্ত সকল শর্ত মানে তাহলে এখন আপনাকে এডসেন্সের একাউন্ট খুলতে হবে।

এডসেন্স একাউন্ট খোলা একদম সহজ আপনি মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে সহজে খুলতে পারবেন। এডসেন্স একাউন্ট খুলতে হলে আপনার একটি জিমেইল প্রয়োজন হবে যেটি সম্পূর্ণ সিকিউর এবং ভেরিফাইড জিমেইল।

কারন এই জিমেইলের কিছু হলে তখন আপনার এডসেন্স একাউন্টও হারাবে। তাই সব কিছু ভেরিফাই করা এমন একটি জিমেইল একাউন্ট খুলবেন। চলুন দেখে আসি এডসেন্স একাউন্ট খোলার স্টেপ গুলোঃ- 

  • প্রথমে গুগল এডসেন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। 
  • তারপর সাইন আপ লেখায়/শুরু করুন লেখায় ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দিয়ে আপনার জিমেইল দিয়ে save and continue বাটনে ক্লিক করতে হবে। 
  • তারপর আপনার সামনে একটি ফরম আসবে সেটি সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। সেখানে নামের জায়গায় আপনার নাম এবং ঠিকানার জায়গায় আপনার ঠিকানা জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে মিল রেখে দিবেন। 
  • যদি আপনার ওয়েবসাইট হয় তাহলে ওয়েবসাইটে তারা একটি কোড দিবে সেটি বসাতে হবে। 

এভাবেই আপনি খুব সহজে আপনার এডসেন্স একাউন্ট খুলতে পারবেন। একাউন্ট খোলার পর তারা আপনার ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল রিভিউ করবে। তারপর যদি সব ঠিক থাকে তাহলে আপনাকে এপ্রুভাল দেওয়া হবে। 

কিভাবে এডসেন্সর বিজ্ঞাপন দেখাবো

আপনার এডসেন্স একাউন্ট যদি এপ্রুভ হয়ে যায় তাহলে ইউটিউব চ্যানেলের ক্ষেত্রে মনিটাজেশন অপশন অন করে এডসেন্স একাউন্ট কানেক্ট করে দিলেই বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হবে।

আবার ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আপনি যদি এডসেন্স একাউন্ট থেকে অটো এড সিলেক্ট করে দেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে অটোমেটিক এড দেখানো শুরু হবে। এক্ষেত্রে এডসেন্স নিজের ইচ্ছা মতো এড বসাবে।

কিন্তু যদি আপনি চান আপনার ইচ্ছা মতো এড বসাতে তাহলে আপনি যেমন এড দেখাতে চান ঐরকম এড ইউনিট তৈরি করবেন। এড ইউনিট তৈরির পর আপনাকে একটি কোড দিবে। আপনি ওয়েবসাইটে যেই জায়গায় এড দেখাতে চান ঐ জায়গায় কোডটি বসাবেন তারপরে ঐসব জায়গায় এড সো করবে। এভাবেই আপনি এডসেন্সের বিজ্ঞাপন আপনার ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ওয়েবসাইটে বসাবেন। 

এডসেন্স প্রতি ভিউ বা ভিজিটরের জন্য কত টাকা দেয় 

যখন আমরা একটি ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলি তারপরে এডসেন্সর এপ্রুভালও পেয়ে যায়। এরপরে আমাদের সকলেরই একটি কমন প্রশ্ন থাকে এডসেন্স ইউটিউবের প্রতি ভিউসের জন্য কত টাকা দিবে? কিংবা ওয়েবসাইটে প্রতি ভিজিটরসের জন্য কত টাকা দিবে? আসলে এই প্রশ্নের স্পেসিফিক কোন উত্তর কেউ কখনোই দিতে পারেনি৷ কারণ এডসেন্স আসলে টাকা দেয় কিছু বিষয়ের উপর কেন্দ্র করে চলুন সেগুলো জেনে নিই। 

  • CPC ( Cost Per Click)  
  • RPM ( Revenue Per Thousand Impressions) 

CPC কি?

CPC এর পূর্ণরূপ হলো cost per click। অর্থাৎ এডসেন্সের দেখানো বিজ্ঞাপনে প্রতি ক্লিকে পাবলিশার মানে আপনারা কত টাকা পাবেন। যদি আপনার CPC 2 ডলার হয় তাহলে ১ জন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনি 2 ডলার পাবেন। 

RPM কি?

RPM এর পূর্ণরূপ হলো revenue per thousand impression। অর্থাৎ যদি ১০০০ জন আপনার বিজ্ঞাপন দেখে তাহলে আপনি কত টাকা পাবেন। ধরুন আপনার RPM 5 ডলার তাহলে ১০০০ জন মানুষ আপনার বিজ্ঞাপন গুলো দেখলে 5 ডলার পাবেন। 

CPC এবং RPM কিসের উপর নির্ভর করে

অনেকের cpc দেখা যায় 5 ডলার আবার অনেকের 0.5 ডলার। আবার একজনের RPM 3 ডলার আরেকজনের 10 ডলার। এমন কম বেশি হওয়ার কারন কি? আসলে cpc এবং rpm কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয়। চলুন সেগুলো একটু জেন নিয়। 

  • কি-ওয়ার্ডঃ- মনে করুন আপনি অনলাইনে ইনকাম নিয়ে একটি ইংরেজি আর্টিকেল লিখবেন তাহলে আপনার আর্টিকেলের টপিক বা কি-ওয়ার্ড হবে make money online। আপনি কি-ওয়ার্ড রিসার্চ টুল বা গুগল কি-ওয়ার্ড প্লেনারে দেখতে পারবেন এই কি-ওয়ার্ডের CPC 1.33$ ডলার। আবার আপনি যদি একটি আর্টিকেল লিখেন Email Marketing নিয়ে তাহলে আপনার কি-ওয়ার্ড হলো Email marketing এবার এটা কি-ওয়ার্ড প্লেনারে দিলে দেখবেন এর CPC 13.58$ ডলার।এভাবেই কিছু কি-ওয়ার্ডের CPC/RPM অনেক বেশি থাকে আবার কিছু কি-ওয়ার্ডের কম তাই আপনাকে আর্টিকেল লেখার আগে কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে হবে। হাই সিপিসি কি-ওয়ার্ড নিয়ে আর্টিকেল লিখলে আপনার সিপিসি বেশি হবে। আর ইউটিউবের ক্ষেত্রে টাইটেল এবং ভিডিও ডেসক্রিপশনের কি-ওয়ার্ড এর উপর সিপিসি নির্ভর করে। 
  • অডিয়েন্স লোকেশনঃ- আপনার ইউটিউব ভিডিও কিংবা ওয়েবসাইটের অডিয়েন্স কোন দেশের সেটির উপরও আপনার সিপিসি নির্ভর করে। ইউরোপের দেশগুলোর সিপিসি অনেক বেশি হয়। আপনি যদি ইউরোপের দেশ গুলো থেকে অডিয়েন্স পান তাহলে আপনার সিপিসি হাই থাকবে আবার এশিয়ার দেশ গুলোর সিপিসি তুলনামূলক কম হয়। 
  • ইউজার ইন্টারফেজ— বর্তমানে ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে যেসব ওয়েবসাইটের স্পিড ভালো এবং ওয়েবসাইট অনেক অপটিমাইজড সেসব ওয়েবসাইটে হাই সিপিসি এড আসে। 

এসব বিষয়ের উপর আপনার ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ওয়েবসাইটের সিপিসি/আরপিএম নির্ভর করে। আর আপনার CPC এবং RPM যত বাড়বে আপনার ইনকাম তত বাড়বে। ইউটিউব চ্যানেলে প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয় তা জানতে এই পোস্টটি পড়ুন। 

আর দেখতে পারেন: 

কেন এডসেন্স বেস্ট?

আপনার এখন মনে হতে পারে পৃথিবীতে অনেক ধরণের এড নেটওয়ার্ক আছে চাইলেতো যেকোন একটি নেটওয়ার্কের এড দিয়ে মনিটাইজ করা যায় ওয়েবসাইট এছাড়াও অনেক এড নেটওয়ার্কেতো এডসেন্সের মতো এতো কঠিন নিয়ম কানুন নেই তাহলে মানুষ কেন এডসেন্স দিয়েই মনিটাইজ করে?

এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো আপনি অন্যান্য নেটওয়ার্ক থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন কিন্তু অন্যান্য নেটওয়ার্ক আপনাকে প্রতি ১০০০ ভিজিটরের জন্য যেই টাকা দিবে এডসেন্স তার ২/৩ গুন বেশি টাকা দিবে প্রতি ১০০০ ভিজিটরের জন্য কারন গুগল বিশ্বের অন্যতম একটি বড় কোম্পানি তাদের এডভারটাইজার এর সংখ্যা অনেক। গুগল এডসেন্স বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এড নেটওয়ার্ক কোম্পানী।

আর এডসেন্স এর এড গুলো মোবাইল অপটিমাইজড এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি। তারপরে এডসেন্স ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় কারন হলো এডসেন্স একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান এবং পেমেন্ট মেথড অনেক সহজ তাই বেশিরভাগ মানুষ এডসেন্স ব্যবহার করে। 

এডসেন্স পলিসি

আপনারা জেনেছেন কোন কোন কাজ করলে এডসেন্স এর এপ্রুভাল পাওয়া যাবে। এখন আমরা জানব কোন কোন কাজ করলে এডসেন্সের এপ্রুভাল পাওয়া যাবে না।

এডাল্ট কন্টেন্ট 

গুগল এডসেন্সের পলিসির মধ্যে পরিষ্কার ভাবে বলে দেওয়া আছে কোন প্রকার এডাল্ট কন্টেন্ট তারা মনিটাইজ করবে না।

সারাবিশ্বে এখন এসব এডাল্ট কন্টেন্টের জনপ্রিয়তা বেশি। এবং এসব এডাল্ট কন্টেন্টের ওয়েবসাইট বা ইউটিউব ভিডিও খুব সহজে রেংকে আনা যায়। তাই অনেকেই এগুলো নিয়ে কাজ করতে চায়।

কিন্তু এসব ওয়েবসাইট গুলো এডসেন্সের এড দ্বারা কখনোই মনিটাইজ করতে পারবে না। কিছু কিছু দেশে তো এমন এডাল্ট কন্টেন্ট নির্মাতাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা আছে। আর বাংলাদেশও এডাল্ট কন্টেন্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

হ্যাকিং কন্টেন্ট 

বর্তমান বিশ্বে যেমন বাড়ছে টেকনোলজির ব্যবহার তেমনি বাড়ছে নানা ধরনের সাইবার ক্রাইম। এবং হ্যাকিং হলো একটি সাইবার ক্রাইম। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কারো মূল্যবান এবং ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি করে ফেলা হয়৷ তাই গুগল এডসেন্সের পলিসির বাইরে হ্যাকিং কন্টেন্ট। যদি আপনি হ্যাকিং রিলেটেড কোন কন্টেন্ট নিয়ে ওয়েবসাইট বা ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেন তাহলে আপনি এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন না। 

কপি কন্টেন্ট 

এটি নিয়ে আগেও আলোচনা করেছি। এডসেন্স কপি করা পোস্ট নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস। আপনি যদি অন্য কারও কন্টেন্ট চুরি করে কপি করেন তাহলে কখনোই এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন না। এটি এডসেন্সের পলিসির বাইরে। 

ডাউনলোডিং সাইড

বর্তমানে মুভি কিংবা সফটওয়্যার ডাউনলোডিং সাইটগুলো অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু গুগলের ভাষ্যমতে মুভি ডাউনলোড বা কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ক্রাক সফটওয়্যার তৈরি ও ডাউনলোড করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই এসব বিষয় নিয়ে তৈরি ওয়েবসাইট করেন তাহলে সেটি কখনোই এডসেন্স এপ্রুভাল পাবে না৷ 

গুগোল এডসেন্স থেকে কত টাকা আয় সম্ভব? 

অনেকের কাছেই এমন প্রশ্ন শুরি প্রায়ই সময় গুগল এডসেন্স থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা আয় সম্ভব?

যদি এই প্রশ্নের সোজা উত্তর দিতে হয় তাহলে বলব কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা আছে এডসেন্সের মাধ্যমে।

আপনি একটু রিসার্চ করলেই পাবেন এমন মানুষ যারা এডসেন্সের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ এমনকি কোটি কোটি টাকা আয় করছে।

এটি অনলাইনে আয় করার বিরাট সম্ভাবনাময় একটি উপায় হয়ে দাড়িয়েছে। যদি আপনি সময় এবং শ্রম দিতে পারেন তাহলে আপনিও এডসেন্সের মাধ্যমে ভালো আয় করতে পারেন। 

এডসেন্স থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি

এডসেন্সের টাকা উত্তলন করা খুবই সহজ। আপনার এডসেন্স একাউন্টে যখন ১০ ডলার হবে তখন তারা আপনাকে একটি চিঠি পাঠাবে ঐ চিঠিতে একটি পিন থাকবে সেই পিন দিয়ে এডসেন্স একাউন্টকে ভেরিফাই করতে হবে।

এরপরে যখন ১০০ ডলার হয়ে যাবে তখন আপনি বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সাপোর্ট করে এমন কোন ব্যাংক একাউন্ট এডসেন্সের সাথে যুক্ত করে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তলন করতে পারবেন। 

এডসেন্সের চিঠি কিভাবে পাবেন?

যখন আপনার এডসেন্স একাউন্টে ১০ ডলার হয়ে যাবে তখন এডসেন্স একাউন্টে একটি অপশন আসবে verify your billing address। ঐ অপশনে ক্লিক করলে আপনার এডসেন্স একাউন্ট খোলার সময় যে ঠিকানা দিয়েছিলেন ঐ ঠিকানায় একটি চিঠি যাবে। চিঠিতে তেমন কিছু থাকবে না শুধু একটি কোড থাকবে ঐ কোড আপনি এডসেন্স একাউন্টে বসিয়ে ভেরিফাই করে নিবেন।

আপনাকে এডসেন্স একাউন্ট খোলার সময় আপনার ঠিকানা সঠিক ভাবে দিতে হবে না হয় চিঠি আসবে না৷ বিশেষ করে পোস্টাল কোডটি অবশ্যই সঠিক ভাবে দিবেন। 

শেষ কথা

অনেকের মতে এডসেন্স দিয়ে আয়কৃত টাকা ইসলামে বৈধ না। তাই যদি আপনি মুসলিম হন এবং এডসেন্স নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে এ বিষয়ে অবশ্যই রিসার্চ করে নিবেন। ইসলামে অবৈধ এমন ক্যাটাগরি বন্ধ করে তবেই ওয়েবসাইটে এড বসাবেন। আর ধৈর্য ধরে সততার সাথে কাজ করবেন অবশ্যই সফল হবেন। আমাদের পোস্টটি এতক্ষণ পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap