ব্ল্যাক হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও কি? বিস্তারিত জানুন

নিজের ব্লগ বা ই-কমার্স ওয়েবসাইটে অর্গানিক ওয়েতে ট্রাফিক নিয়ে আসার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি উপায় হলো এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।

আপনি শুধু মাত্র এসইও করেই সার্চ ইঞ্জিন থেকে লক্ষ কোটি ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন এবং এই ট্রাফিককে মনিটাইজেশন করে টাকায় কনভার্ট করতে পারবেন।

আমাদের ওয়েবসাইটে এসইও নিয়ে অনেক পোস্টই রয়েছে যেখানে আমরা বিস্তারিত ভাবে সব কিছু আলোচনা করেছি।

আজকে আমরা আলোচনা করব দুই প্রকার এসইও নিয়ে। ব্ল্যাক হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও Black Hat and White Hat SEO Bangla। 

যারা আমাদের এই পোস্ট আজকেই নতুন পড়ছে তাদের জন্য সংক্ষেপে বর্ণনা করি এসইও কি। 

ব্ল্যাক হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও কি?
ব্ল্যাক হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও কি?

এসইও কি? (What is SEO)

এসইও(SEO) এর পূর্ণরূপ হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন( search engine optimization)। যার মানে হলো সার্চ ইঞ্জিনের সকল শর্ত মেনে আপনার ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজড করা। এতে করে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইটকে রেংঙ্ক দিবে এবং আপনি ট্রাফিক পাবেন। সংক্ষেপে এটিই হলো এসইও। 

এখন চলুন জেনে আসি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি? (Black Hat SEO)

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগোল। গুগল তাদের কিছু টার্মস এন্ড কন্ডিশন দিয়েছে যেগুলো ফলো করে ওয়েবমাস্টাররা তাদের ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজড করলে ওয়েবসাইটের রেংঙ্কিং ইম্প্রুভ হবে।

মানে এসইও’র জন্য গুগলের কিছু নিয়ম আছে বা অনেকেই এগুলোকে অ্যালগোরিদম বা রেংঙ্কিং ফেক্টর ও বলে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কিছু ওয়েবসাইট এসব নিয়ম না মেনেই ফাঁকি দিয়েই রেংঙ্ক করে যায় গুগলে। এটিই হলো ব্ল্যাক হ্যাট এসইও।

মানে সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম না মেনে অবৈধ পন্থা অনুসরণ করে রেংঙ্ক করাকেই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বলে। ব্ল্যাক হ্যাট নামটি এসেছে পুরোনো একটি রাখালের মুভি থেকে যেখানে খারাপ লোকেরা কালো টুপি পরতো। খারাপ এসইও বুঝাতেই ব্ল্যাক হেইট এসইও বলা হয়েছে। 

এখন হয়তো আপনি ভাবছেন তাহলে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট রেংঙ্ক করিয়ে অনেক টাকা আয় করে ফেলবেন? 

তাহলে আপনার ধারণা ভুল কারণ ব্ল্যাক হ্যাট এসইও আপনাকে যে রেজাল্টটা দিবে সেটি হলো সাময়িক। কারণ সার্চ ইঞ্জিন আপনার চেয়েও বেশি চালাক আপনি যদি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে রেংঙ্ক করেন এখন তাহলে কিছু সময় পর সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারবে আপনি ব্ল্যাক হেইট এসইও করেছেন তখন সাথে সাথেই আপনার ওয়েবসাইটকে প্যানাল্টি দিয়ে দিবে তারপর আপনার হোয়াইট হেইট এসইও করেও রেংঙ্ক করা কষ্টকর হয়ে পরবে। 

তাহলে কেন আমরা আপনাদের ব্ল্যাক হ্যাট এসইও সম্পর্কে শিখাচ্ছি?

আসলে এসইও করতে গিয়ে জেনে কিংবা না জেনে আমরা অনেক ব্ল্যাক হ্যাট মেথড এপ্লাই করে ফেলি যেটার কারনে পরবর্তীতে আমাদের ভোগান্তিতে পরতে হয়। তাই যদি আপনার ব্ল্যাক হ্যাট টেকনিক গুলো জানা থাকে তাহলে আপনি সহজেই সেগুলোকে ইগনোর করতে পারবেন। 

আরও দেখতে পারেন: 

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক (Black Hat SEO Technique)

  • লিংকের জন্য কিছু অফার করাঃ- 

অনেক সময় দেখতে পায় অনেকেই ব্যাকলিংকের বিনিময়ে অনেক কিছু অফার করে। যেমন আমার ওয়েবসাইটের লিংক যদি আপনার ওয়েবসাইটে দেন তাহলে আমি আপনাকে এই সার্ভিসটি বিনামূল্যে দিব বা এই সার্ভিসে ডিসকাউন্ট দিব বা কুপন দিব।

এটা সার্চ ইঞ্জিন ভালো চোখে দেখে না সার্চ ইঞ্জিন সব সময় চায় অর্গানিক লিংক বিল্ডিং। যদি সার্চ ইঞ্জিন বুঝে আপনি এমন কিছু করেছেন তাহলে পেনাল্টি খাবেন আপনি। 

  • ব্যাকলিংক কেনাঃ

আগেই বলেছি সার্চ ইঞ্জিন সব সময়ই চান ন্যাচারাল লিংক বিল্ডিং আপনি যদি টাকার বিনিময়ে লিংক তৈরি করুন তাহলে সেটি অবশ্যই একটি ব্ল্যাক হ্যাট মেথডে গণ্য হবে।

এটা ভালো ব্যাকলিংক আপনার ওয়েবসাইটের রেংঙ্কিংকে অনেক অনেক বেশি ইম্প্রুভ করতে পারে রাতারাতি আপনার ওয়েবসাইটের অথোরিটিও অনেক বেড়ে যেতে পারে একটি কোয়ালিটি ব্যাকলিংকের মাধ্যমে। কিন্তু অবশ্যই সেটি ন্যাচারাল হতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন গুলোর নিজস্ব প্যার্টান আছে যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে কোনটি ন্যাচারাল লিংক কোনটি পেইড। 

  • Footer লিংক 

ফুটারের লিংকটি সবচেয়ে শুক্তিশালী লিংক কারন একটি ওয়েবসাইটের সব পেইজেই ফুটার থাকে তাহলে সব পেইজেই সেই লিংকটি থাকবে৷ তাই ফুটারে কোন কমার্শিয়াল এনকোর দিয়ে লিংক যুক্ত করাটা ব্ল্যাক হ্যাট মেথডে পরে। 

  • হিডেন লিংক 

আমরা অনেক সময় মনে করি অ্যানকোরের কালার পরিবর্তন করে দিলে সার্চ ইঞ্জিন বুঝবে না লিংকটি। এভাবে গোপনে ঘনঘন লিংক করে অনেকে অন্য লিংককে ট্রাফিক ড্রাইভ করে নিয়ে যায়৷ এটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ব্ল্যাক হেট একটি মেথড। শুধু কালারই নয় অনেকে সোর্স কোডে গোপনে লিংক যুক্ত করে রাখে। এসব কাজ করলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন থেকে সাময়িক রেংঙ্কিং লাভ করলেও একটা সময় পেনাল্টি খাবেন। 

  • কমেন্ট স্প্যাম 

অনেকেই অন্য ওয়েবসাইটের কমেন্ট বক্সে গিয়ে লিংক দেই৷ যদিও এটি কোন ভাবেই রেংঙ্কিংয়ে প্রভাব করে না কিন্তু অনেকে না বুঝেই করে এমনটা এবং সার্চ ইঞ্জিন এটিকে ব্ল্যাক হ্যাট ম্যাথড বিবেচনা করে কোন কমেন্টে রিলেভেন্সি ছাড়া লিংক যুক্ত করা৷ আপনার ওয়েবসাইটেও যদি কেউ এমনটা করে তাহলে আপনার উচিত সেই কমেন্ট গুলো রিমুভ করা। 

  • অতিরিক্ত লিংক যুক্ত করা

কন্টেন্টে অ্যানকোর দিয়ে লিংক যুক্ত করা অবশ্যই এাটি ভালো চর্চা কিন্তু যখন কেউ অতিরিক্ত লিংক যুক্ত করে তখন সার্চ ইঞ্জিন এটাকে খারাপ ভাবে দেখে এবং রেংঙ্ক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই অতিরিক্ত লিংক যুক্ত করাও একটি ব্ল্যাক হ্যাট ম্যাথড এটিকে এড়িয়ে চলতে হবে।

  • পিবিএন

আমরা যারা লিংক বিল্ডিং নিয়ে একটু হলেও পড়াশোনা করেছি তারা সবাই কমবেশি পিবিএন সম্পর্কে জানি। পিবিএন(PBN) এর পূর্ণরূপ হলো পার্সোনাল ব্লগ নেটওয়ার্ক (Personal Blog network)।

অর্থাৎ আমরা যখন আমাদের নিজেদের ওয়েবসাইট থেকেই নিজেদের লিংক দিই সেটিই মূলত পিবিএন লিংক বিল্ডিং। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ একটি মেথড কেউ যদি এই মেথড ফলো করে এবং সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে সেটি তাহলে তাররেংঙ্কিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

আমরা এতক্ষণ জানলাম লিংক বিল্ডিং এর ব্ল্যাক হেইড ম্যাথড গুলো। আমাদের লিংক বিল্ডিং এর সময় এসব বিষয় মাথায় রেখে যতটা সম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। এবার আমরা কন্টেন্টের ব্ল্যাক হেইড ম্যাথড গুলো নিয়ে আলোচনা করব। 

কন্টেন্ট ব্ল্যাক হেইড টেকনিক 

  • কি-ওয়ার্ড স্টাফিং

এই বিষয়টার সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত আমরা। বিশেষ করে নতুনরা এ কাজ বেশি করে। কন্টেন্টের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টার্গেটেড কি-ওয়ার্ড বসানোকেই কি-ওয়ার্ড স্টাফিং বলে। আমাদের কন্টেন্ট রাখতে হবে একদম ন্যাচারাল এবং কি-ওয়ার্ড ও থাকতে হবে ন্যাচারালি। যদি জোর পূর্বক কি-ওয়ার্ড প্লেস করা হয় তাহলে কি-ওয়ার্ড স্টাফিং হবে। 

  • হিডেন কন্টেন্ট

হিডেন লিংকের মতো হিডেন কন্টেন্টও আছে। যেমন অনেকেই ইচ্ছে করে কি-ওয়ার্ড বসিয়ে কন্টেন্টে তারপরে লিখার কালার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড কালার এক করে দেয়। তারা ভাবে এমনটা করে দিলে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে না তবে সার্চ ইঞ্জিন ঠিকই তা ধরতে পারে এবং সেসব কন্টেন্ট কে কখনোই রেংঙ্ক করাই না। 

  • আর্টিকেল স্পিনিং

কি? এবাবের টপিকটা খুব চেনা চেনা লাগছে? ব্লগিং ফিল্ডে নতুনরা প্রায়ই সবাই এই কাজটি করে আমিও করেছিলাম। আর্টিকেল স্পিনিং হলো কোন স্পিনিং টুল এর মাধ্যমে অন্য কারো আর্টিকেলকে স্পিন করে ইউনিক করে নিজের সাইটে পোস্ট করা।

কিন্তু সার্চ ইঞ্জিনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা স্পিন করা আর্টিকেল সহজেই ধরতে পারে এখন৷ এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে স্পিন আর্টিকেল মোটেও ভালো জিনিস না তাই তারা এসব আর্টিকেলকে রেংঙ্ক করায় না। যদি আপনি স্পিন আর্টিকেল ব্যবহার করে রেংকিংয়ের চিন্তা করেন তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। 

  • কপি কন্টেন্ট 

কপি করা এমনিতেও অন্যায় এবং অনুমতি ছাড়া কারো ওয়েবসাইট থেকে পোস্ট বা ছবি কপি করে যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করেন সেটাও অন্যায়। সার্চ ইঞ্জিনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি খুব সহজে কপি কন্টেন্ট গুলো ধরতে পারে এবং সাম্প্রতিক সময়ে কপি কন্টেন্টতো গুগলে ইনডেক্সই হচ্ছে না রেংঙ্ক হওয়া দূরের কথা৷ 

  • কি-ওয়ার্ড স্টাফিং ইন Alt ট্যাগ

কি-ওয়ার্ড স্টাফিং সম্পর্কে তো জানলেন কিন্তু কি-ওয়ার্ড স্টাফিং কি শুধু আর্টিকেলেই হয়? না অনেক সময় যারা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে তারা ছবির Alt ট্যাগে কি-ওয়ার্ড স্টাফিং করেন। এক্ষেত্রে তারা মূলত ছবি গুলোকে সার্চ ইঞ্জিনে রেংঙ্ক করাতে চায়। এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ একটি পন্থা। 

এগুলোই হলো মূলত ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর প্রধান বিষয় গুলো এসব বিষয় গুলোকে সবারই এড়িয়ে চলা উচিত৷ এখন আমরা কথা বলব হোয়াইট হ্যাট এসইও নিয়ে। 

আরও দেখতে পারেন: 

হোয়াইট হ্যাট এসইও কি? (White Hat SEO)

হোয়াইট হ্যাট মানে ভালোই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যে এসইও সার্চ ইঞ্জিনের সকল টার্মস এবং কন্ডিশন মেনে করা হয়েছে তাকে হোয়াইট হ্যাট এসইও বলে।

হোয়াইট হ্যাট এসইও আপনাকে দীর্ঘ সময় এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকিয়ে রাখবে এবং ভালো রেজাল্ট দিবে যেখানে ব্ল্যাক হেইট এসইও সাময়িক প্রফিট দিলেও দীর্ঘদিনের ক্ষতি নিয়ে আসে।

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে হোয়াইট হ্যাট এসইও কিভাবে করে? চলুন হোয়াইট হেইট এসইও’র একটা গাইডলাইন আপনাদের শেয়ার করি।

হোয়াইট হ্যাট এসইও গাইডলাইন (White Hat SEO Guideline)

  • কি-ওয়ার্ড রিসার্চ 

এসইও’র সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে কি-ওয়ার্ড রিসার্চ। আপনি কোন টপিকে আর্টিকেল লিখবেন কোন কি-ওয়ার্ডকে বেস করে লিখবেন সেটি আপনাকে রিসার্চ করতে হবে।

আপনি চাইলেি যেকোন একটি কি-ওয়ার্ড ধরে লিখা শুরু করে দিতে পারবেন না কারন কিছু কিছু কি-ওয়ার্ডে অনেক বেশি কম্পিটিশন থাকে যেগুলো নিয়ে কাজ করা বোকামি আবার লো কম্পিটিশন কিন্তু একদম ০ সার্চ ভলিউম মানে যে কি-ওয়ার্ডটি কেউ সার্চই করে না সেই কি-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করাও বোকামি।

তাহলে এমন কি-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে হবে যেটিতে কম্পিটিশন কম এবং মোটামুটি সার্চ ভলিউম আছে। প্রথমে কম সার্চ ভলিউম কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা ভালো। 

কিভাবে কি-ওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম দেখব?

বিভিন্ন টুলস আছে যেমনঃ- গুগল কি-ওয়ার্ড প্লেনার, Aherf, Ubersuggest ইত্যাদি।

কিভাবে কম্পিটিশন বুঝবেন?

টুলস গুলো দিয়ে কম্পিটিশন বোঝা যায় তবে আপনাকে মেনুয়ালি দেখতে হবে রেংঙ্ককরা ওয়েবসাইট গুলোর সাথে আপনি কম্পিটিশন করতে পারবেন নাকি তাদের চেয়ে ভালো কন্টেন্ট দিতে পারবেন নাকি তবেই সেই কি-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ শুরু করবেন।

  • কন্টেন্ট রাইটিং 

কি-ওয়ার্ড রিসার্চের পর আপনাকে সেই কি-ওয়ার্ডের উপর বেসড করে আর্টিকেল লিখতে হবে। আর্টিকেল লেখার সময় আপনাকে এমন করে লিখতে হবে যেনো কোন ইউজার যে কারনে আপনার আর্টিকেলটি পড়তে এসেছে বা যে বিষয়টি জানতে আপনার আর্টিকেলটি পড়তে এসেছে সেই বিষয় যেনো পুরোপুরি জানতে পারে। যেটাকে বলে ইউজার ইন্টেন্ট ফুলফিল করা।

আর্টিকেলের ভাষা হতে হবে সহজ সরল এবং সাবলীল ভাষা যেনো মানুষ পড়তে পড়তে বিরক্ত না হয়। এভাবে সবকিছু মাথায় রেখে আপনাকে আপনার কম্পিটিটরসদের চেয়েও বেস্ট আর্টিকেলটি লিখতে হবে। মনে রাখবেন কন্টেন্টের উপর অনেক অনেক কিছু ডিপেন্ড করে।

  • অন-পেজ এসইও

অনপেজ এসইও নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে একটি বিস্তারিত পোস্ট আছে সেটি পড়লে এ বিষয়ে ভালো ধারণা পাবেন ।তাও এখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি। 

  1. ইউআরএল স্ট্রাকচার ছোট রাখবেন এবং চেষ্টা করবেন ফোকাস কি-ওয়ার্ডটি সেখানে রাখতে।
  2. টাইটের সঠিক ভাবে অপটিমাইজড করবেন ন্যাচারালি ফোকাস কি-ওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করবেন। 
  3. পুরো আর্টিকেলে ফোকাস কি-ওয়ার্ডের পাশাপাশি রিলেটেড কি-ওয়ার্ড গুলোও রাখাবেন। 
  4. পোস্টে উপযুক্ত হেডিং ব্যবহার করবেন এবং হেডিংয়ে কি-ওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করবেন।
  5. যতটুকু প্রয়োজন রিলেভেন্ট ইন্টারনাল লিংক দিবেন সঠিক এনকোরের সাহায্যে। অতিরিক্ত না। 
  6. সঠিক Alt টেক্সটের সাথে ছবি যুক্ত করবেন।
  • লিংক বিল্ডিং 

নিজে নিজে লিংক বিল্ডিং করা সম্পূর্ণ অবৈধ তাই আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যার কারনে অন্য ওয়েবসাইট গুলো আপনাকে লিংক দিবে। তার জন্য সবচেয়ে সেরা উপায় হলো কোন রিসার্চ বা স্টাডি করে সেই রিসার্চের রিপোর্ট পোস্টে শেয়ার করা যার ফলে যখন অন্য কোন ওয়েবসাইট আপনার এই রিসোর্সটি শেয়ার করবে অবশ্যই আপনাকে ক্রেডিট দিবে তখন আপনি লিংক পেয়ে যাবেন। যদিও বিষয়টি অনেক সময় এবং খরচ সাপেক্ষ। আপনি চাইলে নিজে একটি ইনফোগ্রাফি তৈরী করতে পারেন কোন বিষয়ের উপর আবার গেস্ট পোস্টিংও লিংক বিল্ডিংয়ের জন্য ভালো কাজ দেবে। এ নিয়ে আমাদের বিস্তারিত পোস্ট আছে সেটি পড়লে আরো ধারণা হবে।

  • স্পিড অপটিমাইজেশন 

স্পিড অপটিমাইজেশন যেমন এসইও’র জন্য প্রয়োজন তেমনি দরকার ইউজারকে আপনার ওয়েবসাইটে এনগেজড রাখার জন্য। ওয়েবসাইট দেরিতে লোড হওয়া খুবই বিরক্তিকর একটি বিষয়। তাই যদি লোডিং স্পিড না থাকে তাহলে আপনার ওয়েবসাইট রেংঙ্ক করানো অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড অপটিমাইজেশনের জন্য নিম্নোক্ত টিপস গুলো ফলো করুন।

  1. ভালো হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে হোস্টিং কিনুন।
  2. যদি ট্রাফিক বাড়ে হোস্টিংয়ের স্টোরেজও বাড়ান। 
  3. সাইটে প্রয়োজনের বেশি প্লাগইন রাখবেন না। 
  4. হালকা এবং নরমাল ডিজাইনের থিম ব্যবহার করবেন। 
  5.  পোস্টে ব্যবহার করা ছবি গুলো কম্প্রেস করে কম স্টোরেজের করে তবে ব্যবহার করুন। 
  • সাইটম্যাপ সাবমিশনঃ-

আপনি সব কিছু করলেন কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন কিছুই দেখল না তাহলে কোন লাভ হবে? সার্চ ইঞ্জিন যেনো আপনার সব কিছু দেখতে পায় তার জন্যে আপনাকে সাইটম্যাপ সাবমিট করতে হবে। তারপর আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হবে। 

এগুলোই হলো হোয়াইট হ্যাট এসইও’র বেসিক গাইডলাইন যদি এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে সাইটে অন পেজ এসইও, অফ পেজ এসইও, টেকনিক্যাল এসইও এবং ব্যাকলিংক নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট আছে দেখে আসতে পারেন।

আমরা এই পোস্টে আপনাদের ব্ল্যাক হ্যাট এসইও নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং কিভাবে ব্ল্যাক হেইট এসইও থেকে বেঁচে থাকবেন তা বলেছি৷ কেউ নিজেরা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও চেষ্টা করবেন না এটিতে ক্ষতি আপনারই৷ 

শেষ কথা,

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও নিয়ে আপনাদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এই পোস্টে। জানি না কতটুকু পেরেছি তবে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ দেওয়ার। ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ এতক্ষণ ধরে পোস্টটি পড়ার জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

close button
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap